🌐 Internet Evolution Series | Part 3: World Wide Web
World Wide Web: যে আবিষ্কার ইন্টারনেটকে সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দিয়েছিল
Internet Evolution Series এর আগের পর্বে আমরা জেনেছিলাম ARPANET এর জন্মের গল্প। একটি সামরিক গবেষণা প্রকল্প হিসেবে শুরু হওয়া সেই নেটওয়ার্কই আধুনিক ইন্টারনেটের ভিত্তি তৈরি করেছিল। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তখনও অনুপস্থিত ছিল। কম্পিউটারগুলো একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত হলেও সাধারণ মানুষের জন্য এটি ব্যবহার করা সহজ ছিল না। কোনো ওয়েবসাইট ছিল না, কোনো ব্রাউজার ছিল না, এমনকি আজ আমরা যেভাবে একটি লিংকে ক্লিক করে তথ্য দেখি, সেই সুবিধাও তখন ছিল না। ইন্টারনেট ছিল মূলত গবেষক ও প্রযুক্তিবিদদের একটি সীমিত নেটওয়ার্ক।
১৯৮০ এর দশকের শেষ দিকে বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বিপুল পরিমাণ তথ্য জমা হতে থাকে। কিন্তু একটি বড় সমস্যা ছিল,এক কম্পিউটারের তথ্য অন্য কম্পিউটার থেকে সহজে খুঁজে পাওয়া যেত না। একই প্রতিষ্ঠানের ভেতরেও তথ্য খুঁজে বের করা অনেক সময় কঠিন হয়ে যেত। বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারলেন, শুধু কম্পিউটার সংযুক্ত করলেই হবে না, তথ্যকে এমনভাবে সাজাতে হবে, যেন পৃথিবীর যেকোনো মানুষ খুব সহজেই তা খুঁজে পেতে পারে।
এই সমস্যার সমাধানের কথা ভাবেন ব্রিটিশ কম্পিউটার বিজ্ঞানী Tim Berners Lee। তিনি সুইজারল্যান্ডের CERN গবেষণা কেন্দ্রে কাজ করতেন। ১৯৮৯ সালে তিনি এমন একটি ব্যবস্থা প্রস্তাব করেন, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন কম্পিউটারের তথ্য একে অপরের সঙ্গে লিংকের মাধ্যমে যুক্ত থাকবে। একজন ব্যবহারকারী একটি পেজ থেকে আরেকটি পেজে খুব সহজেই যেতে পারবে। এই ধারণাই পরবর্তীতে World Wide Web (WWW) নামে পরিচিত হয়।
অনেকেই মনে করেন ইন্টারনেট এবং World Wide Web একই জিনিস। বাস্তবে কিন্তু বিষয়টি ভিন্ন। ইন্টারনেট হলো একটি বিশাল নেটওয়ার্ক, যা পৃথিবীর কোটি কোটি কম্পিউটারকে সংযুক্ত করে। আর World Wide Web হলো সেই নেটওয়ার্কের ওপর তৈরি একটি তথ্যভাণ্ডার, যেখানে ওয়েবসাইট, ছবি, লেখা, ভিডিও এবং বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষিত থাকে। সহজভাবে বললে, ইন্টারনেট হলো রাস্তা, আর World Wide Web হলো সেই রাস্তার ওপর চলা যানবাহন ও গন্তব্য।
Tim Berners Lee শুধু ধারণা দিয়েই থেমে থাকেননি। তিনি World Wide Web এর জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিও তৈরি করেন। প্রথমটি ছিল HTML (HyperText Markup Language), যার মাধ্যমে ওয়েবপেজ তৈরি করা সম্ভব হয়। দ্বিতীয়টি ছিল HTTP (HyperText Transfer Protocol), যা ব্রাউজার এবং সার্ভারের মধ্যে তথ্য আদান, প্রদানের নিয়ম নির্ধারণ করে। আর তৃতীয়টি ছিল URL (Uniform Resource Locator), যা প্রতিটি ওয়েবপেজের জন্য একটি নির্দিষ্ট ঠিকানা তৈরি করে। আজ আমরা প্রতিদিন যে ওয়েব ঠিকানা ব্যবহার করি, তার সূচনা এখান থেকেই।
১৯৯০ সালে Tim Berners Lee বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইট তৈরি করেন। এটি মূলত World Wide Web কী, কীভাবে এটি ব্যবহার করতে হয় এবং কীভাবে নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়, এসব তথ্য তুলে ধরার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। সেই ছোট্ট ওয়েবসাইটই ছিল আজকের কোটি কোটি ওয়েবসাইটের সূচনা।
তবে World Wide Web জনপ্রিয় হতে আরও একটি বিষয়ের প্রয়োজন ছিল, একটি সহজ ব্রাউজার। ১৯৯৩ সালে Mosaic নামে একটি গ্রাফিক্যাল ওয়েব ব্রাউজার প্রকাশিত হয়। এটি ব্যবহার করা ছিল তুলনামূলক সহজ, ফলে সাধারণ মানুষও ধীরে ধীরে ওয়েব ব্যবহার শুরু করে। এরপর Netscape Navigator এবং পরে Internet Explorer এর আগমনে ওয়েব ব্যবহারের গতি আরও বেড়ে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই হাজার হাজার ওয়েবসাইট তৈরি হতে শুরু করে।
World Wide Web এর সবচেয়ে বড় অবদান ছিল তথ্যকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া। আগে কোনো তথ্য জানতে হলে বই, লাইব্রেরি বা বিশেষ প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হতো। কিন্তু এখন পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের একজন মানুষ একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে নিজের জ্ঞান, গবেষণা বা অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারছিলেন। শিক্ষা, বিজ্ঞান, ব্যবসা এবং যোগাযোগ, সব ক্ষেত্রেই এটি নতুন এক যুগের সূচনা করে।
একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, Tim Berners Lee তাঁর এই আবিষ্কারের জন্য কোনো রয়্যালটি দাবি করেননি। তিনি World Wide Web কে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন, যাতে পৃথিবীর যে কেউ এটি ব্যবহার করতে পারে এবং নতুন কিছু তৈরি করতে পারে। যদি তিনি এই প্রযুক্তিকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে রেখে দিতেন, তাহলে হয়তো আজকের ইন্টারনেট এতটা উন্মুক্ত এবং সহজলভ্য হতো না।
বর্তমানে আমরা প্রতিদিন অসংখ্য ওয়েবসাইট ব্যবহার করি। সংবাদ পড়ি, অনলাইন ক্লাস করি, কেনাকাটা করি, ব্যাংকিং করি, ভিডিও দেখি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করি। এই সবকিছুর পেছনে রয়েছে World Wide Web এর অবদান। এটি শুধু একটি প্রযুক্তি নয়, বরং এমন একটি উদ্ভাবন, যা ইন্টারনেটকে গবেষণাগার থেকে বের করে সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছে দিয়েছে।
কিন্তু একটি নতুন সমস্যা তখন দেখা দিল। ওয়েবসাইটের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করল। হাজার হাজার, পরে লাখ লাখ ওয়েবসাইটের ভিড়ে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়ল। তখন দরকার হলো এমন একটি প্রযুক্তি, যা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই কোটি কোটি ওয়েবপেজের মধ্য থেকে সঠিক তথ্য খুঁজে এনে দিতে পারবে। সেই প্রযুক্তিই ছিল Search Engine, যার গল্প জানব Internet Evolution Series এর চতুর্থ পর্বে।
➡️ পরবর্তী পর্ব:
🌐 Internet Evolution Series | Part 4: সার্চ ইঞ্জিনের বিপ্লব
আমি আল সারজিল ইসলাম সিয়াম। আমি বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। আমি বর্তমানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিএসসি-র ছাত্র। আমি স্বতন্ত্র স্বাধীনতা সমর্থন করি। আমি বই পড়তে এবং কবিতা লিখতে পছন্দ করি। আমি নিজের মতামত প্রকাশ করার এবং অন্যের মতামত মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি। আমি অনেক ভ্রমণ পছন্দ করি। আমি আমার অতিরিক্ত সময় ভ্রমণ করি এবং নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে ভালোবাসি। নতুন মানুষের সংস্কৃতি এবং তাদের জীবন চলার যে ধরন সেটি পর্যবেক্ষণ করতে ভালোবাসি। আমি সব সময় নতুন কিছু জানার চেষ্টা করে যখনই কোনো কিছু নতুন কিছু দেখতে পাই সেটার উপরে আকর্ষণটি আমার বেশি থাকে।
বিষয়: 🌐 Internet Evolution Series | Part 3: World Wide Web
কমিউনিটি : সাহিত্য ক্যানভাস
আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই এই কমিউনিটির সকল সদস্য কে, ধন্যবাদ...





High-Yield Curation by @steem-seven
Your content has been supported!
Maximize your passive income!
Delegate your SP to us and earn high rewards
Click here to see our Tiered Reward System
We are the hope!