আরোহী: একটি অসমাপ্ত উপাখ্যান
#bangla #story #fiction #romance #writing
শহরের ব্যস্ত রাস্তার এক কোণে যখন নিওন আলোগুলো জ্বলে ওঠে, ঠিক তখনই যেন এক সমান্তরাল মহাবিশ্বের জন্ম হয়। আরোহী, ৪৫ বছর বয়সী এক অনিন্দ্যসুন্দরী বিলিয়নিয়ার। তার চোখের ইশারায় কর্পোরেট দুনিয়া থমকে দাঁড়ায়। কিন্তু এই ঐশ্বর্যের অরণ্যে আরোহী ছিল ভীষণ একা। তার জীবনের সেই শূন্যস্থানটি পূরণ করতে হঠাৎ একদিন এল আদি। ২৪ বছরের এক তরুণ, যে নিজের স্বপ্ন পূরণের লড়াইয়ে একটি কল সেন্টারের নাইট শিফটে কাজ করে।
আরোহী আর আদির পরিচয় কোনো রোমান্টিক ডিনারে হয়নি, হয়েছিল একটা যান্ত্রিক গোলযোগে। কিন্তু প্রথম দেখাতেই আরোহী আদির সরলতা আর চোখের সেই অদ্ভুত মায়ার প্রেমে পড়ে যায়। আরোহী জানত আদি বয়সে তার চেয়ে প্রায় অর্ধেক, জানত সমাজের চোখে তাদের এই সম্পর্ক 'বেমানান'। কিন্তু হৃদয়ের টান কি আর যুক্তি মানে?
আরোহী বারবার আদিকে প্রেমের প্রস্তাব দিত। দামী উপহার, বিলাসবহুল গাড়ি কিংবা বড় কোনো সুযোগ—সবই ছিল হাতের নাগালে। কিন্তু আদি নিজেকে গুটিয়ে রাখত। সে জানত আরোহী কে, তার ক্ষমতার পরিধি কতটুকু। সে ভাবত, একজন বিলিয়নিয়ার মহিলার সাথে সাধারণ এক কল সেন্টার কর্মীর প্রেম কেবল রূপকথায় সম্ভব।
একদিন আরোহী আদিকে সরাসরি তার অফিসে ডেকে পাঠাল। আভিজাত্যের গাম্ভীর্য ছাপিয়ে আরোহী প্রশ্ন করল, "আদি, তোমার ভয়টা কিসের? সমাজের, নাকি আমার ঐশ্বর্যের?" আদি মাথা নিচু করে বলল, "আমাদের বয়সের ব্যবধানটা অনেক বড় আরোহী ম্যাডাম। পৃথিবী এটাকে মেনে নেবে না।" আরোহী আদির খুব কাছে এসে দাঁড়াল। তার দামী পারফিউমের সুবাসে আদির দম বন্ধ হয়ে আসার জোগাড়। আরোহী ধীর গলায় বলল, "ভালোবাসার কোনো বয়স হয় না আদি। আমি তোমাকে চাই, তোমার ওই সাধারণ জীবনটা সমেত।"
আদি আর অস্বীকার করতে পারল না। শুরু হলো তাদের লিভ-ইন রিলেশন। সমাজের চোখরাঙানিকে তুড়ি মেরে আরোহী তার রাজপ্রাসাদ ছেড়ে মাঝেমধ্যে আদির সাথে সাধারণ হোটেলে রাত কাটাতে শুরু করল। আভিজাত্য আর সাধারণ জীবনের এক অদ্ভুত মিলন ঘটল তাদের ভালোবাসায়।
তেমনই এক ঝোড়ো বৃষ্টির রাত। কলকাতার একটি অভিজাত হোটেলের প্রেসিডেন্সিয়াল সুইট। কাঁচের দেয়ালের ওপাশে অঝোর ধারায় বৃষ্টি আর নিচে ব্যস্ত শহরের ছোট হয়ে আসা আলোগুলি। ৪৫ বছর বয়সী আরোহী গ্লাসে হালকা চুমুক দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পরনে দামী সিল্কের গাউন, চোখে এক অদ্ভুত তৃষ্ণা। ২৪ বছরের আদি সোফায় বসে অস্বস্তিতে নিজের আঙুল মটকাচ্ছে।
আরোহী: (শান্ত গলায়) আদি, তুমি কি জানো তোমার এই অস্বস্তিটাই আমাকে তোমার প্রতি আরও বেশি পাগল করে তোলে?
আদি: (মাথা নিচু করে) আপনি বুঝছেন না ম্যাডাম, আপনার এই সাম্রাজ্য, আপনার এই ব্যক্তিত্ব... আমি এগুলোর পাশে ভীষণ বেমানান। আমি একটা সাধারণ কল সেন্টারে চাকরি করি, আর আপনি—
আরোহী: (দ্রুত পায়ে এগিয়ে এসে আদির সামনে দাঁড়াল) আর আমি একজন একা মহিলা, যার ১০০ বিলিয়ন ডলারের ব্যাংক ব্যালেন্স আছে কিন্তু রাতে কথা বলার মতো একটা মানুষ নেই। তুমি কি আমাকে 'ম্যাডাম' বলাটা বন্ধ করবে আদি?
আদি: আমি চেষ্টা করি। কিন্তু যখনই আপনার চোখের দিকে তাকাই, মনে হয় আমি কোনো আগুনের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। এই অসম প্রেম সমাজ কোনোদিন মেনে নেবে না আরোহী। আমার বয়স আর আপনার অভিজ্ঞতা—মাঝখানে একটা পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে।
আরোহী: (আদির চিবুক ছুঁয়ে মুখটা ওপরে তুলল) পাহাড়টা কি আমি তৈরি করেছি? নাকি তোমার ভয়? আমি তোমাকে তিনবার বলেছি যে আমি তোমাকে ভালোবাসি। আজ চতুর্থবার বলছি—আমি তোমাকে আমার জীবনের অংশ করতে চাই আদি। লিভ-ইন, বিয়ে, বা স্রেফ একসাথে থাকা—নাম তুমি যা দেবে, আমি তাই মেনে নেব।
আদি: (চোখে জল চিকচিক করে উঠল) আপনি কেন বুঝছেন না? আমি আপনাকে হারাতে চাই না। এই অসম সম্পর্কের পরিণতি খুব খারাপ হয়।
আরোহী: (আদিকে জাপটে ধরে বুকে টেনে নিল) খারাপ হলে হবে। অন্তত একটা রাত তো আমরা আমাদের মতো করে কাটাতে পারি? এই হোটেলের ঘরে আজ কোনো বিলিয়নিয়ার নেই, কোনো কল সেন্টার কর্মী নেই। আজ শুধু আরোহী আর আদি আছে।
আদি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। আরোহীর সুবাস আর তার দৃঢ় আলিঙ্গন আদির সব যুক্তি ধুলোয় মিশিয়ে দিল। সে আরোহীর কোমর জড়িয়ে ধরে কাঁধে মুখ লুকাল। ফিসফিস করে বলল, "আপনি খুব জেদী আরোহী।" আরোহী হেসে উত্তর দিল, "না হলে কি আর এই সাম্রাজ্য গড়তে পারতাম? এবার চলো, আজ রাতটা শুধু আমাদের। কোনো ফোন কল নেই, কোনো অফিসের তাড়া নেই। শুধু তুমি, আমি আর এই বৃষ্টি।"
হোটেলের জানালার বাইরে বৃষ্টির শব্দ আরও জোরালো হলো। আরোহী ধীর হাতে ঘরের আলোটা কমিয়ে দিল। নীলচে অন্ধকারে তারা দুজন জানালার পাশে একে অপরের খুব কাছে। আরোহীর চোখে আজ প্রশান্তি। সে আদিকে নিজের বুকের কাছে টেনে নিল। আদি হাসল এবং আরোহী তার কপালে একটা গভীর চুমু খেয়ে ফিসফিস করে বলল, "শেষ বলে কিছু নেই আদি। এটা তো কেবল শুরু।"
রাতের গভীরতা বাড়ার সাথে সাথে আভিজাত্যের সব দেয়াল আজ ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। বাইরের ঝড় যেন তাদের এই ছোট পৃথিবীর বাইরেই থমকে গেল। তারা দুজনে এক দীর্ঘ আলিঙ্গনে হারিয়ে গেল, যেন সময় সেখানেই স্থির হয়ে গেছে। প্রেম আজ বয়সের সব হিসেব উল্টে দিয়ে এক নতুন গল্প লিখতে শুরু করল।
শহরের ব্যস্ত রাস্তার এক কোণে যখন নিওন আলোগুলো জ্বলে ওঠে, ঠিক তখনই যেন এক সমান্তরাল মহাবিশ্বের জন্ম হয়। আরোহী, ৪৫ বছর বয়সী এক অনিন্দ্যসুন্দরী বিলিয়নিয়ার। তার চোখের ইশারায় কর্পোরেট দুনিয়া থমকে দাঁড়ায়। কিন্তু এই ঐশ্বর্যের অরণ্যে আরোহী ছিল ভীষণ একা। তার জীবনের সেই শূন্যস্থানটি পূরণ করতে হঠাৎ একদিন এল আদি। ২৪ বছরের এক তরুণ, যে নিজের স্বপ্ন পূরণের লড়াইয়ে একটি কল সেন্টারের নাইট শিফটে কাজ করে।
আরোহী আর আদির পরিচয় কোনো রোমান্টিক ডিনারে হয়নি, হয়েছিল একটা যান্ত্রিক গোলযোগে। কিন্তু প্রথম দেখাতেই আরোহী আদির সরলতা আর চোখের সেই অদ্ভুত মায়ার প্রেমে পড়ে যায়। আরোহী জানত আদি বয়সে তার চেয়ে প্রায় অর্ধেক, জানত সমাজের চোখে তাদের এই সম্পর্ক 'বেমানান'। কিন্তু হৃদয়ের টান কি আর যুক্তি মানে?
আরোহী বারবার আদিকে প্রেমের প্রস্তাব দিত। দামী উপহার, বিলাসবহুল গাড়ি কিংবা বড় কোনো সুযোগ—সবই ছিল হাতের নাগালে। কিন্তু আদি নিজেকে গুটিয়ে রাখত। সে জানত আরোহী কে, তার ক্ষমতার পরিধি কতটুকু। সে ভাবত, একজন বিলিয়নিয়ার মহিলার সাথে সাধারণ এক কল সেন্টার কর্মীর প্রেম কেবল রূপকথায় সম্ভব।
একদিন আরোহী আদিকে সরাসরি তার অফিসে ডেকে পাঠাল। আভিজাত্যের গাম্ভীর্য ছাপিয়ে আরোহী প্রশ্ন করল, "আদি, তোমার ভয়টা কিসের? সমাজের, নাকি আমার ঐশ্বর্যের?" আদি মাথা নিচু করে বলল, "আমাদের বয়সের ব্যবধানটা অনেক বড় আরোহী ম্যাডাম। পৃথিবী এটাকে মেনে নেবে না।" আরোহী আদির খুব কাছে এসে দাঁড়াল। তার দামী পারফিউমের সুবাসে আদির দম বন্ধ হয়ে আসার জোগাড়। আরোহী ধীর গলায় বলল, "ভালোবাসার কোনো বয়স হয় না আদি। আমি তোমাকে চাই, তোমার ওই সাধারণ জীবনটা সমেত।"
আদি আর অস্বীকার করতে পারল না। শুরু হলো তাদের লিভ-ইন রিলেশন। সমাজের চোখরাঙানিকে তুড়ি মেরে আরোহী তার রাজপ্রাসাদ ছেড়ে মাঝেমধ্যে আদির সাথে সাধারণ হোটেলে রাত কাটাতে শুরু করল। আভিজাত্য আর সাধারণ জীবনের এক অদ্ভুত মিলন ঘটল তাদের ভালোবাসায়।
তেমনই এক ঝোড়ো বৃষ্টির রাত। কলকাতার একটি অভিজাত হোটেলের প্রেসিডেন্সিয়াল সুইট। কাঁচের দেয়ালের ওপাশে অঝোর ধারায় বৃষ্টি আর নিচে ব্যস্ত শহরের ছোট হয়ে আসা আলোগুলি। ৪৫ বছর বয়সী আরোহী গ্লাসে হালকা চুমুক দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পরনে দামী সিল্কের গাউন, চোখে এক অদ্ভুত তৃষ্ণা। ২৪ বছরের আদি সোফায় বসে অস্বস্তিতে নিজের আঙুল মটকাচ্ছে।
আরোহী: (শান্ত গলায়) আদি, তুমি কি জানো তোমার এই অস্বস্তিটাই আমাকে তোমার প্রতি আরও বেশি পাগল করে তোলে?
আদি: (মাথা নিচু করে) আপনি বুঝছেন না ম্যাডাম, আপনার এই সাম্রাজ্য, আপনার এই ব্যক্তিত্ব... আমি এগুলোর পাশে ভীষণ বেমানান। আমি একটা সাধারণ কল সেন্টারে চাকরি করি, আর আপনি—
আরোহী: (দ্রুত পায়ে এগিয়ে এসে আদির সামনে দাঁড়াল) আর আমি একজন একা মহিলা, যার ১০০ বিলিয়ন ডলারের ব্যাংক ব্যালেন্স আছে কিন্তু রাতে কথা বলার মতো একটা মানুষ নেই। তুমি কি আমাকে 'ম্যাডাম' বলাটা বন্ধ করবে আদি?
আদি: আমি চেষ্টা করি। কিন্তু যখনই আপনার চোখের দিকে তাকাই, মনে হয় আমি কোনো আগুনের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। এই অসম প্রেম সমাজ কোনোদিন মেনে নেবে না আরোহী। আমার বয়স আর আপনার অভিজ্ঞতা—মাঝখানে একটা পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে।
আরোহী: (আদির চিবুক ছুঁয়ে মুখটা ওপরে তুলল) পাহাড়টা কি আমি তৈরি করেছি? নাকি তোমার ভয়? আমি তোমাকে তিনবার বলেছি যে আমি তোমাকে ভালোবাসি। আজ চতুর্থবার বলছি—আমি তোমাকে আমার জীবনের অংশ করতে চাই আদি। লিভ-ইন, বিয়ে, বা স্রেফ একসাথে থাকা—নাম তুমি যা দেবে, আমি তাই মেনে নেব।
আদি: (চোখে জল চিকচিক করে উঠল) আপনি কেন বুঝছেন না? আমি আপনাকে হারাতে চাই না। এই অসম সম্পর্কের পরিণতি খুব খারাপ হয়।
আরোহী: (আদিকে জাপটে ধরে বুকে টেনে নিল) খারাপ হলে হবে। অন্তত একটা রাত তো আমরা আমাদের মতো করে কাটাতে পারি? এই হোটেলের ঘরে আজ কোনো বিলিয়নিয়ার নেই, কোনো কল সেন্টার কর্মী নেই। আজ শুধু আরোহী আর আদি আছে।
আদি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। আরোহীর সুবাস আর তার দৃঢ় আলিঙ্গন আদির সব যুক্তি ধুলোয় মিশিয়ে দিল। সে আরোহীর কোমর জড়িয়ে ধরে কাঁধে মুখ লুকাল। ফিসফিস করে বলল, "আপনি খুব জেদী আরোহী।" আরোহী হেসে উত্তর দিল, "না হলে কি আর এই সাম্রাজ্য গড়তে পারতাম? এবার চলো, আজ রাতটা শুধু আমাদের। কোনো ফোন কল নেই, কোনো অফিসের তাড়া নেই। শুধু তুমি, আমি আর এই বৃষ্টি।"
হোটেলের জানালার বাইরে বৃষ্টির শব্দ আরও জোরালো হলো। আরোহী ধীর হাতে ঘরের আলোটা কমিয়ে দিল। নীলচে অন্ধকারে তারা দুজন জানালার পাশে একে অপরের খুব কাছে। আরোহীর চোখে আজ প্রশান্তি। সে আদিকে নিজের বুকের কাছে টেনে নিল। আদি হাসল এবং আরোহী তার কপালে একটা গভীর চুমু খেয়ে ফিসফিস করে বলল, "শেষ বলে কিছু নেই আদি। এটা তো কেবল শুরু।"
রাতের গভীরতা বাড়ার সাথে সাথে আভিজাত্যের সব দেয়াল আজ ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। বাইরের ঝড় যেন তাদের এই ছোট পৃথিবীর বাইরেই থমকে গেল। তারা দুজনে এক দীর্ঘ আলিঙ্গনে হারিয়ে গেল, যেন সময় সেখানেই স্থির হয়ে গেছে। প্রেম আজ বয়সের সব হিসেব উল্টে দিয়ে এক নতুন গল্প লিখতে শুরু করল।
