"প্রথমবার ড্রাগন ফুলের পরাগায়ন করার অভিজ্ঞতা"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আমাদের গাছে যখন প্রথম ড্রাগন ফল ধরেছিলো,তখন আপনাদের সকলের সাথে তার গল্প শেয়ার করেছিলাম।
প্রথমবার আমাদের গাছে তিনটে ফল ধরেছিলো এবং সেগুলো পেঁকে যাওয়ার পরে পুজোতে ভোগ হিসাবে তা নিবেদনও করেছিলাম। তখন ভেবেছিলাম হয়তো এই বছর আর ফল হবে না।
তবে হঠাৎ করেই কয়েকদিন আগে আরও একটা ফুল দেখতে পেলাম গাছে।ভেবেছিলাম হয়তো গাছে আরও এক দুটো ফুল হয়েছে। তবে সারা গাছ ভালো করে দেখলাম, মাত্র ওই একটাই ফুল হয়েছে।
![]()
|
|---|
যাইহোক গতবার ড্রাগন ফল গুলো আকারে খুব একটা বড় হয়নি। তবে মামীকে ড্রাগন ফলের ছবি দেখানোর পরে, মামী বলেছিলো ড্রাগনের যখন ফুল ফোটে তখন সেই ফুলটায় পরাগায়ন করতে হয়। এই বিষয় সম্পর্কে যদিও আমি জানতাম না, তাই যথারীতি ইউটিউবের শরণাপন্ন হলাম।
আর সেখান থেকেই দেখে এইবার আমাদের ড্রাগন ফুলটিতে আমরাও পরাগায়ন করেছি। জানিনা আদেও এবারের ফলটা বড় হবে কিনা। প্রথমত যেদিন ফুলটা দেখেছিলাম ফুলটা যথেষ্ট ছোটো ছিলো।
মাঝের দুদিন আর তেমনভাবে লক্ষ্য করা হয়নি। এরপর একদিন সন্ধ্যা দিয়ে ছাদের দরজা বন্ধ করতে গেছি, তখন দেখলাম ফুলটি অনেকটাই বড় হয়েছে এবং দেখে মনে হচ্ছিলো যেন সেদিন রাতেই ফুলটা সম্পূর্ণ ফুটে যাবে।
![]()
|
|---|
মাঝখানে টানা বৃষ্টি হয়েছে বেশ কতদিন। যেদিন ফুলটা ফুটে ছিলো সেদিনও একটানা বৃষ্টি হয়েছিলো সন্ধ্যা থেকেই। আর সত্যি কথা বলতে, একা একা এটা কিভাবে করবো বুঝতেও পারছিলাম না। তাই শুভর অপেক্ষা করছিলাম।
শুভ অফিস বাড়িতে এসেছিলো। তারপর যথারীতি সময় কাটিয়ে, ডিনার সম্পন্ন করে, ঘুমোতে যাওয়ার আগে আমি ওকে বললাম এই রকম ভাবে নাকি ড্রাগন ফুলের পরাগায়ন করলে, ফলটা অনেকটা বড় হয়।
ও যদিও বিষয়টা খুব একটা বিশ্বাস করেনি। আমিই একটু জোর করছিলাম। একবার করে দেখা যেতেই পারে। যেহেতু মামিও বলেছিলো, তাই একপ্রকার ওকে জোর করেই ছাদে নিয়ে গিয়েছিলাম ।সেই মুহূর্তে যদিও বৃষ্টি পড়ছিলো না। তবে ফুলের গায়ে বৃষ্টির ফোঁটা গুলো ভালোই বোঝা যাচ্ছিলো।
![]()
|
|---|
তাই দুজনে মিলে ছাদে গিয়ে যেভাবে ইউটিউবে পরাগায়ন করার পদ্ধতি দেখানো হয়েছিলো, সেই রকমভাবেই আমরাও করলাম। আসলে এই ফুলটি একটা রাতের জন্যই সম্পূর্ণ ফোঁটে। আর সেই সময় এটিতে পরাগায়ন করতে হয়।
পরের দিন ফুলটা যথারীতি নুইয়ে যায়, তাই সেদিন আর করা সম্ভব হয় না। তাই সেদিন রাতে যদি আমরা ওটা না করতাম, পরদিন ফুলটি একেবারে নুইয়ে যেতো, যেমনটা আপনারা উপরের ছবিটায় দেখতে পারছেন। এই ছবিটা আমি পরাগায়ন করার পরের দিন সকালে ছাদে গিয়ে তুলেছিলাম।
![]()
|
|---|
যদিও পরাগায়ন করার অভিজ্ঞতা আমার এই প্রথমবার। তবে এখন শুধু অপেক্ষা করছি, আদেও প্রথমবারের তুলনায় পরের বার ড্রাগন ফলটা বড় হয় কিনা। সেটাই দেখার অপেক্ষায় আছি।
তবে হ্যাঁ একটা কথা বলতেই, হবে ড্রাগন ফলের রং যতটা সুন্দর, ফুলটা তার থেকে অনেক বেশি সুন্দর। আসলে যারা আমার পুরনো লেখা পড়েছেন, তারা অনেকবার হয়তো আমার লেখায় এই কথার উল্লেখ পেয়েছেন যে, সাদা রং আমার ভীষণ প্রিয়। আর সাদা রংয়ের ফুল ব্যক্তিগতভাবে আমি পছন্দ করি।
![]()
|
|---|
ড্রাগন ফুলটা এতোই বড় ছিলো এবং সাদা রঙের পাপড়ি গুলো এতো সুন্দর লাগছিলো যে, সেটা আপনারা হয়তো ছবি দেখেই বুঝতে পারছেন। এইরকম ভাবে বাড়ির ড্রাগন গাছের ফুলে আপনারা পরাগায়ন করেন কিনা, আর করার পরে আদেও ফলের সাইজের কোনো পরিবর্তন হয় কিনা, সেটা মন্তব্যের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না।
যাইহোক এটা যেহেতু জীবনের প্রথম অভিজ্ঞতা ছিলো, তাই আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। আর পরবর্তীতে যদি সত্যিই ড্রাগন ফলটি আকারে আগের তুলনায় বড় হয়, সেটাও আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
আজকের লেখা এখানেই শেষ করছি। আশাকরি আপনাদের সকলের দিনটা খুব ভালো কেটেছে এবং আগামী দিনগুলো খুব ভালো কাটুক, সেই প্রার্থনা রইলো। ভালো থাকবেন।






