"প্রিয় কোনো মানুষের শারীরিক অসুস্থতার খবর, আমাদের মানসিকভাবে অসুস্থ করে তোলে"
![]() |
|---|
Hello,
Everyone,
আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই এমন কিছু কিছু মানুষ আছে, যাদের সাথে রোজ দেখা না হলেও, কথা না হলেও, আমাদের জীবনে তাদের উপস্থিতিই আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি হয়ে থাকে।
অনেকগুলো দিন হয়ে গেলো বাড়িতে একাই আছি। না, সম্পূর্ণ একা বলাটা ভুল হবে। আমি আর শুভ আছি। তবে হিসাব মতো সারাটাদিন আমাকে একাই থাকতে হয়। কারণ শুভ অফিসে বেরিয়ে গেলে সম্পূর্ণ বাড়িতে আমি একাই থাকি।
সংসারের কাজ, ঠাকুর পুজো, পছন্দের গান, আর নীরবতা এটাই যেন সঙ্গী হয়েছে গত কয়েকদিন। জানি এই মুহূর্তে বাড়ি ফাঁকা, চাইলেই সকলের সাথে ফোনে অনেকক্ষণ গল্প করতে পারি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে পারি, কিন্তু কেন জানি না এ সমস্ত কোনো কিছুই এখন আর ইচ্ছে করে না।
তার থেকে চুপচাপ নিজের মত কাজ করি, না হলে গান শুনি, আর তাও যদি ভালো না লাগে চুপচাপ শুয়ে থাকি। এইভাবেই দিনযাপন করতে যেন আজকাল বেশি ভালো লাগে। অনেক সময় কিছু মানুষের ফোন তুলতেও ইচ্ছা করে না, কারণ জানি তাদের সাথে কথা বলা মানে আবার পুনরায় চারপাশ থেকে মানসিক অশান্তি ঘিরে ধরবে আমাকে। ফলতো সেই মুহূর্তের জন্য তাদের ফোন এড়িয়ে চলাই উত্তম মনে করি।
অনেকদিন হয়ে গেছে দিদি, মামী, বাবা কারোর সাথেই কথা হয় না। আজ বাবা ফোন করেছিলো। বাবার অরিজিনাল ডকুমেন্টস গুলো আমার কাছে আছে, ভেবেছিলাম হয়তো সেগুলো প্রয়োজন রয়েছে তাই জন্য ফোন করেছে। তবে তেমন নয়। যেহেতু অনেকদিন কথা হয় না তাই বাবাই ফোন করে খবর নিলো।
বাবাকে জানালাম শাশুড়ি মা বাড়িতে নেই তাই ব্যস্ততা রয়েছে। কিন্তু আদেও তেমন কোনো ব্যস্ততা সত্যিই নেই। শুধু কারো সাথে এখন আর কথা বলতে ভালো লাগে না, কোথাও যেতে ইচ্ছা করে না। তবে এইসব অনুভূতির কথা বাবাকে মন খুলে বলার অভ্যাস নেই, কিংবা হয়তো বললে বাবা বুঝতেও পারবে না, অথবা বাবা টেনশন করবে, এই সমস্ত ভেবেই আর কিছুই বললাম না।
যাইহোক বাবার সাথে কথা প্রসঙ্গে জানতে পারলাম আমার মামীর শরীরটা বেশ খারাপ। দিদির হসপিটালে ডাক্তার দেখাচ্ছে। সংবাদটা জানার পরে মনটা খারাপ হলো। কারণ আমার জীবনে মামীর ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমার মা মারা যাওয়ার পরে মামী যেভাবে আমাকে আগলে রেখেছে, সেগুলো যদি এখন ভুলে যায় তাহলে সেটা বেইমানি করা হবে।
![]() |
|---|
তাই খবরটা পাওয়ার পর আর ফোন না করে পারলাম না। মামীর নিজস্ব কোনো ফোন নেই, সুতরাং বোনের ফোনে ফোন করে কথা বললাম। মামীর গলব্লাডারের স্টোন ধরা পড়েছে, আর অপারেশন করা অত্যন্ত জরুরী। তাই দিদির সাথে যোগাযোগ করে দিদির হসপিটালে দুদিন গেছে।
প্রথম দিন ডাক্তার দেখিয়েছে, আর পরদিন কিছু টেস্ট করেছে। আরও কিছু টেস্ট করা বাকি রয়েছে। যেগুলো করার পর আবার ডাক্তার দেখালে, তিনি হয়তো অপারেশনের ডেট দেবেন। মামীর শরীরটা বেশ খারাপ, কথা বলে বুঝলাম অনেকখানি দুর্বল। আমি জানি এই মুহূর্তে মামীকে একবার দেখতে যাওয়া খুব দরকার।
তবে আমার নিজের ভেতরে কি চলছে সেটা আমি সত্যিই জানিনা। ইচ্ছাই করে না বাড়ি থেকে বেরোতে। শশুর মশাই অসুস্থ থাকা কালীন সময় থেকে মামা বাড়িতে যাই না। যদি হিসেব করে দেখি তাহলে প্রায় এক বছরের কাছাকাছি মামাবাড়িতে গিয়ে থাকা হয় না। অথচ এর আগে আমি মাঝেমধ্যেই একটা দিন মামা বাড়িতে গিয়ে থেকে আসতাম। সে সব গল্প আপনাদের সাথে পুরনো অনেক পোস্টে শেয়ারও করেছি। তবে আজকাল যেন আর ভালো লাগে না।
কিন্তু হ্যাঁ একটা সময় মামি আমাকে একেবারেই একা ছাড়েনি। আমার পছন্দের খাবার রান্না করলেই বোনকে দিয়ে পাঠিয়ে দিতো, কিংবা আগের দিন আমাকে ফোন করে যেতে বলতো এবং আমিও তখন সুন্দর চলে যেতাম। মাঝে মধ্যে শাশুড়ি মা অসন্তুষ্ট হতেন সেটাও বুঝতে পারতাম।
কিন্তু সময়ের পরিবর্তন মানুষকে কোথায় এনে দাঁড় করায় দেখুন। আজ কিন্তু কেউ অসন্তুষ্ট হওয়ার নেই, শাশুড়ি মা বাড়িতেও নেই, শুভর মানা নেই, ও অফিসে চলে যাওয়ার পর আমি চাইলেই মামা বাড়ি থেকে ঘুরে আসতে পারি। কিন্তু আজকাল যেন সেই চাওয়াটাই কোথাও হারিয়ে গেছে।
একবার ভাবি গিয়ে ঘুরে আসবো। পরক্ষণেই মনে হয় ঘরের কাজ সেরে, পুজো দিয়ে যেতে যেতে অনেকটা দেরি হয়ে যাবে। তারপর আবার বাড়িতে ফেরার তাড়া। অথচ এইটুকু সময়ের জন্যেও আগে বাড়ির থেকে বের হওয়ার কি একটা অদ্ভুত তাগিদ অনুভব করতাম। তবে আজকাল সেটা আর করি না।
![]() |
|---|
এই সমস্ত বিষয়গুলো কেন হচ্ছে তা সত্যিই জানিনা। তবে এখন আর কোনো কিছু ভালো লাগে না। নিজের মতো একা থাকাতেই যেন সব থেকে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। তবে কিছু ক্ষেত্রে ইচ্ছা না হলেও অনেক সময় জোর করে যেতে হয়। যাইহোক ভেবেছি শাশুড়ি মা এলে একদিন মামা বাড়িতে গিয়ে মামীকে দেখে আসবো। তবে এই ভাবনা আদেও কবে বাস্তবতার রূপ নেবে তা জানি না।
তবে হ্যাঁ এ কথা অস্বীকার করার জায়গা নেই মামীর শরীর খারাপের কথা শুনে মনটা বড্ড বেশি খারাপ লাগছে। কিছু কিছু মানুষের শারীরিক অসুস্থতা আমাদের মনের অসুখ বাড়িয়ে তোলে, আর তখনই বুঝতে পারি এই মানুষগুলোর গুরুত্ব আমাদের জীবনে কতখানি। কথা হোক বা না হোক, দেখা হোক বা না হোক, তারা ভালো আছে এই জানাটুকুই আমাদেরকে ভালো রাখে।
যাইহোক আশা করি আপনাদের সকলের আজকের দিনটা ভালো কেটেছে। আগামী দিনগুলো সুন্দর হোক, এই কামনায় আজকের লেখা এখানেই শেষ করছি।
শুভরাত্রি।




