জীবনের ক্লান্তি।

in আমার বাংলা ব্লগ3 months ago


কেমন আছেন "আমার বাংলা ব্লগ"এর সকল সদস্যরা? আশা করি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। আশাকরি আমার পোস্টটি পড়ে আপনাদের খুব ভালো লাগবে।


17732995166854935252437460617370.png


সোর্স



আমাদের জীবনের এমন একটা জিনিস যা আমরা না কাউকে দেখাতে পারি আর না কাউকে বোঝাতে পারি। ক্লান্তি দেখাও যায় না আবার বোঝাও যায় না কিন্তু আমাদের প্রত্যেকের জীবনে সুন্দরভাবে জড়িত রয়েছে। আমাদের জীবনে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ও বিভিন্ন সময়ে এই ক্লান্তি এসে থাকে। আমাদের জীবনের এই ক্লান্তি আবার বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। ঘুমের জন্য শরীরের ক্লান্তি, অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে ক্লান্তি, মানসিক অশান্তির কারণে মানসিক ক্লান্তি, আর বিভিন্ন চিন্তার কারণে মস্তিষ্কের ক্লান্তি আমাদের মধ্যে দেখা যায়। এছাড়াও আমাদের জীবনে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সম্পর্কের ক্লান্তি দেখা যায়। সুতরাং আমাদের জীবনে ক্লান্তের কোনোভাবেই অভাব নেই। অনেক সময় দেখা যায় আমরা কোন লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য প্রতিনিয়ত খুব পরিশ্রম করে চলেছি এবং নিজের ১০০% চেষ্টা আর কঠোর পরিশ্রম করে চলেছে। তবুও আমরা আমাদের উদ্দেশ্যে পৌঁছাতে পারছি না অর্থাৎ আমরা জীবনে আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছানোর সফলতা কোনভাবেই পাচ্ছিনা। আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে থাকলেও আমরা যখন দেখি বারবার চেষ্টা সত্ত্বেও আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারছি না তখন আমাদের সেই পরিস্থিতিতে একটা ক্লান্তি আসে যার কারণে আমরা অনেক সময় চেষ্টা করা বন্ধ করে দিন আর সাফল্যে পৌঁছানোর হাল ছেড়ে দিই।


আসলে আমাদের জীবনে এমন অনেক পরিস্থিতি আসে যে সময় আমাদের চেষ্টা করতে করতে এবং প্রতিনিয়ত চেষ্টায় ব্যর্থতা পেতে পেতে এতটাই অধর্য ধরে যায় আর তার সাথে মন ভেঙে যায় যে আমরা চেষ্টা করার মানসিক শক্তি হারিয়ে ফেলি এবং আমাদের জীবনে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর আর চেষ্টার একটা ক্লান্তি চলে আসে তাই আমরা পিছিয়ে পড়ি। আবার অনেক সময় দেখা যায় কোন ব্যক্তিকে আমরা শোধরানোর চেষ্টা করছি বা সঠিক পথে সৎ পথে চালনা করার চেষ্টা করছি, সুন্দর ভাবে জীবন যাপন যেন সেই ব্যক্তি করতে পারে সে বিষয়ে তাকে প্রতিনিয়ত উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করছি কিন্তু সেই ব্যক্তি কোন ভাবেই ভালো পথে চলে না এবং অবাধ্য হয়ে সব সময় খারাপ কাজ করতে থাকে আর আমাদের ভালো পরামর্শ কোনভাবেই গ্রহণ করে না। প্রথম প্রথম আমাদের ধৈর্য যখন থাকে তখন প্রতিনিয়ত আমরা সেই ব্যক্তিকে পরামর্শ দিতে থাকি এবং ভালো পথে চালনা করার প্রবাল চেষ্টা করতে থাকে কিন্তু যখন দেখি সে ব্যক্তি কোন ভাবেই কোন কথা শুনছে না এবং তার জীবন যাপন প্রতিনিয়ত খারাপের পথে এগোতে থাকছে তখন আমাদের সেই প্রচেষ্টায় চলে আসে ক্লান্তি। যখন আমাদের কথা কেউ শোনে না আর আমরা প্রতিনিয়ত বলতে বলতে বুঝতে পারছি যে আমরা শুধুমাত্র চেষ্টা করে যাচ্ছি কিন্তু সে চেষ্টার কোনো ফল পাচ্ছে না তখন আমাদের এক সময় এসে মন নিরুৎসাহিত হয়ে যায় এবং প্রচেষ্টায় ক্লান্তি চলে আসে।


দেখা যায় আমরা নিজের অজান্তেই পিছিয়ে আসি এবং সে বিষয়ে প্রচেষ্টা করা ছেড়ে দিই। আমাদের জীবনে এমন অনেক সময় আসে যে সময় আমরা কঠোর পরিশ্রম করতে থাকি এবং এই সমাজ ও পরিবারের কথা চিন্তা করে নিজের ভালোলাগা আর খারাপ লাগাটাই ভুলে যাই। সমাজ যে নিয়মে চলে সেই নিয়মে আমরা অনেক সময় আমাদের মনের বিরুদ্ধেই চলতে শুরু করি নিজের পছন্দ-অপছন্দ অনেক সময় বিসর্জন দিতে থাকি, আমাদের কিসে ভালোলাগা কিসে আমাদের আনন্দ লুকিয়ে রয়েছে সেগুলো আমরা দিনে দিনে ভুলে যেতে যেতে এক সময় আমরা আমাদের হাসি আনন্দ সবকিছুই জীবন থেকে মুছে ফেলি। কিন্তু দেখা যায় হঠাৎ কোন এক সময় কোনো আপন ব্যক্তির কাছ থেকে আমরা যখন খুব আঘাতপ্রাপ্ত হই তখন হঠাৎ যেন আমাদের ঘুম ভাঙ্গে আর আমরা আমাদের এই কঠোর পরিশ্রমের জীবন এবং অন্যদের সাথে আমাদের যে সম্পর্ক ও দায়িত্ব সবকিছুতেই আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ি। আসলে আমরা যদি শুধুমাত্র অন্যের কথা ভাবতে থাকি এবং অন্যের ভালো মন্দ চিন্তা করতে থাকি তবে এক সময় আমরা অবশ্যই ক্লান্ত হয়ে পড়বো যখন দেখব আমরা আমাদেরকেই হারিয়ে ফেলেছি এবং আমরা নিজেরাই অনেক বেশি কষ্ট রয়েছি আর আমাদের এই কষ্টের জীবন দেখে কারোর কোন কিছুই অনুভব হচ্ছে না।


আসলে আমাদের অবশ্যই আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করা উচিত এবং আমাদের পরিবারের জন্য সর্বদাই চিন্তা করা উচিত। কিন্তু তার মানে এটা নয় যে আমরা নিজেদেরকে ভালোবাসা ছেড়ে দিয়ে এবং নিজেদের জন্য ভালো কোন কিছু করা বন্ধ করে দিই। আমাদের অবশ্যই নিজেদের কথা ও চিন্তা করতে হবে আর প্রতিনিয়ত চেষ্টা করতে হবে যেন আমরা নিজেরাও ভালোভাবে বাঁচতে পারি এবং সুন্দরভাবে জীবন-যাপন করতে পারি। আমরা যদি সবার আগে নিজের কথা ভাবি এবং নিজেকে সুখে রাখার চেষ্টা করি তবেই আমরা হাসিমুখে সবাইকে রাখতে পারব আর তার সাথে আমাদের জীবনে ক্লান্তিটা আসবে না। সারাদিনের পরিশ্রমে যে ক্লান্তি আসে সেটা রাতের ঘুমে ঠিক হয়ে গেলেও জীবনে যে ক্লান্তি আসে সেই ক্লান্তিটা শুধুমাত্র আমাদের নিজেদের প্রতি আমাদের অবহেলার কারণে আসে। আর আমরা যদি নিজেদেরকে প্রতিনিয়ত অবহেলা করতে করতে জীবনে ক্লান্তি নিয়ে আসি তবে এক সময় আমাদের বেঁচে থাকার ইচ্ছাই নষ্ট হয়ে যাবে এবং আমাদের মরে যেতেও দ্বিধা হবে না। এ সুন্দর পৃথিবীতে আমাদের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে তাই অন্যকে সুখে রাখার পাশাপাশি নিজেকে সুখে রাখার প্রয়োজন রয়েছে আর অন্যের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি নিজের প্রয়োজনের ও চাহিদার গুরুত্ব দেওয়ার খুবই প্রয়োজন রয়েছে।


আশা করি আজকের পোস্টটি আপনার খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করে অবশ্যই আমাকে জানাতে ভুলবেন না।

Sort:  

চমৎকার একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। জীবনের এই গভীর সত্যটি আপনি খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। আসলেই, অন্যের যত্ন নিতে গিয়ে আমরা অনেক সময় নিজেদের কথা ভুলে যাই, যা থেকে দীর্ঘমেয়াদী ক্লান্তি চলে আসে। নিজের ভালোলাগাকে গুরুত্ব দেওয়া যে কতটা জরুরি, তা আপনার লেখা পড়ে নতুন করে ভাবলাম।

Posted using SteemX