পুরীতে শেষ দিন - স্নান করার আনন্দ

in Incredible India2 hours ago

নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। গত পোস্টে পুরীর কোনারক মন্দির ভ্রমণের বেশ কিছুটা মুহুর্ত শেয়ার করেছিলাম। আজকে তারপরের দিন কি কি করেছি সেটা নিয়ে লিখছি। অর্থাৎ ১২ ই মে ২০২৬।

1000493794.jpg

সকাল থেকেই উত্তেজনাটা বেশ ভালই ছিল। আর সবথেকে বড় ব্যাপার হলো তার পরের দিনকেই আমরা বাড়ির দিকে রওনা হতে চলেছি। এ কারণে ঐদিন জমিয়ে আনন্দ করতে হবে ,এটাই প্ল্যান ছিল।।

1000493792.jpg

১২ই মে অর্থাৎ মঙ্গলবার আমার ভাই অর্থাৎ ঈশানের জন্মদিন । এ বছর ঈশান ১৪ তে পা দিল। যেদিন আমাদের প্ল্যান হচ্ছে পুরীতে আসার । সেদিন কিছুতেই ঈশান রাজি হচ্ছিল না । কারন আমরা পুরীতে আসার প্ল্যান করার আগেই ওর জন্মদিনের দিন একটা গেট-টুগেদারের আয়োজন করছিলাম আত্মীয়-স্বজন মিলে।
আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব আসলে ঈশান বরাবর ভীষণ খুশি হয়, কারণ ওর সমবয়সী অনেক ভাই-বোনেরা রয়েছে সবার সাথে মজা করতে পারে।

1000493797.jpg

তাই যেদিন কে পুরী যাওয়ার কথা ঠিক হলো এবং ও বুঝতে পারল ওর জন্মদিনের দিন হয়তো আমরা পুরীতেই থাকবো এটা ভেবেই ও রাজি হচ্ছিল না।
তবে ওকে বলেছিলাম তোর জন্মদিন তো আরো ভালোভাবে হবে। জন্মদিনের সময় বাইরে ঘুরতে যাচ্ছিস। বাইরে কোথাও সেলিব্রেট হচ্ছে। এটাই তো অনেক বড় ব্যাপার। ওর মনটা খারাপ থাকলেও আমার কথা শুনে কিছুটা ও শান্ত হয়েছিল।

1000493796.jpg

তাই ১২ তারিখের সকাল বেলাতেই আমার প্রথম কাজ ছিল একটা ভালো কেক নিয়ে এসে রুমে রেখে দেওয়া, যাতে সন্ধ্যেবেলায় সবাই মিলে সেলিব্রেট করতে পারি।।
আমি পুরীর monginis এর একটি আউটলেটে অনলাইন অর্ডার করে দিলাম। সকাল সকাল ওরা ডেলিভারি দিয়ে গেল।
যেহেতু প্ল্যান করছিলাম সমুদ্রের ধারে কেকটা কাটবো। তাই আলাদা করে মোমবাতি নিইনি। কারণ সন্ধ্যা বেলায় যা হাওয়া দেয়, ওতে মোমবাতি টিকবে না। জন্মদিন সেলিব্রেশানের কথা অন্য পোস্ট এ শেয়ার করব।

1000493795.jpg

কেকটা চলে আসার কিছুক্ষণ পরেই আবার রেডি হলাম সমুদ্র স্নান করতে যাব বলে। সেদিনকে আমি পড়েছিলাম একটা থ্রি কোয়াটার প্যান্ট আর ওপরে একটা ইয়েলো কালারের টপ। আর আমার মাকে জোর করে আমি আমারই একটা টপ আর প্যান্ট পরিয়েছিলাম। আমার কথা শুনেছে বলে, আমি খুব খুশি হয়েছিলাম।।

1000493793.jpg

অনেক আনন্দ করেছি সেদিনকে। খাওয়া দাওয়া করে আমরা সবাই মিলে স্নান করতে নামলাম। তখন বাজে দুপুর দুটো । দেড়টা থেকে তিনটে সাড়ে তিনটে অবধি স্নান করা হলো। আমি সকালে সেদিনও স্নান করেছিলাম ।তাও ওখানে গিয়ে একটু সমুদ্রে গা ভেজালাম। ওই কোমর পেট অব্দি। বাবা মা আর ঈশান তো রীতিমত প্রত্যেকদিনই মাথার চুলও ভিজিয়েছে। আসলে সেদিন শেষবারের মতন স্নান। তাই সকলে জমিয়ে স্নান করেছে।

এক গা বালি নিয়ে প্রত্যেকদিন আমরা সকলে হোটেলে ফিরে আসতাম। সমুদ্রে স্নান করতে যেতে তো মজাই লাগে। কিন্তু ফিরে আসার সময় সারা গায়ে বালি থাকে, তাই ভীষণ বিরক্ত লাগে ,আর হোটেলে ঢুকে বাথরুমের মধ্যে যখন স্নান করতে ঢুকি, তখন চারিদিকে খালি বালি আর বালি। জামাকাপড় শুকিয়ে যাওয়ার পরেও বালি বালি। প্যান্টের পকেট দিয়েও বালি। হাহাহাহা।কি আর বলি!?

অনেক অনেক ছবি তোলা হয়েছে, সেদিন। অনেক আনন্দ করা হয়েছে, ঝিনুক কুড়িয়েছে দিশা আর আমার মা মিলে। সেগুলো কালেক্ট করে ব্যাগের মধ্যে করে ঠিকঠাক ভাবে রাখা হয়েছে, যাতে বাড়ি নিয়ে যেতে পারি।।

সমুদ্র স্নান করার সময় আমার বাবা যে কতবার পড়ে যাচ্ছিল ,সেগুলো সবই আমার ছবিতে ক্যাপচার হয়েছে। হাস্যকর কিছু কিছু ছবি, আর দুর্দান্ত ব্যাকগ্রাউন্ড এর কিছু ছবি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। ছবির মধ্যে খেয়াল করলে দেখতে পাবেন একটি কুকুর স্নান করতে নেমেছিল সমুদ্রে। ওকে দেখে আমার আরো মজা লেগেছে।

এইতো গেল সেদিনকার সকালের গল্প। পরের পোস্টে বাকি কথা শেয়ার করব। আজকের মত এখানেই শেষ করছি।