কালী পুজোর নিমন্ত্রণ
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করতে চলেছি গত বছর নভেম্বর মাসের একটি দিনের কিছু মুহূর্ত।
গত বছর কার্তিক মাস শেষ হওয়ার আগেই সমস্ত পুজো কমপ্লিট ।সাধারণত কার্তিক মাসেই সব পুজো কমপ্লিট হয়ে যায় ,তবে গত বছর কিন্তু দুর্গাপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো আর কালীপুজো সবই কিন্তু অনেকটাই আগে হয়েছে। কার্তিক মাসের একদম প্রথম দিকে। তাই নভেম্বরে প্রায় কুড়িটা দিন পূজো ছাড়াই মানুষ কাটিয়েছে।
ছোটবেলা থেকে দেখে আসি ঠিক কুড়ি তারিখের জগদ্ধাত্রী পুজো শেষ হয়ে যাওয়ার পর নভেম্বরে স্কুল খোলে ,আর তারপরেই পরীক্ষা হয়, ফাইনাল পরীক্ষা থাকে। কিন্তু ঘটনাক্রমে আগের বছর কিন্তু সেটা হয়নি। পুজোর কোন নাম গন্ধ ছিল না ওই সময়টুকু। গতবছরের প্রত্যেকটা পুজো আগে হয়ে যাওয়ার জন্য নভেম্বর মাসটা কেমন খালি খালি লাগছিল।
যদিও আমার নিজস্ব কিছু অনুষ্ঠান ছিল। সেই অকেশনের বিষয়ে পরবর্তী পোস্টে অবশ্যই জানাবো তার আগে বলি নভেম্বর মাসের ২১ তারিখের গল্প। ২১ তারিখের আগেই আমাদের বাড়িতে অমল কাকা আর কাকিমা মিলে নিমন্ত্রণ করে গিয়েছিল কালীপুজো উপলক্ষে। আমাদের শোরুমের সামনেই একটা মিষ্টির দোকান রয়েছে, বলতে গেলে ঘূর্ণি চত্বরে এই মিষ্টির দোকান সবথেকে বেশি চলে।।
আমি এই দোকানের মিষ্টি খেয়েই আর দই খেয়েই বড় হয়ে গেলাম। দিনে, দুপুরে, রাতে সারাক্ষণ এদের সাথে আমাদের মিষ্টি নিয়ে একটা ভালো সম্পর্ক। দোকানটা এত কাছাকাছি বলে সব সময় এদের দোকান থেকে মিষ্টি কেনা হয়।।
যাইহোক আর আমি খুব মিষ্টি খেতে ভালোবাসি। এ কারণে শীত কালে প্রত্যেকদিন প্রায় দুপুরের আগে কাকার দোকানে মিষ্টি খেতে যাই। আবার সন্ধ্যের দিকে কিংবা রাতের দিকে গরম গরম খেজুরের গুড়ের রসগোল্লা। সারা শীতটা এভাবে চললে গরমটা চলে অন্যভাবে ।
গরমে দুপুরবেলা করে দই ,তবে গরমএ মিষ্টিটা কম খাওয়াই হয়।
ওই অমল কাকা আর কাকিমা মিলে কালীপূজা নিমন্ত্রণ করে গেল । ওই সময় কালী পুজো হয় না ,হঠাৎ করে এসব শুনে কৌতুহল বশত জিজ্ঞেস করলাম, জানতে পারলাম ওদের মানত করা পুজো এটা। কোন একটা মনের ইচ্ছা পূরণ হওয়াতে ওরা মায়ের পুজো করছে নিজের বাড়িতে।
সকাল বেলা থেকেই ২১ তারিখে আমি ভীষণ চাপে ছিলাম। কিছুদিন পরে একটা অনুষ্ঠান রয়েছে বাড়িতে, এ কারণে হেয়ারকাট টা একবার করে আসতেই হয়।। চলে গিয়েছিলাম হাবিবস এ। ওদের সার্ভিস আমার খুব ভালো লাগে কৃষ্ণনগরের মধ্যে।
খুব ধৈর্য ধরে অনেকটা সময় ধরে ওরা সার্ভিস দেয়। আমি সাধারণত যে হেয়ারকাট করে থাকি চুল বড় হলে, সেই হেয়ার কাটিং ওদিনও করি। অতিরিক্ত অন্যান্য হেয়ার কাটিং ট্রাই করতে যাই না।। আমার ক্ষেত্রে ওরা একটু বাউন্সি হেয়ার লুক সাজেস্ট করে। প্রতিবার লেয়ার কাট রাখে ,তার সাথে আর একটা কি যেন করে দেয়, সেই কাটটার নাম ,আমি জানিনা।
সেদিনও সকালবেলায় এই বড় কাজটা সেরে আসলাম। চুলটা অনেকটা বড় হয়ে গিয়েছিল, কাটার পরে একটু ঠিকঠাক লাগছিল। অনেক মাস চুল না কাটলে চুলের আগা নষ্ট হয়ে যায়। আর আমার মনে আছে ২০২৫ সালে আমি জানুয়ারি মাসে একবার চুল কেটেছিলাম। আবার কেটেছি নভেম্বরে। যাইহোক এভাবে তো কাজ মিটে গেল।
সন্ধ্যেবেলার দিকে রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়লাম মা-বাবার সাথে অমল কাকাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে। কাকারা একটা লজ বুক করেছিল লোকজনকে খাওয়াবে বলে। আর পুজোটা হয়েছিল বাড়িতে। ওদের বাড়ি থেকে লজটা খুবই কাছে, আর যেখানে নিমন্ত্রণ সেখান থেকে আমাদের বাড়ির ডিস্টেন্স হাঁটা পথ। তাই আমরা হাঁটতে হাঁটতেই চলে গিয়েছিলাম ।
প্রথমে গিয়েই ওদের বাড়িতে ঠাকুরটা দেখলাম। খুবই সুন্দর করে ওরা সাজিয়ে। জায়গাটা খুবই ভালো লাগছিল দেখতে। কাকাদের বাড়ি এর আগে যাই নি ,তবে এবার গিয়ে দেখে আসলাম। বাড়িটা খুব সুন্দর সাজানো গোছানো। তারপর তো প্রণাম করে খাবার জায়গায় চলে এলাম। খাবারের জায়গায় বেশ ভিড় ছিল। তবে লজ এর খাবারের জায়গাটা অনেকটা বড় বলে সেটা বোঝা যাচ্ছিল না।
কালীপুজোর প্রসাদ মানেই খিচুড়ি , এর সাথে ছিল সবজি। বাসন্তী পোলাও, আলুর দম চাটনি। আর ওরা তিনরকমের মিষ্টি করেছিল। মিষ্টির মধ্যে ছিল ছানার পায়েস, কেশরী ভোগ, আর গুড়ের চাপাটি সন্দেশ । খাওয়াটা দুর্দান্ত হয়েছিল। এখনো আমার মনে আছে। শেষ পথে ছিল হজমি।
শীতের মধ্যে এত সুন্দর খাওয়া দাওয়া করে মনটা ভরে গিয়েছিল। তার ওপর পূজোর প্রসাদের একটা আলাদা স্বাদ থাকে।যাইহোক আজকে এখানেই শেষ করছি। সকলে ভালো থাকুন।










