"ছাদ বাগানের গল্প :- 'শেষ পর্ব' "
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন। আর আপনাদের সকলের আজকের দিনটি অনেক ভালো কেটেছে। আমার দিনটাও মোটামুটি ভালোই কেটেছে।
ফোনের গ্যালারিতে পুরনো ছবিগুলো দেখতে দেখতে হঠাৎ খেয়াল করলাম বেশ কিছু ছবির সম্পর্কে আপনাদের সাথে লেখা শেয়ার করা হয়ে ওঠেনি। অবশ্য অনেকদিন আগে শশুর মশাইকে নিয়ে হসপিটালে থাকাকালীন সময়ে, শুভর মামা বাড়ির ছাদে তোলা সেই ছবিগুলোর মধ্যে থেকে কিছু ছবি নিয়ে, ইতিমধ্যে আমি আপনাদের সাথে দুটো পোস্ট শেয়ার করেছিলাম।
যেখানে মামা বাড়ির ছাদে লাগানো বেশ কয়েক ধরনের গাছ নিয়ে আপনাদের সাথে আলোচনা করেছিলাম। তাদের মধ্য থেকে কয়েকটি গাছের ছবি আর পরবর্তীতে শেয়ার করা হয়ে ওঠেনি। অন্যান্য লেখা শেয়ার করার কারণে, কিছু ছবি গ্যালারিতেই বাকি রয়ে গেছে।
তাই ভাবলাম আজকে ছাদ বাগানের গল্পের তৃতীয় পর্বের মাধ্যমে সেই সকল ছবিগুলো আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করি। যারা আমার পূর্বের দুটি পর্ব পড়েননি, তারা অবশ্যই একবার পড়তে পারেন ছাদ বাগানের গল্প :- 'প্রথম পর্ব' এবং ছাদ বাগানের গল্প :- 'দ্বিতীয় পর্ব'। আশাকরি আপনাদেরও পোস্টগুলো পড়ে এবং সেখানে শেয়ার করা ছবিগুলো দেখে বেশ ভালো লাগবে।
|
|---|
![]() |
|---|
উপরে যে ছবিটি দেখতে পারছেন এটির আসল নাম আমি ঠিক জানিনা। তবে আমরা এটিকে বিলাতি ধনেপাতা নামেই চিনি। যে ধনেপাতা আমরা বাজারে প্রায়শই কিনতে পারি, এই ধনেপাতার গন্ধটা তেমন নয়। কিন্তু এর যে নিজস্ব গন্ধ, সেটাও বেশ ভালোই লাগে।
মূলত এই গাছটিতে পাতা কম বরং ফুল বেশি। এই ফুল থেকেই ফল হয় এবং সেখান থেকে বীজ এই টবে পড়েই আবার পুনরায় সেটা থেকে গাছ হয়। এই গাছগুলোকে যদি একটা জায়গায় লাগানো হয়, এইরকম ভাবেই বেশ কিছু জায়গা জুড়ে প্রচুর গাছ হয়ে যায়। আলাদা করে আর চারা বসানোর প্রয়োজন হয় না।
ছাদে ঘোরাঘুরির সময় এই গাছটির ফুলগুলো বেশ নজর কেড়েছিলো। তাই তার ছবিও তুলেছিলাম। গোড়ার দিকে সরু সবুজ রঙের পাতাও দেখতে পারছেন, সেটাই মূলত আমরা খাবারের মধ্যে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করে থাকি। প্রসঙ্গত বলে রাখি এই ধনেপাতা কুচি দিয়ে আপনি যদি ঝাল মুড়ি মেখে খান, তার একটা আলাদাই স্বাদ হয়।
|
|---|
![]() |
|---|
আজ তৃতীয় পর্বে আমি আপনাদের সাথে প্রথমে যে ছবিটি শেয়ার করবো, সেটি হলো টমেটো গাছের ছবি। টমেটো গাছগুলো কোনো চারা কিনে লাগানো হয়নি। বাড়িতে যে সব্জি রান্না করা হয়, তাতে টমেটোও দেওয়া হয় এবং সেই পাকা টমেটোর বীজগুলো শুভর মাসি টবের মধ্যে ফেলে রেখেছিলো। সেখান থেকেই দুটো গাছ হয়েছে। তবে গাছগুলোতে যে এতো পরিমান টমেটো হবে, এটা সত্যিই কেউ ভাবেনি।
আর শুভর মামা সমস্ত গাছে সার দেওয়ার সময় এই গাছেও অল্প সার দিতেন। তবে সবটাই জৈব সার। বাজার থেকে রাসায়নিক বা কীটনাশক কোনো কিছুই মামা ছাদের গাছগুলো ব্যবহার করেন না।
![]() |
|---|
যাইহোক আশাকরি গাছগুলো দেখেই আপনারা বুঝতে পারছেন যে এই গাছগুলোতে কত পরিমাণ টমেটো হয়েছে। মাসির কাছ থেকে শুনেছি, ওই গাছের টমেটো দিয়েই বেশ কয়েক দিন মাসিদের রান্না হয়ে গিয়েছিলো। আসলে নিজেদের গাছের সবজি হোক, ফল হোক বা ফুল হোক, সেগুলো নিজের হাতে তুলতে ভীষণ ভালো লাগে।
|
|---|
![]() |
|---|
উপরের যে ছবিটি দেখতে পারছেন, এটা কাঁঠাল গাছের চারার ছবি। আপনারা সকলেই জানেন কাঁঠাল গাছ এতো ছোট হয় না, মূলত এই চারা গাছগুলোকেই যখন আলাদাভাবে লাগানো হয়, কয়েক বছরের মধ্যে সেই গাছগুলো আরও বড় হয়ে ওঠে। মামা নিজেই টবের মধ্যে কাঁঠাল বীজ দিয়ে এই চারা গুলো তৈরি করেছে। এই কারণে একটা টবের মধ্যে তিন-চারটে করে চারা তৈরি করেছে। এরপর এই টব থেকে চারা গাছগুলো তুলে মামা আলাদা আলাদা ভাবে লাগাবে বলে ঠিক করেছিলো।
এই কাঁঠালের বীজগুলো বাজার থেকে কিনে আনা একটা কাঁঠালের থেকেই মামা আলাদা করে রেখেছিলো। কারণ ঐ কাঁঠালটা নাকি খেতে খুবই ভালো ছিলো। তাই মামা ওই একই গাছের থেকে নতুন করে কাঁঠাল গাছ লাগানোর জন্য, আলাদা করে চারা তৈরি করেছিলো। শাশুড়ি মার কাছে শুনেছি মামা কাঁঠাল খেতে ভীষণ পছন্দ করেন। তাই বোধহয় কাঁঠালের চারার প্রতি মামার এক আলাদা যত্ন আছে।
|
|---|
![]() |
|---|
এটাও চারা গাছেরই একটা টব। যেখানে বেগুন গাছ এবং তুলসী গাছের চারা তৈরি করা হয়েছে। এগুলোকে মামা পরবর্তীতে আলাদা করে লাগাবে ঠিক করেছিলো।
|
|---|
![]() |
|---|
আর এগুলো অ্যালোভেরা গাছ।সেটা আশা করছি আপনারা সকলেই ছবি দেখে বুঝতে পারছেন। অ্যালোভেরা গাছগুলোর উপরের অংশ প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। একটা টবের মধ্যেই গাছগুলো অনেক দিন ধরেই হয়ে আছে। মামা বাড়িতে খুব বেশি অ্যালোভেরা কেউই ব্যবহার করে না। তবে শখের কারণে সব গাছের সাথে সাথে মামা এটাও লাগিয়ে রেখেছে। যাতে হঠাৎ করে প্রয়োজন হলে যে কেউ ছাদ থেকে নিতে পারে।
|
|---|
![]() |
|---|
করমচা আপনারা কে কে খেয়েছেন, আর কারা খেতে পছন্দ করেন, মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন। উপরের যে গাছটি আপনারা দেখতে পারছেন, এটা করমচা গাছ। যদিও যখন আমি ছবি তুলেছিলাম, তখন গাছে করমচা ছিলো না। তবে নতুন পাতায় গাছটা সম্পূর্ণ ভর্তি ছিলো।
মামা বাড়িতে প্রতি বছর অনেক করমচা হয়। মামার বাড়ি থেকে কেউ এলে করমচা তুলে আমার জন্য অবশ্যই পাঠায়। করমচা খেতে যে আমি ভীষণ পছন্দ করি এমন নয়। কারণ আমার ভীষণ টক মনে হয়। তবে করমচা দিয়ে চাটনি তৈরি করলে তার স্বাদ অসাধারন হয়। আমি আমার মামীর হাতে তৈরি করমচার চাটনি একবার খেয়েছিলাম অসাধারণ ছিলো সেই স্বাদ।
![]() |
|---|
আপনারা কেউ গরম চা দিয়ে চাটনি তৈরি করে খেয়েছেন কিনা জানাবেন। মামা বাড়িতে ছাদের একটা কোণে বড় একটা টবের মধ্যেই করমচা গাছটি হয়েছে। প্রতিবছর যেটার ফল মামা বাড়ির সকলেই কম বেশি উপভোগ করে, সেই সাথে আমরাও।
|
|---|
![]() |
|---|
সবশেষে যে ছবিটি শেয়ার করবো এটা রাবার গাছ। হয়তো আপনারা অনেকেই চিনে থাকবেন। তিনটি পর্ব মিলিয়ে আপনাদের সাথে যতগুলো গাছের ছবি শেয়ার করেছি, তার মধ্যে থেকে এই একটা গাছ মামার মেয়ে খুব শখ করে বাজার থেকে কিনে এনেছিলো। মামাও যত্ন নিয়ে গাছটিকে এতো সুন্দর করে বড় করেছে। সত্যিই সুন্দর লাগছিলো গাছটা দেখতে। কিন্তু এটি লাগানোর ইচ্ছে ছিলো মামার মেয়েরই। তাই মেয়ের ইচ্ছে পূরণ করার জন্য একটা আলাদা টবে এই গাছটা লাগিয়েছিল মামা।
যাইহোক আজকে এই পর্বের মাধ্যমে মামা বাড়ির ছাদ বাগানের যে ছবি তুলেছিলাম, সেগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করা শেষ হলো। আপনাদের মধ্যে কাদের এই ধরনের ছাদ বাগানের গল্প পড়তে, বা ছবি দেখতে, কিংবা কারা ছাদ বাগান করে গাছের যত্ন নিতে ভালোবাসেন, সেটা অবশ্যই জানাবেন।
সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজকের লেখা এখানেই শেষ করছি। শুভরাত্রি।











I loved how you wove the story of the hospital visit and the beautiful memories associated with the photos from the rooftop garden. 🌳💛