আহা প্রাণ!
অর্থাৎ, এমন একটা অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে যে আমাদের দেশে যদি আমরা একটু ভালো থাকতে চাই, মুহূর্তের মধ্যেই দেখবেন, আপনি যদি নিজের ঘরের মধ্যে বসে থাকেন, তাও কোথা থেকে যে আপনি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে যাবেন, সেটা আসলে আপনি নিজেও টের পাবেন না। অর্থাৎ প্রতিটি প্রাণ যেন এতটাই নগণ্য, যে আপনি থাকেন বা না থাকেন, সেটা নিয়ে আসলে পৃথিবীর কোন দায়ভার নেই, কিংবা পৃথিবীর অর্থাৎ আমাদের দেশের কোন যায় আসে না। আমার কাছে কেন যেন মনে হয়, পৃথিবীর আর কোন দেশে এমন অব্যবস্থাপনা নেই। বিশেষ করে দেখুন, আপনারা ক্যালিফোর্নিয়ার অবস্থা, সেখানে এত এত আগুন ধরে, কিন্তু কোন মানুষ কিন্তু তেমন একটা কথা হতে ঘটনা পাওয়া যায় না। কিন্তু আমাদের দেশের অবস্থা দেখেন, যেখানে আগুন লাগুক না কেন, যেখানেই দুর্ঘটনা হোক না কেন, সবচেয়ে বেশি যে ক্ষয়ক্ষতিটা হয়, সেটা হলো মানুষের প্রাণের।
এই বিষয়গুলো আসলে আমাকে দিনের পর দিন কেমন একটা ট্রমাটাইজ করে দিচ্ছে। কারণ এই যে আমাদের পরিবারের মানুষগুলো, বিশেষ করে আমাদের ঘরের ছোট ছোট সন্তানগুলো, যাদেরকে আমরা আগুনের আচের পাশে যেতে দিই না, যাদেরকে দুটো ভাত খাইয়ে দিই, ভাতে আগে ফু দিয়ে যেন মুখ পুড়ে না যায় গরমে কিংবা একটু গরম না লাগে, সেই সন্তানদেরকে যখন পিতা-মাতা দেখে যে আগুনে দাউ দাউ করে জ্বলে শরীরের সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ছাই হয়ে যাচ্ছে, তখন ব্যাপারগুলো সত্যিই খুব অবাক লাগে, খুব বেশি কষ্টকর মনে হয়। আসলে এই সুখ, এই প্রাণের মায়া কখনোই আমরা ভুলতে পারবো না, আর আমাদের দেশ কখনোই তার পরোয়া করবে না।

