"ভোটের ‌কারনে‌ আজ সারাদিন অনেক ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে পার হলো"

in Incredible Indiayesterday
IMG_20260429_224248.jpg
"ভোট দানের পরে সকলের একসাথে তোলা ছবি"

Hello,

Everyone,

আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটা খুব ভালো কেটেছে।

আজকের দিনটা আমার বেশ‌ ব্যস্ততার মধ্যে কেটেছে। কারণ আজকে আমাদের এখানে ভোট ছিলো। বিয়ের যদিও অনেক বছর হয়েছে, তবে কাগজপত্রে বাপের বাড়ির ঠিকানা আজও পরিবর্তন করা হয়নি।

আমার বিয়েরও প্রায় ৬-৭ বছর আগে বিয়ে হয়েছে আমার দিদির। দিদিও এখনও পর্যন্ত ঠিকানা বদলায় নি। তাই প্রতিবছর ভোটের দিন আমি আর দিদি একসাথেই গ্ৰামের বাড়িতে যাই। আজও তার অন্যথা হয়নি।

তাই খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে বেড়িয়ে পরলাম বাপের বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে। দিদি দমদম ক্যান্টনমেন্ট থেকে যে ট্রেনে উঠবে, আমিও সেটাতেই উঠবো দত্তপুকুর স্টেশন‌ থেকে এমনটাই কথা হয়েছিলো।

IMG_20260429_060555.jpg
"সকালের আকাশ- স্টেশনে দাঁড়িয়ে তোলা ছবি"

বাড়ি থেকে যখন বেড়োলাম আকাশ মেঘলা ছিলো। তখন থমথম করছে চারিদিকে। কেন্দ্রীয় বাহিনী টহলদারি করছে। তবে ওনরা বোধহয় বুঝতে পেরেছেন আমিও ভোট দিতে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই বেড়িয়েছি। তাই আমাকে কিছু বলেনি।

IMG_20260429_060611.jpg
"এটা দমদম ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন, একেবারেই ফাঁকা বলা যায়"

টিকিট কেটে স্টেশনে পৌঁছে দেখলাম খুব একটা ভিড় নেই। দিদিও দমদম ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে পৌঁছে সেখানকার একটা ছবি আমাকে ফোনে পাঠিয়েছিলো, ঐ স্টেশটা পুরোই ফাঁকা ছিলো তখন। তবে ট্রেন আসার কিছুক্ষণ আগে দেখলাম বেশ ভিড় বেড়ে গিয়েছিলো।

IMG_20260429_071835.jpg

IMG_20260429_071940.jpg

"মছলন্দপুর স্টেশনে নেমে তোলা ছবি। অতো‌ সকালেও মানুষের ভিড় উপচে পরছিলো"

আমরা যখন মছলন্দপুর স্টেশনে নামলাম তখন মানুষের ভিড় দেখে অবাক হলাম। সব মানুষই বোধহয় আমাদের মতন সকাল সকাল ভোট দিতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করেছে, না হলে বনগাঁর দিকে যাওয়ার সকালের ট্রেনে কখনোই এতো ভিড় হয় না। আমি ট্রেন থেকে নেমে দিদির জন্য অপেক্ষা করলাম।

IMG_20260429_072650.jpg
"বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য অটোর জন্য ‌অপেক্ষা করার মুহূর্ত"

তারপর একসাথে বাড়ি ফেরার জন্য প্রায় ৩০ মিনিটের উপরে অটো, ভ্যান, টোটো পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হলো। ভেবেছিলাম সকাল সকাল পেলে বাড়িতে তাড়াতাড়ি পৌঁছে যাবো, কিন্তু হলো তাই একেবারেই উল্টো।

অটো এসে দাঁড়ানোর পর মুহূর্তের মধ্যে লোকজন ভরে গেলো। আমরা জায়গা পেলাম না। তারপর একটা ভ্যানে করে রওনা‌ করলাম। ভ্যান‌ অনেকটা ঘুরে ঘুরে গেলো। অবশেষে পৌঁছালাম বাড়িতে। সেখানে সকলের সাথে দেখা হলো ঠিকই, কিন্তু সেখানেও পরিবেশ বেশ থমথমে ছিলো।

IMG_20260429_225531.jpg
"সকালে ব্রেকফাস্ট পরোটা"

আমার বান্ধবী রাখীর বাড়িতে বেশ কিছুটা সময় কাটালাম। ভোট দিতে আশেপাশের আরও দু তিনজন বান্ধবী এসেছে, ওদের সাথেও দেখা হলো অনেকদিন বাদে। সকালে খাওয়ার জন্য দোকান থেকে পরোটা নিয়ে এসেছিলো বান্ধবীর দাদা। সকলে একসাথে খাওয়া দাওয়া করে একটু বাদে গেলাম ভোট দিতে।

IMG_20260429_151621.jpg
"বান্ধবীর ছেলের মুখটা দেখুন কি সুন্দর লাগছে। ছবি তোলার সময় সেও নিজের আঙ্গুলটা দিয়েছে।"

ভোটকেন্দ্রে বেশ কড়া‌ নজর ছিলো এবছর। মোবাইল ফোন নিয়ে ভিতরে ঢোকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিলো। তবে ভোট হয়েছিলো শান্তিপূর্ণ ভাবেই। আমার বান্ধবীর ছেলে ওর মায়ের সাথে ভোট দিতে যাবে বলে বায়না ধরলো। শেষ পর্যন্ত ওকে সাথে নিয়েই বান্ধবী ভিতরে গেলো, আর ওর আঙুলেও ওখানকার কর্মী কালির দাগ দিয়ে দিলো। তাতে খুব খুশি হলো সে।‌ আমাদের সবার সাথে ছবিও তুলছে।

IMG_20260429_225646.jpg
"বান্ধবীর বাড়িতে চিকেন কষা রান্না করার মুহূর্ত"

ভোট শেষে বাড়িতে ফিরে সকলে একসাথে বসে গরম ভাত ও চিকেন কষা খেলাম। এই আয়োজনটা সকলে মিলেই‌ করা হয়েছিলো। বহুদিন বাদে একসাথে জমিয়ে খাওয়ার পর্ব শেষ হলো।

আজকে সারাদিন আবহাওয়াটা দারুন ছিলো। মেঘলা আকাশ ও তার সাথে বয়ে চলা বাতাস, মানুষকে সুষ্ঠভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে সাহায্যে করেছিলো। যাইহোক বিকালের দিকে একটু ঝোড়ো হাওয়া বইছিলো। তবে আমাকে বাড়িতে ফিরতে হবে, এমন উদ্যোগ নিয়ে আর বেশি দেরি না‌ করে ফেরার জন্য তৈরি হয়ে নিলাম।

IMG_20260429_211121.jpg
"ভোটের স্লিপ, আজকের দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পেপার"

তারপর বেশকিছুক্ষন অপেক্ষা করার পর আমি একটা ভ্যান পেলাম। আর সোজা স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত না‌ হওয়ার কারনে, ঠিক সময়ে গাড়ি পেয়ে গিয়েছিলাম। আর ঠিক ভাবে বাড়িতেও পৌঁছে গেলাম। এইভাবেই আজ‌ ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে দিনটা অতিক্রম করলাম। ভোট গ্ৰহনপর্ব শেষ হলো, এখন অপেক্ষা শুধু ফলাফলের।

ভালো থাকবেন সকলে। শুভরাত্রি।

Sort:  

IMG-20260401-.jpg

Posted using SteemX



Curated by: @mahadisalim

Loading...