হারানো গয়নার বাক্স ( পর্ব ১১ )
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে 'হারানো গয়নার বাক্স' গল্পের একাদশ পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর মুখটা স্পষ্ট হয়ে উঠলে অরিত্র শিউরে ওঠে। ছবির সেই মুখ, ঠিক সেই ছায়ার মতো। ছায়াটা এবার আরও কাছে এল। তার পায়ের কোনো শব্দ নেই, কিন্তু মাটির ওপর দিয়ে যেন ভেসে আসছে। হঠাৎ ঠান্ডা একটা কণ্ঠস্বর শোনা গেল- ফিরিয়ে দাও। শব্দটা যেন চারদিক থেকে একসাথে ভেসে আসছে। অরিত্রর বুক কেঁপে উঠল এবং সে কাঁপা গলায় বলল- কী… কী ফিরিয়ে দেব? ছায়াটা আবার বলল- আমার… যা আমার…। বাবা এবার এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল- তুমি কী চাও? সে কিছুক্ষণ নীরব হয়ে রইলো। তারপর ছায়াটা ধীরে হাত তুলল। তার আঙুল সোজা তাক করা অরিত্রর হাতে ধরা সোনার হারটার দিকে। অরিত্রর মাথায় যেন বজ্রপাত হলো এবং সে ফিসফিস করে বলল- এই হারটা… তাহলে…।
ঠিক তখনই হাওয়ার ঝাপটা এসে অরিত্রর হাতে থাকা ডায়েরিটা খুলে গেল এবং পাতাগুলো দ্রুত উল্টাতে লাগল। এরপর একটা পাতায় এসে থামল। অরিত্র তাড়াতাড়ি পড়তে লাগল- মৃণালিনীকে আমরা মেরে ফেলিনি, কিন্তু তাকে আমরা বাঁচতেও দিইনি। ওকে এই বাড়ির ভেতরেই বন্দি করে রাখা হয়েছিল এই গয়নার জন্য। ওর আত্মা মুক্তি পাবে তখনই, যখন গয়নাগুলো তার কাছে ফিরে যাবে। অরিত্রর হাত কাঁপতে লাগল এবং সে তার বাবার দিকে তাকাল আর বললো- তাহলে… এটা সত্যি? বাবার মুখ নিস্তব্ধ এবং তার চোখে অপরাধ বোধ স্পষ্ট। এরপর সে ধীরে বলল- আমাদের পূর্ব পুরুষরা ভুল করেছিল। ছায়াটা এবার খুব কাছে এসে গেছে, এতটাই কাছে যে অরিত্র ঠান্ডা বাতাসের স্পর্শ অনুভব করতে পারছে। আবার সেই কণ্ঠস্বর- ফিরিয়ে দাও। অরিত্র ধীরে ধীরে হারটা সামনে বাড়াল। কিন্তু ঠিক তখনই বাগানের অন্য প্রান্ত থেকে একটা তীব্র আওয়াজ এলো- না! ওটা দিস না!......
