“সবাই সফল হতে চায়—কিন্তু সফলতার জন্য যে একাকীত্ব লাগে, সেটা কয়জন নিতে পারে?”
আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।
আজকাল প্রায় সবাই সফল হতে চায়। কেউ বড় চাকরি চায়, কেউ ব্যবসায় নাম করতে চায়, কেউ চায় সমাজে পরিচিতি, সম্মান, টাকা-পয়সা—সবকিছু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুললেই সফল মানুষের গল্প, মোটিভেশনাল ভিডিও, বড় বড় অর্জনের ছবি চোখে পড়ে। সবাই সফলতার শেষ দৃশ্যটা দেখতে পছন্দ করে। কিন্তু একটা প্রশ্ন খুব কম মানুষই নিজেকে করে—সফলতার জন্য যে একাকীত্ব, ত্যাগ আর নীরব যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, সেটা কি আমি নিতে পারবো?কারণ সত্যিটা হলো—সফলতা যতটা সুন্দর দেখায়, তার পেছনের গল্পটা ততটাই কঠিন। মানুষ ফলাফল দেখে, কিন্তু প্রক্রিয়াটা দেখে না। সবাই আলো দেখে, কিন্তু সেই আলোয় পৌঁছানোর আগে কতটা অন্ধকার ছিল, সেটা বোঝে না।একটা মানুষ যখন নিজের স্বপ্নের জন্য সিরিয়াস হয়ে যায়, তখন তার জীবনটা বদলে যেতে শুরু করে। আগে যে মানুষটা আড্ডায় সময় দিত, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতো, হুটহাট বেরিয়ে যেত—একসময় সেই মানুষটাকে নিজের সময় বাঁচাতে হয়। কারণ একটা কঠিন বাস্তবতা হলো—একসঙ্গে সবকিছু পাওয়া যায় না। কিছু পেতে হলে কিছু ছাড়তে হয়।আর এই জায়গাটাতেই আসে একাকীত্ব।
সফল হওয়ার পথটা অনেক সময় ভীষণ একা। কারণ যখন আপনি নিজের লক্ষ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন, তখন অনেকেই আপনাকে “বদলে গেছো” বলবে। আগে যেমন সময় দিতেন, এখন পারবেন না। আগে সব জায়গায় থাকতেন, এখন হয়তো নিজেকে গুটিয়ে নিতে হবে। তখন অনেক সম্পর্ক দূরে সরে যায়। কেউ বুঝবে, কেউ ভুল বুঝবে, কেউ বলবে—“তোর তো এখন সময়ই নেই।” অথচ সত্যিটা হয়তো হলো—আপনি নিজের ভবিষ্যতের জন্য লড়ছেন।
সবচেয়ে কঠিন ব্যাপার হলো, সফলতার পথে হাঁটতে গেলে অনেক সময় আপনাকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যেটা অন্যরা বুঝবে না। বন্ধুরা যখন ঘুরতে যাবে, তখন হয়তো আপনাকে কাজ করতে হবে। সবাই যখন ঘুমাবে, তখন হয়তো আপনি রাত জেগে নিজের স্বপ্নের জন্য কাজ করবেন। সবাই যখন মজা করবে, তখন আপনি নিজের দুর্বলতা নিয়ে যুদ্ধ করবেন। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে আপনি জীবন উপভোগ করছেন না, কিন্তু বাস্তবে আপনি নিজের ভবিষ্যৎ গড়ছেন।এই যাত্রায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয় হয়তো একাকীত্বটা। কারণ সব যুদ্ধ সবার সঙ্গে লড়া যায় না। কিছু যুদ্ধ একা লড়তে হয়। এমন অনেক রাত আসে, যখন মনে হয়—“এত কষ্ট করে কি লাভ?”, “আমি পারবো তো?”, “সবাই এগিয়ে যাচ্ছে, আমি কি পিছিয়ে যাচ্ছি?” কিন্তু এই প্রশ্নগুলোর উত্তরও অনেক সময় নিজেকেই খুঁজে নিতে হয়।আরেকটা তিক্ত সত্য হলো—আপনি যখন সংগ্রাম করবেন, তখন সবাই পাশে থাকবে না। মানুষ সাধারণত সফলতার গল্পের পাশে দাঁড়াতে ভালোবাসে, সংগ্রামের গল্পের পাশে না। যখন আপনার কিছু থাকবে না, তখন হয়তো খুব কম মানুষ খোঁজ নেবে। কিন্তু যেদিন আপনি সফল হবেন, সেদিন অনেকে এসে বলবে—“আমি জানতাম তুই পারবি।” অথচ সেই কঠিন সময়ের নীরব কান্না, ভয়, হতাশা—সেগুলো কেউ দেখেনি।আমাদের সমাজে একটা অদ্ভুত চাপও আছে। সবাই চায় দ্রুত সফল হতে। ২০–২৫ বছর বয়সেই অনেকেই নিজের জীবনকে অন্যদের সঙ্গে তুলনা শুরু করে। “ও চাকরি পেল, আমি পেলাম না”, “ওর গাড়ি আছে, আমার নেই”, “ও এত এগিয়ে গেল”—এই তুলনাগুলো মানুষকে ভেতর থেকে ভেঙে দেয়। কিন্তু আমরা ভুলে যাই—প্রত্যেকের সময় আলাদা। কারও পথ ছোট, কারও পথ দীর্ঘ। সবার যুদ্ধ একরকম না।সফলতার আরেকটা কঠিন দিক হলো—এটা অনেক সময় আপনাকে ভুল বোঝাবুঝির মধ্যে ফেলে দেয়। মানুষ ভাবে আপনি অহংকারী হয়ে গেছেন, ব্যস্ত হয়ে গেছেন, সম্পর্ক ভুলে গেছেন। কিন্তু অনেক সময় সত্যিটা শুধু এই—আপনি নিজের জীবন নিয়ে একটু বেশি সিরিয়াস হয়ে গেছেন। আর সবাই সেই পরিবর্তনটা বুঝতে পারে না।তবে একটা বিষয় পরিষ্কার—একাকীত্ব মানেই খারাপ কিছু না। কখনো কখনো একা সময়টাই মানুষকে সবচেয়ে বেশি শক্ত করে। নিজের সঙ্গে সময় কাটানো, নিজের ভয়গুলোকে বোঝা, নিজের সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হওয়া—এসবই মানুষকে ভেতর থেকে তৈরি করে। কারণ দিনের শেষে, আপনার স্বপ্নের জন্য লড়াইটা আপনাকেই করতে হবে।কিন্তু এটাও সত্য—সবাই এই একাকীত্ব নিতে পারে না। অনেকেই মাঝপথে হাল ছেড়ে দেয়, কারণ একা লাগতে শুরু করে। সবাই যখন আনন্দ করছে, আর আপনি নিজের লক্ষ্য নিয়ে ব্যস্ত—তখন নিজেকে আলাদা লাগে। মনে হয় জীবনটা খুব কঠিন হয়ে গেছে। কিন্তু এখানেই পার্থক্য তৈরি হয়—কে সাময়িক আরাম বেছে নেয়, আর কে দীর্ঘমেয়াদি স্বপ্নের জন্য লড়াই চালিয়ে যায়।একটা কঠিন সত্য মনে রাখা দরকার—সফলতার দাম আছে। আর সেই দামের বড় একটা অংশ হলো সময়, ত্যাগ আর একাকীত্ব। সবাই সফলতার ফল চায়, কিন্তু সেই ফল পেতে যে নীরব সংগ্রাম লাগে, সেটা নিতে সবাই রাজি না।
তবে একটা জিনিস কখনো ভুলবেন না—একাকীত্ব মানে আপনি হারিয়ে যাচ্ছেন না। অনেক সময় এটা শুধু একটা প্রক্রিয়া। একটা সময় আসে, যখন আপনি পেছনে তাকিয়ে বুঝতে পারেন—যে রাতগুলোতে নিজেকে একা মনে হয়েছিল, সেগুলোই আসলে আপনাকে তৈরি করছিল।
দিন শেষে হয়তো সবচেয়ে বড় সত্যিটা এটাই—সবাই সফল হতে চায়, কিন্তু সফলতার জন্য যে একাকীত্ব লাগে, সেটা খুব কম মানুষই নিতে পারে। কারণ স্বপ্নের পথে হাঁটা সহজ না। অনেক সময় সেখানে করতালির চেয়ে নীরবতা বেশি থাকে। কিন্তু যারা সেই নীরবতাকে সঙ্গী বানাতে পারে, একদিন তারাই হয়তো নিজের গল্পটা বদলে ফেলে।
সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness

OR


