অন্তর্দ্বন্দ্ব!

সত্যি যখন ছোট ছিলাম, তখন অনেক ঝড় ঝাপটা সহ্য করেছি কিন্তু তখন অন্তর্দ্বন্দ্ব এই শব্দের অর্থ বুঝতাম না!..
মনে পড়ে, যেদিন আমার মায়ের নিথর দেহ অসম থেকে কলকাতায় আমাদের বাড়িতে পৌঁছনোর কথা, সেদিন সকাল থেকে খানিক কান্নাকাটি করছিলাম, আবার খানিক খেলছিলাম প্রতিবেশী সঙ্গীদের সাথে!
বিকেল হতে হতে রাস্তা সহ লোকারণ্য হতে দেখলাম আসে পাশের বাড়ির কার্নিশ লোকে ভরে গেলো!
সবকিছুই দেখলাম কিন্তু বুঝলাম না কিছুই, আজ যখন জীবনের পিছনের পাতা উল্টে দেখি তখন অন্তর্দ্বন্দ্বের পরিভাষা সুস্পস্ট হয়ে যায়, আর নিজের হৃদয়ে সময়ের সাথে কত শত শত ছ্যাঁকার যন্ত্রণা উপলব্ধি করতে পারি।

কখনও কোনো মন্দিরে গিয়েছেন? নিশ্চই দিয়েছেন অনেকেই! কেনো বলছি?
মন্দিরের একটি নির্দিষ্ট স্থানে লক্ষ্য করে থাকবেন একসাথে বহু ধুপকাঠী জ্বালানোর জায়গা করা থাকে!
সেই জ্বলন্ত ধূপকাঠির অগ্রভাগ লক্ষ্য করলে বুঝবেন একসাথে একাধিক মানুষের ইচ্ছের, মনস্কামনার অথবা বলা ভালো অন্তর্দ্বন্দ্ব একসাথে জ্বলে!
একসাথে কত মানুষ উপস্থিতি নিঃশব্দে জানান দেয় এই জায়গাটি!
কত নালিশ, কত ইচ্ছে পূরণের সাক্ষী গিয়ে থাকে কিছু জায়গা!
তবে, যারা বন্ধ ঘরে সর্বক্ষণ নিজের সাথে কথা বলে, আর ভাবনা ছাড়া যাদের বিশেষ কেউ সঙ্গী নেই, তারাই বোধহয় অন্তর্দ্বন্দ্বের আক্ষরিক অর্থ উপলব্ধি করতে সক্ষম!

তারা হয়তো সৃষ্টিকর্তাকেও তুষ্ট করতে সক্ষম হয় না, কারণ অন্ধকারে ছায়াও সঙ্গ ছেড়ে চলে যায়!
অনেকেই বলে আমি সত্যি বলি, কেউ কেউ বলে আমি ঠিক বলি, তাহলে আমার সাথে এত বেঠিক কেনো?
অন্তর্দ্বন্দ্বের যন্ত্রণা ভাগ করে নেওয়া যায় না! হেসে সকলের সামনে ভালো থাকার অভিনয় করা মানুষদের ভিতরটা কতখানি ক্ষত বিক্ষত সেটা বোঝার মানুষ আজ প্রায় বিলীন!

ভালো আছি এই উত্তরের পিছনের কষ্ট বুঝতে সক্ষম নয় বহু মানুষ!
কষ্ট দিতে কি যোগ্যতা লাগে? যোগ্যতা প্রয়োজন কাউকে আঁকড়ে ধরে থাকতে!
আচ্ছা, বলুন তো সবচাইতে বেশি ব্যবহৃত কি হয়? নাহ্! কোনো কুইজ প্রতিযোগিতা নয়, এমনি জানতে চাইছি!
আমি লক্ষ্য করে দেখেছি সবচাইতে ব্যবহৃত হয় মানুষের বিশ্বাস এবং সঙ্গে সেই মানুষগুলো যারা পুরোনো শিক্ষা মনে না রেখে বর্তমান পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে, পিছনের অপমান ভুলে গিয়ে সেই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ায়!
'স্বভাব যায় না মলে', প্রবাদটি খুব গুরুত্বপূর্ণ!
আমাকে যদি এই মুহুর্তে কেউ প্রশ্ন করেন, আমি বদ্ধপরিকর এই জীবনে আর সেই মানুষগুলোর জন্য ক্ষমা অন্ততঃপক্ষে আমার শব্দকোষে নেই!
আমার বিশ্বাস এদের সময় ক্ষমা করবে না কোনোদিন! আমি থাকি কিংবা নাই থাকি, আমি দেখে যেতে পারি কিংবা নাই পারি, সময় এদের বিচার করবেই।
আজকে একগুচ্ছ ছবি তুলে ধরেছি তারাপীঠ এর, সঙ্গে রয়েছে সেখানে রাত্রে অনুষ্ঠিত মহাশ্মশানের পুজোর!

একাধিক রীতিনীতি, একাধিক আচার অনুষ্ঠান সব কিছুর পিছনে থাকে ইচ্ছে পূরণের সুপ্ত বাসনা!
কেউ কেউ ভুয়ো ভাঁওতা বলে উড়িয়ে দেবেন নিজেদের বাস্তববাদী আখ্যায়িত করে, কিন্তু যারা সর্বহারা তাদের ডুবন্ত জীবনে সামান্য খড়কুটো কতখানি গুরুত্ব বহন করে সেটা হয়তো অনেকেই বুঝবেন না! এই রীতিনীতি দিয়ে হয়তো সম্পূর্ণ ভাসিয়ে তোলা সম্ভব নয়;
তবুও সেই অবিশ্বাসী, বাস্তববাদী মানুষজন যখন সাজেশন হিসেবে বলেন, জিসকা কোই নেহি, উসকা তো খুদা হ্যায় ইয়ারো! তখন অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে প্রতি মুহুর্তে লড়াই করা মানুষগুলোর আর কোনো যাবার জায়গা অবশিষ্ট থাকে কি?

