কৃষ্ণনগরে বারো দোল মেলাতে প্রথম দিন যাওয়ার মূহুর্ত
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
কৃষ্ণনগরের বারো দোল মেলা সম্পর্কে আপনারা অনেক কিছু এর আগের পোস্টের মাধ্যমে জেনে থাকবেন। কারণ প্রত্যেক বছরই মেলাতে যাওয়া হয়। সমস্ত কিছুই আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিই।কৃষ্ণনগরের বারো দোল মেলা একটা ঐতিহ্যপূর্ণ মেলা। এই মেলাতে বহু দর্শনার্থী বহুদূর থেকে শুধুমাত্র এই মেলা দেখবার জন্য আসে। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের শহরে কৃষ্ণচন্দ্রের রাজবাড়িতে বসে এই বিরাট মেলা। বিরাট এক প্রাঙ্গণ জুড়ে পুরোটাই শুধু মেলা আর মেলা। এই মেলার মাঠ আগে আরো অনেক বড় ছিল যেহেতু রাজরাজার সম্পত্তি তাদের উত্তরাধিকারীরা হয়তো কেউ কৃষ্ণনগরে বসতি করে থাকেন।আবার কেউ হয়তো বাইরে থাকেন ।এই কারণে বহু মানুষ আশেপাশে বসতি করে থাকেন। কিংবা নিজেরাই বিক্রি করে দিয়েছেন।তাই হয়তো প্রাঙ্গণটা একটু হলেও কমে গেছে। কিন্তু তাও বিরাট প্রাঙ্গণ জুড়ে মেলা বসে। এই মেলা বহু বছরের পুরনো, কৃষ্ণনগরে বারো দোল মেলা বললে এককথায় সকলেই বুঝতে পারে।
যে দেখেছে সেই হয়তো জানবে এই মেলাটা ঠিক কতটা আনন্দের ।আমাদের কৃষ্ণনগরবাসীরা একটা বছর অপেক্ষায় থাকি এই বারো দোল মেলার জন্য। হয়তো মেলার কোন বিশেষ বিষয়বস্তু নেই ।কিন্তু এই মেলাতে যেন যেতে একটু অন্যরকম আবেগ কাজ করে। কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পূজা আর বারো দোল মেলা এই দুটোই ভীষণ বিখ্যাত ।জগৎ জুড়ে এই দুটোর নাম ছড়িয়ে পড়েছে। এ বছরে মার্চ মাসের শেষের দিকে বসেছিল বারো দোল মেলা। কিন্তু প্রথম প্রথম একটু আধটু ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। আর যাওয়ার তেমন কোন লোক পাচ্ছিলাম না বলে যাওয়া হয়ে ওঠেনি। সেদিন হঠাৎ করেই মামার মেয়ে বায়না ধরল আমাকে মেলা দেখতে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আমি যেতে রাজি হয়নি। তাই মামা শুধু বোনকে একা নিয়ে যাবে না ।তাই বোনের কান্নাকাটি দেখে আমি যেতে রাজি হয়েছিলাম। আমি বোন আর মামা তিনজন মিলে বেরিয়ে পড়েছিলাম বারো দোল মেলা দেখতে।
আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় পাঁচ থেকে সাত মিনিট লাগে টোটোতে যেতে। বাড়ির কাছ থেকেই টোটো ধরে ঠিকঠাকই যাচ্ছিলাম। কিন্তু অর্ধেক রাস্তায় প্রচণ্ড জ্যামে আটকে গিয়েছিলাম ।এখন ইলেকশনের সময় রাস্তাতে যেকোনো জায়গাতেই প্রচন্ড ভিড় হয়ে যাচ্ছে। তাই অর্ধেকের রাস্তাতে নেমে আমরা তিনজন মিলে হাঁটতে হাঁটতে চলে গিয়েছিলাম বারো দোলের মেলায়। এরপর মেলার ভেতর ঢুকে বেশ ভালোই লাগছিল ।তবে সেদিন ছিল প্রচন্ড ভিড় । ভিড় ঠেলে মেলা দেখতে আমার একেবারেই ভালো লাগেনা। তাতে ছিল আবার প্রচন্ড গরম। এবার মেলা বসার ধরনটা একটু অন্যরকম ছিল। কারণ অন্যান্য বছরে যেমন ভাবে মেলা বসে এ বছর একটু উল্টোপাল্টা ভাবেই বসেছিল।
এ বছরে যেহেতু সার্কাস আসেনি। তাই সমস্ত কিছু ভাগ ভাগ করে দিয়েছিল। ছোটবেলায় প্রত্যেক বছরই সার্কাস দেখতাম ।আসলে এইসব জিনিস মানুষের মধ্যে থেকে যেন একেবারেই লুপ্তপ্রায় হয়ে যাচ্ছে। মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা বসে সার্কাস আর দেখতে চাই না। তাই এবছরে একেবারেই সার্কাস আসেনি। তাই একধারে নাগরদোলা বসার জন্য পুরোটাই ঘিরে দিয়েছে। এবছর নতুন নতুন নাগরদোলা এসেছে।আর অন্যান্য দিকে বিভিন্ন রকমের দোকান বসেছে। আর এক ধারে বসেছে বিগ বাজার বলে একটি বাজার। বিগবাজার খানিকক্ষণ ঘোরাফেরা করার পর বোন কয়েকটা জিনিস কিনে নিয়েছিল ।এরপর ওখান থেকে বেরিয়ে চলে গিয়েছিলাম অন্য দোকান গুলোতে। সেখানে বিভিন্ন রকমের জিনিসপত্র পাওয়া যায়। বেশ কয়েকটা জিনিসপত্র কেনার ছিল। সেগুলো কেনাকাটা করে নিয়েছিলাম।
এরপর বাড়ির জন্য জিলিপি ,বাদাম ,নিজেদের জন্য এগ রোল কিনে একটা করে আইসক্রিম খেতে খেতে বাড়ির পথে রওনা দিয়েছিলাম। প্রায় দু'ঘণ্টার মতো মেলাতে কাটিয়েছিলাম। তবে প্রথম দিনে বারোদোলে গিয়ে বেশ ভালোই লেগেছিল। প্রথম দিনে মেলাতে ঘোরাঘুরির সুন্দর মুহূর্ত শেয়ার করে নিলাম।
আজ এইখানেই শেষ করছি ।আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।




Thank you 🙏