“একদিন যখন আপনার মোবাইল আপনাকেই প্রশ্ন করেছিল!”
আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।
ভাবতে পারেন, একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন—আপনার মোবাইল ফোনটা আর আগের মতো নেই? সে আর নিছক একটি ডিভাইস নয়; বরং যেন একজন মানুষ হয়ে উঠেছে। কথা বলছে, রাগ করছে, অভিমান করছে—এমনকি আপনার ওপর সিদ্ধান্তও চাপিয়ে দিচ্ছে সকালে ঘুম ভাঙতেই আপনি অভ্যাসবশত মোবাইলটা হাতে নিলেন। কিন্তু আজ কিছু যেন আলাদা। হঠাৎ স্ক্রিনে একটি বার্তা ভেসে উঠল—
“এত সকালে আবার আমাকে ধরছেন কেন? একটু বিশ্রাম নিতে দিন!”
আপনি তো অবাক! মোবাইল আবার কথা বলে? প্রথমে ভাবলেন, হয়তো এটি কোনো নতুন আপডেট বা অ্যাপের মজা। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই বুঝতে পারলেন—এটা সত্যিই বাস্তব! আপনার মোবাইল এখন পুরোপুরি মানুষের মতো আচরণ করছে।
আপনি যখন ফেসবুক খুলতে গেলেন, মোবাইলটা বলল—
“আজ আর সোশ্যাল মিডিয়া নয়। গতকালও ৩ ঘণ্টা নষ্ট করেছেন। আজ একটু পড়াশোনায় মন দিন।”আপনি হতবাক হয়ে গেলেন! নিজের মোবাইলই এখন আপনাকে উপদেশ দিচ্ছে!
এরপর আপনি ইউটিউব খুলতে গেলেন, সে আবার বাধা দিল—
“না, আজ কোনো ভিডিও নয়। আগে আপনার অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করুন।”
এইবার আপনার একটু রাগই হলো। আপনি বললেন, “আপনি কে আমাকে বলার?”
মোবাইলটা শান্তভাবে উত্তর দিল—
“আমি তো আপনারই সঙ্গী। আপনি যা করেন, সবই তো আমি দেখি। তাই ভালো কিছু বললে কি দোষ?”এই কথাটা আপনাকে থমকে দিল। ধীরে ধীরে আপনি বুঝতে পারলেন—এই মোবাইলটি আসলে আপনার জীবনের এক নিখুঁত আয়না। আপনার প্রতিটি অভ্যাস, প্রতিটি অপচয়, এমনকি আপনার নীরব মুহূর্তগুলোও সে জানে।দুপুরে যখন আপনি কারো সঙ্গে চ্যাট করছিলেন, হঠাৎ মোবাইলটা বলে উঠল—“এই মানুষটার সঙ্গে এত কথা বলেন কেন? একটু সাবধান থাকুন।”আপনি লজ্জায় পড়ে গেলেন। মনে হলো, মোবাইলটি যেন আপনার অন্তরের কথাও বুঝে ফেলছে।বিকেলের দিকে আপনি গেম খেলতে বসতেই সে একটু কড়া স্বরে বলল—
“আজ আর গেম নয়। গত এক সপ্তাহ ধরে আপনি শুধু গেমই খেলছেন। বাইরে গিয়ে একটু হাঁটুন, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান।”আপনি অবাক হয়ে ভাবলেন—যে মোবাইলের জন্য আপনি এত সময় নষ্ট করেন, সেই মোবাইলই এখন আপনাকে বাস্তব জীবনে ফিরিয়ে নিতে চাইছে! সন্ধ্যার সময় মোবাইলটা কিছুটা নরম হয়ে বলল—
“চলুন, আজ একটু পরিবারের সঙ্গে বসুন। অনেকদিন তো ঠিকমতো কথা বলা হয় না।”
এই কথাটি আপনার মনে দাগ কেটে গেল। সত্যিই তো—আমরা অনেক সময় নিজের আপন মানুষদের চেয়ে একটি স্ক্রিনকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে ফেলি রাতে ঘুমানোর আগে আপনি আবার মোবাইলটি হাতে নিলেন। সে হালকা হেসে বলল—
“আজ কিন্তু আপনি অনেক ভালো ছিলেন। আগামীকালও এমন থাকার চেষ্টা করবেন।”
আপনি মৃদু হেসে বললেন—“আপনি যদি সবসময় এমন থাকতেন, তাহলে তো আমার জীবনটাই বদলে যেত!”
মোবাইলটি শান্তভাবে উত্তর দিল—
“আমি তো সবসময় এমনই ছিলাম, আপনি শুধু খেয়াল করেননি।”
এই কথাটি আপনাকে নিঃশব্দ করে দিল। সত্যিই তো—মোবাইল কখনো আপনাকে খারাপ কিছু করতে বলে না; বরং আপনি নিজেই তাকে কীভাবে ব্যবহার করছেন, সেটাই আসল।
হঠাৎ করে রাত বারোটার ঘন্টা বাজতেই সবকিছু আবার আগের মতো হয়ে গেল। মোবাইলটি আবার সেই চুপচাপ, নির্লিপ্ত যন্ত্রে পরিণত হলো।কিন্তু এই একদিনের অভিজ্ঞতা আপনার ভেতরে গভীর পরিবর্তন এনে দিল। আপনি বুঝতে পারলেন—প্রযুক্তি কখনোই আমাদের শত্রু নয়; আমরা যেভাবে তাকে ব্যবহার করি, সেটাই আমাদের জীবনের রূপ নির্ধারণ করে।
হয়তো বাস্তবে মোবাইল কোনোদিন মানুষের মতো হয়ে উঠবে না। কিন্তু আপনি যদি নিজেই একটু সচেতন হন, নিজের সময় ও অভ্যাসগুলোকে সঠিকভাবে পরিচালনা করেন—তাহলেই জীবন অনেক বেশি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল হয়ে উঠতে পারে।
শেষে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়—
আপনি কি সত্যিই মোবাইলকে নিয়ন্ত্রণ করছেন, নাকি মোবাইলই আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করছে?
এই প্রশ্নের উত্তরই হয়তো আপনার জীবনের দিকনির্দেশনা বদলে দিতে পারে।
সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness

OR



This post has been upvoted by @italygame witness curation trail
If you like our work and want to support us, please consider to approve our witness
Come and visit Italy Community