চৈত্র মাসের শেষ দিন - ১ম পর্ব
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন ।আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করতে চলেছি পহেলা বৈশাখের আগের দিনের কিছু মুহূর্ত।
বৈশাখ আসতে না আসতেই আমাদের এখানে প্রচন্ড গরম পড়ে যায় ।আর সত্যি বলতে আমি গরম পছন্দ করি না বলেই এই মাসগুলোর প্রতি আমি ভীষণ বিরক্ত বোধ করি। তবে কখনো কখনো সময় অসময়ে যখন একটু বৃষ্টি হয়, ভালো লাগে।
তবে বলতে গেলে এখন বৃষ্টি কখন আসবে সেটা বলা খুবই মুশকিল। শীতকালেও বৃষ্টি চলে আসে আবার টানা গরমের মধ্যেও বৃষ্টি আসে। আবার যে সময় বৃষ্টি আসার কথা না ,সে সময়ও বৃষ্টি চলে আসে, তবে যখন বৃষ্টি আসে ,আমার খুব ভালো লাগে। কারণ ওই যে ,ওয়েদার ঠান্ডা হয়ে যায়।
পয়লা বৈশাখের আগের কিছুদিন আর তার পরের কিছুদিন যে একবারই বৃষ্টি হবে না ,সেটা তো জানা কথা। এটা নতুন কিছু না। তবে গত বছর কিন্তু পহেলা বৈশাখের দিন বেশ ঝড় বৃষ্টি হয়েছিল ।এবারে সেটা হয়নি।
হলেও মন্দ হতো না । বাঙালি তো বাঙালিই ।বৃষ্টি হলেও বাঙালি ছাতা হাতে হালখাতা করতে ঠিক বের হতো। বছরের একটা দিন, যে দিন টা বাংলা বছরের শুরু ,সেদিনটা উদযাপন করতে বাঙালিরা বাদ যাবে কেন !!!ওটাই তো আগে করা উচিত। ইংরেজী নিউ ইয়ার এর ১ তারিখ নিয়ে মানুষের এতই মাতামাতি, বাঙালির নববর্ষ সেখানে কোনো জায়গায় কিন্তু কমতি রাখেনা।
যাক গে, এইবার পহেলা বৈশাখের আগের দিন একটু বেরিয়েছিলাম আমার পার্টনারের সাথে। পরবর্তীতে কাকিমাও যোগদান করে আমাদের সাথে। তার পরেও আমার কিছু কাজ ছিল সবমিলিয়ে পরপর আপনাদের সাথে শেয়ার করি।
বিকেল বেলায় হঠাৎ করেই আমি আর আমার পার্টনার মিলে চলে গিয়েছিলাম আইসক্রিমের পার্লারে। ওখানে কিছুক্ষণ বসে আইসক্রিম খেয়ে কিছু ছবি তুলে আবার মার্কেটের দিকে চলে যাই।পহেলা বৈশাখের আগের দিন যে এতটা পরিমাণে ভিড় হতে পারে ,আমি কল্পনা করতে পারিনি। মোটামুটি ১০০ মিটার জায়গা পুরো ব্লক। টোটো, বাইক, সাইকেল, রিক্সা, তার মধ্যে চার চাকা, কিছু আর বাকি নেই। সব এক জায়গায় এসে আটকে গেছে।
ঠিক যে জায়গাটা করে মার্কেটের একদম মুখ । চারিদিকে রাস্তা থাকলেও যাওয়ার উপায় নেই ।মানুষ নড়তেই পারছে না। এদিকে দুপাশে চৈত্র সেল বসে গেছে। সেলের সেদিনকে শেষ দিন। মানুষ হুমরি খেয়ে পড়েছে তার ওপর। সত্যি বলতে এসব দেখলে আমার ভীষণ হাসি পায়।। লোকের বিরক্ত লাগে, তবে আমার হাসি পায়। আমি ভেবে পাইনা আমরা এত বোকা কেন। সবকিছু জেনেশুনেও ইচ্ছা করে রাস্তা ব্লক করে থাকি। সবার যেন আগে যাওয়ার তারা।
আমি আমার পার্টনারের বাইকে করে আইসক্রিম পার্লার থেকে মার্কেটের দিকে আসছিলাম। দূর থেকে অনুভব করতে পারিনি যে ওখানে একটা জ্যাম বেঁধে রয়েছে। কিছুটা দূর যেতেই হঠাৎ করে দেখি সামনে রাস্তা ব্লক হতে শুরু করছে। আমি সাথে সাথে ওকে গাড়ি ঘুরিয়ে নিতে বললাম। ও দু মিনিট ওয়েট করেই আমার কথাটা ভাগ্যিস মেনে গাড়িটা ঘুরিয়ে নিয়েছিল। না হলে আধা ঘন্টা ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকতে হতো
তার মধ্যে কোথা থেকে যমরাজ চলে এসেছে। কোনো মানে হয়!? হ্যাঁ কৃষ্ণনগরে যমরাজেরও পুজো হয়। আশা করি এই যমরাজের পূজো নিয়ে মৌসুমী বৌদি র পোস্ট আপনারা দেখেছেন। আমার মনে আছে আগের বছর ও যমরাজের পূজা উপলক্ষে একটা পোস্ট লিখেছিল। যাইহোক তেনাকে কি মুহূর্তে ওখানে দেখে তো আমি ভীষণ ভয় পেয়ে গেলাম। হাতে মস্ত বড় গদা, কি ভয়ঙ্কর রূপ।রীতিমতো ওই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। তাই হাতজোড় করে প্রণাম করা হয়নি।। হাতে ছিল ফোন ,ফোন দিয়ে ছবিটাই তুলে নিলাম।
**যাইহোক তিনি কিন্তু যমরাজ!! তাই আপনারা কিন্তু হাসাহাসি করবেন না। ওনার ছবি দেওয়া থাকল। প্রণাম করে নেবেন। এসব করা হয়ে যাবার পর যখন ওই জায়গা থেকে বার হতে পারলাম, তখন আর একটা জায়গা খুঁজে নিলাম একটু বসার জন্য ,কারণ ঠিকভাবে আইসক্রিম পার্লারে বসা হয়নি।সেটা নিয়ে পরের পোস্টে শেয়ার করব।




