Better life with steem//The Diary Game// 16 th July, 2026// রথযাত্রার সারাদিন"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।
আজকের পোস্টের মাধ্যমে আমি আপনাদের সাথে গতকালের সারাদিনের কার্যক্রম শেয়ার করবো। গতকাল দিনটা বিশেষ ছিলো, যেটা আশাকরি আপনারা আমার গতকালের পোস্ট পড়ে বুঝতে পেরেছেন। কারণ গতকাল ছিলো জগন্নাথ দেবের শুভ রথযাত্রা।
বেশ কিছু মুহূর্ত গতকাল ক্যামেরাবন্দি করেছিলাম, কিন্তু গতকাল মনটা ভারাক্রান্ত হয়েছিলো ছোটবেলার স্মৃতিগুলো মনে করে। তাই সেই সম্পর্কিত অনুভূতি শেয়ার করতে গিয়ে, আর গতকালের কার্যক্রম শেয়ার করা হয়নি। তাই ভাবলাম আজকের পোস্টের মাধ্যমে সেটাই আপনাদের সাথে শেয়ার করবো,-
|
|---|
![]()
|
|---|
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেছিলাম প্রায় সাতটা দশ নাগাদ। অ্যালার্ম বাজার অনেকটা আগেই ঘুম ভেঙেছিলো গতকাল। তাই আর শুয়ে না থেকে ফ্রেশ হয়ে উপরে এলাম। ঠাকুরের শয়ন তুলে ছাদের দিকে তাকিয়ে দেখলাম আবহাওয়াটা বেশ ভালো। আকাশও বেশ পরিষ্কার। সেই সময় বৃষ্টি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা ছিলো না। তাই তখন ঠিক করেছিলাম কিছু জামা কাপড় আছে সেগুলো ধুয়ে দেবো।
তবে তার আগে শুভর জন্য রান্না করতে হবে ভেবে, শুধুমাত্র গাছের ফুলগুলো তুলে আমি নিচে চলে এসে রান্না বসালাম। ছোটোবেলা থেকে যদিও এই দিনে আমাদের বাড়িতে আমরা নিরামিষ খাবার খেতাম। তবে আমার শ্বশুর বাড়িতে তেমন কোনো প্রচলন নেই। তাই সকাল বেলায় আমার এবং শুভর জন্যে ডিমের কারি রান্না করেছিলাম। আর তার সাথে শাশুড়ি মার জন্য রুটি, আর আমাদের জন্য চিনির পরোটা তৈরি করেছিলাম।
![]()
|
|---|
রুটি খেতে আমার একেবারেই ভালো লাগেনা। তাই মাঝে মধ্যে এই রকম ভাবে চিনি দিয়ে পরোটা করি। ছোটোবেলায় এটা খেতে বেশি ভালো লাগতো, তবে বড়ো হওয়ার পরেও মাঝে মধ্যে খেতে খুব একটা মন্দ লাগে না। সকালের দিকে রান্নাটা আমি সামলে নিয়েছিলাম। শাশুড়ির ডিম খান না তবে ওনার জন্য ফ্রিজে মাছ রান্না করাই ছিলো। বাকি ডাল, সবজি সেগুলো শাশুড়ি মা দুপুরে রান্না করেছিলেন। শুভ ব্রেকফাস্ট করে চলে যাওয়ার পর, আমরাও ব্রেকফাস্ট করে নিয়ে বাদবাকি কাজে ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম।
|
|---|
![]()
|
|---|
রথেরদিন বৃষ্টি হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। এটা ভেবেই গতকাল আর কোনো জামা কাপড় ধোয়ার জন্য ভেজাইনি। এদিন বৃহস্পতিবার ছিলো, আর আমার বহু পোস্টে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি যে বৃহস্পতিবার মানে কাজের চাপ একটু বেশিই থাকে। বিশেষ করে ঠাকুর ঘরে।
![]()
|
|---|
তাই কমিউনিটির কাজ শেষ করে আমি সোজা উপরে চলে গেলাম। সেখানে ঠাকুর ঘরের সমস্ত কাজ গুছিয়ে নিয়ে, স্নান সেরে পুজো দিতে বসলাম। বরাবরের মতো পুজো দিতে অনেকটা সময় ব্যয় হলো বৃহস্পতিবার বলে। সব কিছু গুছিয়ে, ঘট বসিয়ে, পাঁচালী পড়া সম্পূর্ণ করে, আমি নিচে এলাম। তারপর আমার বৌদির সাথে ভিডিও কলে কিছুক্ষণ কথা বললাম। যেটা গতকালের পোস্টেই আমি আপনাদেরকে জানিয়েছি।
![]()
|
|---|
এমনকি দুপুরবেলায়ও বিশ্রাম দেওয়া হয়নি। আর ছাদে গিয়ে দাঁড়িয়ে আমি আমাদের রাস্তা দিয়ে যাওয়া রথ কিভাবে দেখেছিলাম সে কথাও উল্লেখ করেছিলাম। যাইহোক তারপর সন্ধ্যা হলে সন্ধ্যা পুজো সেরে আমি নিচে এলাম।
|
|---|
![]() |
|---|
|
|---|
গতকাল শুভ যে পাঁপড়, জিলিপি এনেছিলো সেগুলো আমি আর শাশুড়ি মা খেয়েছিলাম।শুভ গতকাল অফিস থেকেই খেয়ে এসেছিলো, যে কারণে ও আর বাড়িতে এসে কিছু খায়নি। এরপর কিছুক্ষণ টিভি দেখলাম। তখন ফোনের মধ্যে বারবার নোটিফিকেশন দেখতে পাচ্ছিলাম। আমার বোনেরা সবাই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছবি পাঠাচ্ছিলো। তাদের বাচ্চারা সবাই কিভাবে রথ টেনেছে, সেই সমস্ত ছবিগুলো আমাকেও আমার ছোটবেলায় নিয়ে গেলো।
মনটা অনেকটা খারাপ হলো সেগুলো দেখে। মা কেও মিস করছিলাম। আর সেই মুহূর্তেই আপনাদের সাথে বসে গতকালের পোস্ট লিখেছি। যারা পড়েছেন তারা আশাকরি আমার ছেলেবেলার স্মৃতিগুলো সম্পর্কে কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছেন।
|
|---|
যাইহোক ভারাক্রান্ত মন হোক কিংবা ছোটবেলাকে মিস করা হোক, কোনো অবস্থাতেই সংসারের দায়িত্ব অবহেলা করা যায় না। তাই কিছুক্ষণ টিভি দেখে, কিছুক্ষণ পোস্ট লিখে, সেটা শেয়ার করার পর রাতের খাবার তৈরি করতে গেলাম। সুজি আর লুচি তৈরি করেছিলাম। আলুর তরকারি দুপুরেই শাশুড়ি মা রান্না করে রেখেছিলেন।
![]()
|
|---|
গরম গরম লুচি ভেজে তরকারি আর সুজি দিয়ে গতকাল ডিনার শেষ করেছিলাম। বেশ ভালোই লেগেছিল অনেকদিন ভাতে লুচি খেতে। খাওয়া-দাওয়া সম্পন্ন করে বাকি কাজ কাজ গুছিয়ে নিয়ে, তারপর বসেছিলাম কমিউনিটির পোস্ট ভেরিফাই করতে। সেগুলো সম্পন্ন করার পর তারপর ঘুমাতে গিয়েছিলাম।
দেখতে দেখতে রথযাত্রার আরও একটা বছর শেষ হয়ে গেলো। আবার একটা বছরের অপেক্ষায় এই দিনটিকে ফিরে পাওয়ার জন্য। আবার এই একটা বছরের মধ্যেই আমাদের সকলের জীবনে ভালো-মন্দ কতো কিছু পরিবর্তন হয়ে যাবে, শুয়ে শুয়ে সেটাই ভাবছিলাম। তবে জীবনের বাস্তবতা কোনো কিছুর বিনিময়েই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
যাইহোক আমার গতকালের দিনটা এই ভাবেই কেটেছে। আশাকরি আপনাদের সকলের দিনটাও খুব ভালো কেটেছিলো। জগন্নাথের কৃপায় আপনাদের সকলের সারাবছর খুব ভালো কাটুক। শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা সকলের জন্য কাম্য। ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।












Curated by: @kouba01