সোহাগে আদরে

in Incredible India4 hours ago (edited)

নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন।। গতকাল ফড়িং নামে একটি ক্যাফের কথা আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করছিলাম, চৈত্র মাসের শেষ দিন টা কিভাবে কাটল, তার মুহূর্তগুলো শেয়ার করছিলাম। গতকাল যেখানে শেষ করেছি, তারপর থেকে আজ লিখছি।

1000212026.jpg

যাইহোক অর্ডার দিয়ে নাম লেখাতে হলো যাতে যখন নামটা ডাকে, তখন যেতে পারি । ওখানে সেলফ সার্ভ করতে হয়।ভেতরে বসে থাকা একটা মেয়ের নাম ছিল তৃষা ছিল। সেই তৃষা কতগুলো খাবার অর্ডার দিয়েছিল, তা ভগবান জানে। তাকে নেই নেই করে পাঁচ বার ডাকা হলো। এবং সে পাঁচবার উঠলো। আর তাকে যতবার ডাকা হয়েছে সে বাইরে আসার আগে আমি উঠে দাঁড়িয়েছি। কারণ আমি তৃষা নামের জায়গায় ওই পাঁচবার নিজের নাম ঈশা শুনেছি।

1000212016.jpg

এই নিয়ে আমার পার্টনারের সাথে একটু বিবাদ বাধে। তাই প্রথমে আসা চিকেন স্যান্ডউইচ পুরোটাই আমার হবু বর গলদ্ধকরণ করে। আমি ততক্ষণ একটু রেগে বসে ছিলাম। সে খাওয়ানোর বহুবার চেষ্টা করেও সফল হতে না পেরে অবশেষে খাবারটাকে অপমান না করে নিজের পেটেই তুলে নেয়।

তারপরে আমার কিছু ভালো ভালো ছবি তুলে দেওয়ায় আমি যখন সন্তুষ্ট হলাম এবং আমার রাগ কমলো, তখন যখন পনির স্যান্ডউইচ টা হাজির হলো। তখন আমি আমার পার্টনারকে এক টুকরো না দিয়ে নিজে খেতে শুরু করলাম। প্রথম ছবিটা যেটা দেখতে পাচ্ছেন আমার চোখের, সেটাও তার তুলে দেওয়া। আমার কিন্তু ছবিটা ভীষণ পছন্দ হয়েছে। ওই মুহূর্তে আমি রেগে গেছিলাম।

1000212022.jpg

চিকেন স্যান্ডউইচে উপর দিয়ে এক গ্লাস টমেটো সস ঢেলে দেওয়ার জন্য আমার দেখেই বিরক্ত লাগছিল ,তাই পরবর্তীতে যখন পনির স্যান্ডউইচ দেয় তার আগেই আমি বারণ করে দিয়েছিলাম যেন কোনো রকম সস ব্যবহার না করে।

সবমিলিয়ে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে মান অভিমানের সমস্ত কিছু চুকিয়ে দুজন মিলে আবার হাত ধরা ধরি করে বেরিয়ে পড়লাম । ততক্ষণে হবু বরের মা এসে হাজির। মানে আমারও হবু মা। তিনি আমাকে নিয়ে ছুটলেন আমাদের যশোরেশ্বরী বস্ত্রালয় এ। তিনি কিছু শাড়ি দেখছিলেন। আমি ওনাকে হেল্প করলাম চুজ করতে। তারপর উনি আমাকে নিয়ে ছুটলেন থার্ড ফ্লোরে মেয়েদের সেকশনে ,যেখানে শাড়ি ছাড়া অন্যান্য কিছু পাওয়া যায়।

1000212013.jpg

সেখানে গিয়ে দুটো জামা আমাকে হাতিয়ে দিলেন। আমি একটা জামা নিতে চাইছিলাম বলে একটু বকুনি খেলাম। ওনার বাজেট অনুযায়ী উনি আমাকে দুটো জামাই দেবেন। একটা জামা নেয়া যাবে না । যে বাজেট আছে তার খেলাফ হওয়া যাবেনা। কম নেয়া যাবে না। এ কারণে আমি বিনা পয়সায় দুটো জামা পহেলা বৈশাখের আগের দিন জুটিয়ে ফেললাম। হাহাহা ।তাতে আমার ভেতরের আত্মার যে কতটা আনন্দ হল, তা আমি খুবই কন্ট্রোল করে রাখার চেষ্টা করলাম।

1000212024.jpg

পরবর্তীতে কাকিমার সাথে আবার বাইরে বেরিয়ে গোপাল ঠাকুরের জন্য জামা কিনলাম ,কিছু ফুলের মালা কিনলাম। একটা করে আইসক্রিম খেয়ে নিলাম। তারপর বাড়ির দিকে রওনা হলাম।

বলতে গেলে বিকেল থেকে সন্ধ্যে সাড়ে আটটা নটা অব্দি সময়টা অস্বাভাবিকভাবে ভালো কাটলো। মাঝে বাবা একবার ফোন করেছিল বকবে বলে যে, আমি কেন এতক্ষণ ধরে আমার হবু বরের সাথে ঘুরঘুর করছি। কিন্তু যখন জানতে পারলো হবু বরের মাও আছে, তখন কিছু আর বললো না।তাই আমি সে যাত্রায় বেঁচে গেলাম।

আজকে এখানেই শেষ করলাম। তারপরের ঘটনাবলী পরবর্তী পোস্টে শেয়ার করব।