বান্ধবীর সাথে কাটানো একটা দিন

in Incredible India7 hours ago

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন ।আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে। আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।

IMG20260422213221.jpg

গত ২২ এপ্রিল আমার এক খুব কাছের বান্ধবী এসেছিল আমার বাড়িতে বেড়াতে। সেই দিনের কিছু মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করব।তবে শুধু সেই দিনই বেড়াতে এসেছিল এমনটা নয়। মাঝেমধ্যে আমার কাছে চলে আসে।মনে দুঃখ, কষ্ট হলেই চলে আসে আমার বাড়িতে বেড়াতে। তবে প্রত্যেক দিনের আসাটা সমান হয় না। নিজের কাছের মানুষদের থেকে সেদিন হয়তো প্রচণ্ড কষ্ট পেয়েছিল। এক বুক কষ্ট নিয়ে আমার বাড়িতে এসেছিল। এর আগে এই বান্ধবীর সম্পর্কে অনেক কিছুই আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিয়েছিলাম ।আসলে ও হল আমার স্কুল জীবনের বান্ধবী। হাইস্কুলে পড়তে পড়তে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়েছিল। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পরেই সকলে যেমন আলাদা হয়ে যায়। আমরাও আলাদা হয়ে গিয়েছিলাম। আমার সমস্ত বান্ধবীরা আলাদা হয়ে গিয়েছিলাম।

IMG20260422213405.jpg

তবে এর মধ্যে ওর বিয়েও করে গিয়েছিল। আর কোন যোগাযোগ ছিল না। আমাদের সময়তে এত পরিমাণে ফোন ছিল না। তাই ফোনে এত যোগাযোগ রাখার কোন সুযোগ পাইনি। আমার বিয়ের পর হঠাৎ করে একদিন ফেসবুকের মাধ্যমে ওর সাথে পরিচয় হয়েছিল। এরপর থেকে আবার বাড়িতে আসা-যাওয়া শুরু হয়। ওর শ্বশুর বাড়িতে নানা রকম ঝামেলা অশান্তির কারণে বিয়ের পর থেকেই ঘর ভাড়া থাকতো। ওখান থেকে ওর মা-বাবা দুজনেই মেয়ে জামাইকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিল।ওরা দুজনে বাড়ির অমতে পালিয়ে বিয়ে করেছিল।কিন্তু ওর মা-বাবা বোন কোনদিনই ওর সাথে নাকি ভালো ব্যবহার করে না। নিজের মেয়ে হয়ে সৎ মায়ের মত ব্যবহার করে। ওর একটাই আফসোস মায়ের ভালোবাসা কোনদিনও পেল না।

IMG20260422213342.jpg

বাইশে এপ্রিল ছিল ওর একমাত্র বোনের জন্মদিন ।ওর মা ওকে বোনের জন্মদিনের নেমন্তন্ন করিনি। একই বাড়ির মধ্যে থেকে পাড়ার সকলকে নিমন্তন্ন করেছিলেন ।কিন্তু বোন দিদিকে নেমন্তন্ন করেনি। তাই আগের দিন রাত্রিবেলা আমাকে ফোন করে সমস্ত ঘটনা জানিয়েছিল ।তাই আমি আর না করতে পারিনি। আমি বলেছিলাম সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠে আমাদের বাড়িতে চলে আসতে। ও সেই মতো সকালবেলাতে ওর বর কাজে বেরোনোর সময় আমার বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে যাই। সেদিন সারাদিনটা খুব ভালোভাবেই হই হই করে কাটিয়ে দিয়েছিলাম। আমার শ্বশুর-শাশুড়িও ভীষণ পছন্দ করেন । আমি আবার কারোর কষ্ট থেকে একেবারেই সহ্য করতে পারি না। আমার শ্বশুর-শাশুড়ি মানুষজন খুব ভালোবাসেন। এরপর সন্ধ্যার সময় ওর বর কাজ থেকে ফেরার পথে আমাদের বাড়ি ঢুকেছিল ।আমি জোর করলাম সকলে রাতের খাবার খেয়ে তারপরে বাড়ি যাবে।

ওর মেয়েটা খুব ভালো যোগ ব্যায়াম করে। তাই ও বলছিল মাসীমণি আমার ব্যায়ামগুলো তুমি দেখবে। সারা সন্ধ্যে বিছানার উপরে ও ব্যায়ামগুলো দেখাতে থাকে। আমিও কয়েকটা ব্যায়াম ক্যামেরাবন্দি করেছিলাম। আসলে ছোট থেকেও আমিও ভীষণ ব্যায়াম করতে ভালোবাসতাম। খেলাধুলাতে খুবই ভালো ছিলাম ।যাইহোক এর পরে রাতের গল্প করতে করতে বেশ অনেকটাই রাত হয়ে গিয়েছিল। রাতে খাবারের বন্দোবস্ত করে রাতের খাবার খেয়ে রাত এগারোটার পর ওরা চলে গিয়েছিল বাড়িতে। বাড়িতে যাওয়ার পর তখন ওদের বাড়িতে অনুষ্ঠান চলছিল, ওর বোন ওর সামনে দিয়ে পাড়ার সকলকে বাড়িতে খেতে আসার জন্য ডাকাডাকি করছিল।

ও আবারো ফোন করে আমার কাছে কান্নাকাটি জুড়ে ছিল ।শুনেও ভীষণ খারাপ লাগছিল। এইসব জিনিসগুলো একেবারেই চোখে দেখা যায় না ।আমি ওকে বাড়িতে যেতে বারণ করেছিলাম। আমার বাড়িতে থাকতেই বলেছিলাম। ও সেটাই বাড়ি গিয়ে বলছিল। আর বারেবারে বলছিল তোর বাড়িতে আজ থেকে গেলেই হতো। এইরকম পরিবার হলে প্রত্যেকটা মেয়েদের জীবন খুবই কষ্টকর। নিজের কাছের মানুষদের কাছে থেকে আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা সকলের থাকে না।


আজ এইখানেই শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।