জেনারেল রাইটিং : বজ্রপাত : সতর্ক থাকুন।
সবাইকে শুভেচ্ছা,
আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা, সবাই ভালো আছেন আশাকরি। ভালো ও সুস্থ্য থাকুন এই কামনা সবসময়। বৈশাখী ঝড় চলছে একেক দিন একেক জায়গায়। ঝড়ের সাথে বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি! দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঝড়বৃষ্টি হলেও ঢাকা ছিল এর আওতামুক্ত। ঢাকায় ছিল প্রচন্ড গরম ও রোদ। রোদ গরমে ছিল হাসফাস অবস্থা! গতকাল বিকেলে প্রকৃতি কৃপা করেছে। স্বস্তির বৃষ্টিতে মানুষকে সতেজ করেছে। বৈশাখ মাসে ঝড়বৃষ্টি হয় এটি স্বাভাবিক। শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত প্রকৃতির উপহার। কিন্তু বজ্রপাত যেন এবার বেশি হচ্ছে। শুধু গতকালেই গাইবান্ধায় ৫ জন সহ ৫টি জেলায় ১২ জন মানুষ মারা গেছে বজ্রপাতে। প্রায় দিনেই বজ্রপাত মানুষের মৃত্যু সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। জ্ঞান বিজ্ঞানে মানুষ অনেক এগিয়ে গেলেও প্রকৃতির অনেক কিছুই এখনো মানুষের অজানা। যেমন বজ্রপাতে মৃত্যু থেকে মানুষকে রক্ষা করা যাচ্ছেনা!
সব দেশেই কমবেশি বজ্রপাত হয়। সবচেয়ে বেশি হয় ভুটানে। এজন্য ভুটানকে বজ্রপাতের দেশ বলা হয়। বজ্রপাত হয় মুলতঃ সংঘর্ষের ফলে। মেঘের ঘন ধুলিকণা, পানি ও বরফের মধ্যে যখন সংঘর্ষ হয় তখন ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জ তৈরি হয়।এই চার্জের অনুপাত বা পার্থক্য বেশি হয়ে গেলে,বাতাস তা ধরে রাখার সামর্থ হারিয়ে ফেলে, তখন এই চার্জ বা বিদ্যুৎ ভূমির দিকে বা অন্য মেঘের দিকে ধাপিত হয়ে বজ্রপাত ঘটায়। বজ্রপাতে বাংলাদেশে অনেক মানুষ মারা যায়। যার সঠিক পরিসংখ্যান এই মূহুর্তে আমার পক্ষ্যে দেওয়া সম্ভব নয়। আমাদের দেশে এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয়। এই সময়ে মূলতঃ বঙ্গোপসাগর থেকে তেড়ে আসা গরম ও আদ্র বাতাস এবং অধিক তাপমাত্রা আমাদের দেশে বজ্রপাতের মূল কারণ। আবহাওয়া যত উষ্ণ হবে বজ্রপাত তত বাড়বে।
প্রকৃতির লীলাখেলা বুঝার সাঙ্গ করার ক্ষমতা এখনো হয়নি। হয়ত অদূর ভবিষ্যতে হবে। যেহেতু বজ্রপাত প্রতিরোধের এখন পর্যন্ত কোন কার্যকর ব্যবস্থা আবিস্কৃত হয়নি তাই গণসচেতনতা ও সতর্কমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া আপাত: কোন বিকল্প নেই।প্রচলিত যেসব সতর্কবার্তামূলক ব্যবস্থা বিদ্যমান সেগুলোই আমাদের মেনে চলা ছাড়া উপায় নেই! যেমন৷ বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া, দালান বা কংক্রিটের স্থাপনায় আশ্রয় নেওয়া বেশি নিরাপদ। গাছপালা,বৈদ্যুতিক খুঁটি এড়িয়ে চলা,বজ্রপাতের সময় মোবাইল সহ যে কোন ইলেকট্রনিকস ডিভাইস এড়িয়ে চলা,ঘরে থাকলে জানালার কাছে না যাওয়া ও বৈদ্যুতিক সুইচ,টিভি,ফ্রিজে হাত না দেওয়া। বাইরে থাকলে আশপাশে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে না পেলে পায়ের আঙ্গুলের উপর ভর দিয়ে সোজা হয়ে বসে থাকা। বজ্রপাতের সময় খোলা আকাশ এড়িয়ে চলা নিরাপদ। আমাদের দেশে খোলা আকাশের নীচে মাঠে কৃষক শ্রমিক কাজ করতে যেয়ে বজ্রপাতের শিকার হয়ে মারা যায় বেশি।যেহেতু বজ্রপাত প্রতিরোধে কোন ব্যবস্থা নেই তাই সতর্কতা অবলম্বন করা ছাড়া কোন উপায় নেই। একটি প্রবাদ আছে সতর্কতার মার নেই।তাই আমরা যত বেশি সতর্ক হবো তত কম প্রাণহানির আশংকা হবে। আসুন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বজ্রপাত সম্পর্কে নিজে সচেতন হই এবং অপরকে সচেতন করি।
আজ এই পর্যন্ত বন্ধুরা, আবার দেখা হবে অন্য কোন ব্লগ নিয়ে।
সবাই ভালো থাকুন, নিরাপদে থাকুন।
ঢাকা-বাংলাদেশ।
২৭ এপ্রিল, ২০২৬।

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.