বৃদ্ধাশ্রমের বৃদ্ধ বাবা মা।

in আমার বাংলা ব্লগ4 months ago


কেমন আছেন "আমার বাংলা ব্লগ"এর সকল সদস্যরা? আশা করি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। আশাকরি আমার পোস্টটি পড়ে আপনাদের খুব ভালো লাগবে।


17672760192301684477941686348296.png


সোর্স



আমাদের প্রত্যেকের বাবা-মা অনেক কষ্ট করে আমাদের জন্ম দিয়ে মানুষ করে। প্রত্যেক মা বাবার চেষ্টা থাকে যে তারা অনেক যত্ন সহকারে সুন্দরভাবে তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে এবং সন্তানেরা পড়াশোনা করে তাদের স্বপ্ন পূরণ করবে অর্থাৎ প্রত্যেকটা বাবা মা চেষ্টা করে থাকে তাদের সন্তান ভালোভাবে পড়াশোনা করে সাফল্যের চূড়ায় উঠতে পারে। সারা জীবন সন্তানের সুন্দরভাবে প্রতিপালন করতে চেষ্টা করে এবং ভালো মানুষের মত মানুষ তৈরি করার চেষ্টা করে আর তার সাথে তারা মনের মধ্যে একটা আশা বাঁধে যে তাদের সন্তান একসময় বড় হয়ে তারা যখন বৃদ্ধ হবে সেই সময়ে তাদের হাঁটুর বল হয়ে দাঁড়াবে বৃদ্ধ বয়সে লাঠি হবে। অনেক সন্তান তাদের বাবা-মার স্বপ্ন পূরণ করতে পারে এবং বৃদ্ধ বয়সে তাদের পাশে দাঁড়ায় এবং তাদের সুন্দরভাবে দেখাশোনা করে কিন্তু অনেক সন্তান এমন আছে যারা সন্তান নামের কুলাঙ্গার তৈরি হয়। বৃদ্ধ বাবা মাকে দেখাশোনা বা যত্ন নেওয়া থেকে একদম দূরে থাকে। বর্তমানে দেখা যায় সন্তানেরা বাবা-মার দায়িত্ব নিতে চায় না এবং দেখাশোনা করতে চায় না যার ফলে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের জন্য বৃদ্ধাশ্রম বিভিন্ন জায়গায় তৈরি করা হয়েছে।


সমাজে এমন একটা সময় ছিল যখন বৃদ্ধ বাবা-মা রাস্তায় থাকতে দেখা যেত না অবহেলিত হতে দেখা যেত না কিন্তু সমাজ উন্নতি হওয়ার সাথে সাথে মানুষ শিক্ষিত হওয়ার সাথে সাথে এতটাই অমানুষিক মানসিকতা তৈরি হয়েছে যে নিজের জন্মদাতা পিতা-মাতাকে অবহেলা করা শুরু করেছে। বাবা মা যে স্নেহের সাথে সন্তানকে লালন পালন করে বড় করে বাবা মায়েরা আশা করে যে তাদের বৃদ্ধ বয়সে তারাও এমনই স্নেহের ভালোবাসা পাবে কিন্তু কিছু কিছু বাবা-মা একদমই ব্যর্থ হয়ে পড়ে। সন্তানকে ভালো পড়াশোনা করানোর জন্য ভালোভাবে মানুষ করানোর জন্য পরিশ্রম করে কঠোর ভাবে কিন্তু তাদের ভালোভাবে মানুষ করতে এতটাই অক্ষম হয়ে পড়ে যে বৃদ্ধ বয়সে তারাই অবহেলার পাত্র হয়ে পড়ে। সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে গিয়ে অনেক বাবা মা এমন আছে যারা অমানুষ করে ফেলে। লোকে বলে বেশি ভালোবাসা ভালো নয় বাবা মার ক্ষেত্রে হয়তো সেটাই হয়ে বসে। কারণ বাবা-মার ভালোবাসা কখনো সন্তানের কাছে কম হতে চায় না বাবা-মার অফুরন্ত ভালোবাসা সন্তান নিজের অন্যায়ের আশকারা বলে মনে করে যার ফলে ভবিষ্যতে এসে সেই বাবা-মাই তার ভালবাসার ফলস্বরূপ বৃদ্ধাশ্রম পেয়ে থাকে।


বর্তমানে অনেক বাবা-মাকে দেখতে পাওয়া যায় যারা রাস্তাঘাটে পড়ে থাকে বৃদ্ধাশ্রমে শেষ জীবন ত্যাগ করে এইসব বাবা-মাকে অবহেলা করা সন্তানেরা বোঝেনা যে তাদের দীর্ঘনিঃশ্বাস সন্তানের জীবনে কতটা খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। মানুষ যেমন কর্ম করে তেমনটাই ফল পায় তাই বৃদ্ধ বাবা মাকে বৃদ্ধাশ্রমে বা রাস্তাঘাটে ফেলে অবহেলা করলে নিজেদেরও যে একসময় রাস্তাঘাটে বা বৃদ্ধাশ্রমে অবহেলিত অবস্থায় দেখতে হবে সেটা যুবক বয়সে সন্তানেরা বুঝতে পারে না। বর্তমানে সন্তানের এতটাই অত্যাধুনিক হয়ে পড়েছে এবং শিক্ষিত নামের অশিক্ষিত তৈরি হচ্ছে যে দিন শেষে তার বাবা মা যে কত গুরুত্বপূর্ণ তার জীবনে সেটাই বুঝতে পারে না। অত্যাধুনিক জীবন যাপন করতে গিয়ে বাবা মাকে অবহেলা করতে শুরু করেছে কিছু সন্তানেরা। আর এই কারণেই দেখা যাচ্ছে সমাজে বৃদ্ধাশ্রম এর পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। আধুনিক জীবন যাপনে বৃদ্ধ বাবা মাকে কোনভাবেই খাপ খাওয়াতে না পারায় সন্তানেরা বাবা-মায়ের আশ্রয় হিসেবে বৃদ্ধাশ্রমকেই বেছে নিচ্ছে। শেষ জীবনে হতাশা এবং বুক ভরা কষ্ট আর হাহাকার নিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছে কিছু বাবা-মা বৃদ্ধাশ্রম এর চার দেওয়ালের মধ্যে।


বৃদ্ধাশ্রমে থাকা বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কষ্ট বুঝতে পারে অন্য বৃদ্ধ বাবা মায়েরা। আমরা যদি বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কষ্ট না বুঝি এবং আমরা আমাদের বাবা-মাকে যদি সঠিক ভালোবাসা এবং যত্ন না দিয়ে অযত্ন করি তবে কর্মফল অনুযায়ী আমাদের এক সময়ে এই একই রকম অবহেলা ভোগ করতে হবে। তাই আমাদের শুধু কর্মফলের ভয় নয় নিজের কর্তব্য পালনের জন্য এবং নিজের জন্মদাতা বাবা-মায়ের কষ্টকে বুঝে তাদের সুন্দর বাসস্থান দেওয়া উচিত এবং তাদেরকে যথাসম্ভব যত্ন সহকারে রাখা উচিত। বৃদ্ধ বাবা মায়েরা হয় সন্তানের মত তাই সন্তানকে যেমন আগলে রাখা হয় তেমনি বৃদ্ধ বাবা-মাকেও যত্নে আগলে রাখতে হবে। আমরা যদি আমাদের বৃদ্ধ বাবা মাকে যত্নে রাখি এবং ভালোবাসায় আগলে রাখে তবে তাদের আশীর্বাদ সবসময় আমাদের সাথে থাকবে এবং সবাই মিলে আমরা অনেক সুখে শান্তিতে জীবন যাপন করতে পারব। নইলে জীবন শেষে যখন আমরাও বৃদ্ধ বয়সে পা রাখবো তখন বৃদ্ধ বাবা মায়ের ওপর অবিচার এবং অবহেলা করার জন্য আমাদের বিবেকের দংশনেই জ্বলে পুড়ে মরতে হবে।


আশা করি আজকের পোস্টটি আপনার খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করে অবশ্যই আমাকে জানাতে ভুলবেন না।