"আজকের সন্ধ্যার পরের সময়টা কাটলো অপছন্দের কাজ করে"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
কেমন আছেন আপনারা সকলে?
আশা করছি আপনাদের সকলের আজকের দিনটি বেশ ভালো কেটেছে।
অন্যান্য দিনের মতনই আমারও সারাটা দিন সাংসারিক কাজেই কেটেছে। খুব সত্যি কথা বলতে, প্রতিদিন সাংসারিক বহু কাজ আমাদের করতে হয়। তবে তার মধ্যে এমন কিছু কাজ থাকে, যেগুলো করতে আমরা পছন্দ করি না। কিন্তু প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে সেগুলো করতেই হয়।
আমার সংসারে কাজের ক্ষেত্রে খুব একটা অনিহা আছে এরকম নয়। তবে কিছু কিছু কাজ করতে আমি ভালোবাসি না। কিন্তু যেহেতু তা রোজকার জীবনের অংশ, তাই বাধ্য হয়ে সেগুলো করতেই হয়। তার মধ্যে অন্যতম একটি কাজ হলো জামাকাপড় আয়রন করা। তাই এই অপছন্দের কাজটা বেশ অনেকদিন বাদে বাদে করার চেষ্টাই করি।
আমার গতকালের পোস্ট যারা পড়েছেন তারা জানেন, গতকাল সারাদিন আমার অনেক ব্যস্ততার মধ্যে কেটেছে এবং গতকাল অনেক জামাকাপড় ধুয়ে দিয়েছিলাম। তার মধ্যে বেশিরভাগ ছিলো শুভর অফিসের শার্ট।
মাঝখানে অনবরত বৃষ্টির কারণে অনেকদিন ধরে সেগুলো ধুতে পারছিলাম না। অবশেষে গতকাল সারাদিন বেশ ভালো রোদ্দুর হওয়াতে, একদিনেই জামাগুলো সব ধুয়ে দিয়েছিলাম। আর সেগুলো সব শুকিয়েও গিয়েছিলো। তবে গতকাল এতটাই ক্লান্ত ছিলাম যে, সেগুলো আর গোছানোর সময় হয়নি। উপরের ঘরের খাটের উপর সমস্ত কিছু রাখা ছিলো।
![]()
|
|---|
যেহেতু আজকাল আর উপরের ঘরে আমরা রাতে ঘুমাই না, সেই কারণে ওই খাট মোটামুটি এই ধরনের কাজেই আজকাল বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে বিয়ের পর থেকে ওই ঘরটাই ছিলো আমাদের ঘর। শশুর মশাই মারা যাওয়ার পর থেকে আমরা নীচে থাকতে শুরু করেছি। যেহেতু শাশুড়ি মা নীচে একা থাকেন।
তবে শ্বশুরমশাই মারা যাওয়ার পর থেকে খুব বেশিদিন শাশুড়ি মা বাড়িতে থাকছেন না।এমনকি বর্তমানেও তিনি বাড়িতে নেই। তবে যেহেতু নিচের তলাটা সম্পূর্ণ ফাঁকা থাকে, তাই রাতে আমি আর শুভ নীচেই ঘুমাই। এই কারণে উপরে নিজেদের বেডরুমটা এখন আর তেমনভাবে ব্যবহার হয় না।
যাইহোক আজ স্নান করতে যাওয়ার আগে ওপরে গিয়ে, খাটের উপর রাখা গতকালকে সমস্ত জামা কাপড় গুছিয়ে নিয়েছিলাম। তবে শুভর শার্টগুলোকে আর আলাদাভাবে ভাঁজ করিনি। যেহেতু সেগুলো আজ আয়রন করতেই হতো। তাই প্রত্যেকটা জামা বোতাম আটকে, সুন্দরভাবে তৈরি করে নিয়েছিলাম। যাতে সন্ধ্যা বেলায় শুধু আয়রন করে নিলেই হয়ে যায়।
যেহেতু কাজটা আমার পছন্দের নয়, তাই একদিনে একেবারে বেশি করে করে রাখি যাতে প্রতিদিন সেটা করতে না হয়। এই কারণে সন্ধ্যা পূজো শেষ করে আয়রন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তবে সেই মুহূর্তেই শুভ বাড়িতে চলে এসেছিলো এবং বেশ কিছু কথায় অনেকটা সময় পার হয়েছিলো আমাদের।
![]()
|
|---|
অবশেষে ভাবলাম একেবারে রাতের ডিনার সেরে তারপরেই আয়রন করতে বসবো। কারণ শুভর খিদে পেয়েছিলো এবং একটু আগে খেয়ে নেবে বললো। তাই রান্নাঘরে গিয়ে রাতের খাবার তৈরি করলাম। খাওয়া-দাওয়া সম্পন্ন করতে করতে বেশ কিছুক্ষণ টিভি দেখলাম আমরা।
টিভি দেখতে দেখতে আজ পুরনো দিনের গান নিয়ে অনেক কথা আলোচনা হলো। বহুদিন বাদে খাওয়ার পরে বেশ কিছুক্ষন চললো এই আলোচনা পর্ব। সত্যি কথা বলতে আজকালকার দিনের গানগুলো শুনতে খুব একটা ভালো লাগে না, গানের কথার জন্য।
তবে পুরনো দিনের গান যদি আপনারা শোনেন, গানের কথাগুলোই এতো সুন্দর যে সেগুলো আমাদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। আজও বহু দিন বাদে যখন আমরা সেই সব গান শুনি, সেগুলো আমাদের মনকে নাড়া দেয়।
![]()
|
|---|
যাইহোক খাওয়া-দাওয়া পর্ব শেষ করে বসলাম আয়রন করতে। বেশ অনেকগুলো শার্ট ও একটা প্যান্ট আয়রন করার কাজ বাকি ছিলো। তাছাড়া আমারও দুটো ড্রেস আয়রন করার ছিলো, তবে আজ আর ধৈর্য্য ছিলো না বলে, সেটা আর করা হয়ে ওঠেনি। কিছুক্ষণ আগেই আয়রন করার কাজ শেষ করলাম, তারপর বসলাম পোস্ট লিখতে।
কেন জানিনা অপছন্দের কাজগুলো করতে আমার আরও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়। হয়তো ভালো লাগে না বলেই। যাইহোক টিভি দেখতে দেখতে জামা কাপড় আয়রন শেষ হয়ে যাওয়ার পর, শুয়ে শুয়ে এখন আপনাদের সাথে পোস্ট লিখছি। কারণ বেশ কিছুক্ষণ বসে থাকার কারণে আমার রীতিমতো কোমর ব্যথা করছে।
যাইহোক আজ সন্ধ্যা থেকে এভাবেই সময় কেটেছে আমার। আমার মতো আপনারা কোন কাজ করতে খুব একটা পছন্দ করেন না, সেটা কিন্তু মন্তব্যের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না।
সকলে ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।



