"অনেক দিন পর কদমফুল হাতে"
কদম ফুলের নাম শুনলেই আমার শৈশবের দিনগুলো চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আমাদের ছোটবেলায় গ্রামে বর্ষাকাল মানেই ছিল কদম ফুলের মৌসুম। স্কুল থেকে ফিরেই বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে-ঘাটে, বিলে-ডোবার আশেপাশে ঘুরে বেড়াতাম আর যে গাছে কদম ফুটেছে, সেই গাছটাকেই খুঁজে বের করতাম। তখন তো এত মোবাইল ক্যামেরা বা সোশ্যাল মিডিয়ার ধুম ছিল না, ছিল শুধু প্রকৃতির কাছে নিখাদ আনন্দ খুঁজে পাওয়ার ইচ্ছা। আর সেই আনন্দের এক বড় উৎস ছিল এই ছোট্ট গোলগাল কদমফুল।
কদমফুলের গন্ধটা খুব আলাদা। একবার হাতে নিলেই সেটা মন ছুঁয়ে যায়। অন্য কোনো ফুলের গন্ধের সাথে এটা মেলানো যাবে না। বর্ষার দিনে বৃষ্টি ভেজা বাতাসে কদম ফুলের ঘ্রাণ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ত। তখন গাছ থেকে ফুল ছিঁড়ে হাতে নিয়ে একবার গন্ধ শুকে নেওয়া, কার আগে কে পাবে সেই নিয়ে ছোটাছুটি করাই ছিল এক অন্যরকম মজা। কখনো আবার কাদায় পিছলে পড়তাম, আবার হেসে উঠতাম সবাই মিলে। সেই দিনগুলো আজ শুধু স্মৃতি।অনেক বছর ধরে শহরে থাকতে থাকতে যেন এই কদমফুল দেখা আর হয়ে ওঠে না। বিশেষ করে এখন যেসব গাছ আছে, সেগুলোর বেশিরভাগই রাস্তার ধারে বা কারো বাড়ির ভেতরে। আর গাছগুলো এত উঁচু যে, ফুল ছিঁড়ে নেওয়ার সাধ থাকলেও সাধ্য থাকে না। মাঝে মাঝে গ্রামে গেলে বা কোথাও বেড়াতে গেলে খুঁজে দেখতাম, কোথাও কদম ফুল ফুটেছে কিনা। কিন্তু আগে যেমন হরহামেশাই পাওয়া যেত, এখন তেমন আর দেখা যায় না।
কিছুদিন আগের একদিন বিকেলে চায়ের আড্ডা দিতে গিয়েছিলাম সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের পেছনের চার দোকানের পাশে। কলেজ ক্যাম্পাসটা সবসময়ই আমার প্রিয় একটা জায়গা। আগে এখানে বিকেলে হুটহাট চলে আসতাম বন্ধুদের সঙ্গে। এবারও চায়ের কাপ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, হঠাৎ চোখে পড়ল, একপাশে একটা কদম ফুল গাছ। অবাক হয়ে দেখলাম, গাছটা খুব একটা বড় না, মাঝারি আকৃতির। কিন্তু গাছে শতশত কদম ফুল ফুটে আছে। যেন গাছটা ফুলে ভরে গেছে। এতদিন পর হঠাৎ করে এত ফুল একসাথে দেখে মনে হলো, যেন আমার শৈশব ফিরে এসেছে।গাছের বেশ কয়েকটা ফুল একদম হাতের নাগালে। আমি গাছের একটা ডাল একটু নিচের দিকে টেনে নিয়ে কয়েকটা ফুল ছিঁড়ে নিলাম। মনে হচ্ছিল আমি আবার সেই ছোট্ট ছেলে হয়ে গেছি, যে বর্ষার দিনে কাদামাখা পায়ে কদমফুল তুলতে ছুটে বেড়াত। এই কদমফুল হাতে নেয়ার পর মনে হচ্ছিল, বহু বছর পর হারানো কোনো প্রিয় বন্ধুকে কাছে পেয়েছি।
ফুলগুলোর গন্ধ শুকলাম। আহা! সেই পুরনো মিষ্টি গন্ধ। এই গন্ধ কোনো পারফিউমে পাওয়া যায় না। প্রাকৃতিক এই ঘ্রাণ নিমেষেই মন ভালো করে দেয়। সত্যি বলতে, এতদিন পরে এই গন্ধ শুকে চোখে পানি চলে এসেছিল।তখন চায়ের দোকানে থাকা বন্ধুরাও বললো, “দোস্ত, তোর কি হয়েছে রে? এত আবেগ!” আমি হেসে বললাম, “ভাইরে, অনেক বছর পর কদমফুল পেয়েছি। তোদের বোঝাতে পারবো না এই ফুলের গন্ধ আমার কত আপন।”তারপর সেই ফুল হাতে নিয়ে অনেক ছবি তুললাম। কেউ ফোন দিলো হাতে, কেউ ভিডিও করলো। আমি নিজেও কয়েকটা ছবি তুললাম। একবার হাতে নিয়ে দেখি, আবার নাকের কাছে নেই। আবার ছবি তুলি। মনে হচ্ছিল, এই আনন্দটা কিছুতেই হারাতে চাই না।
সন্ধ্যা নেমে আসছিল, বাতাসে ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছিল। চারপাশে আলোর ঝিলমিল। তবু সেই কদমফুলের সঙ্গ ত্যাগ করতে মন চাচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল, ইশ! এমন আরও অনেক কদমগাছ যদি থাকতো, তাহলে আরও কিছুক্ষণ থাকতাম এখানে।শেষ পর্যন্ত যখন বাড়ি ফিরলাম, তখনও মনে হচ্ছিল দিনটা যেন অন্যরকম কেটেছে। এই কয়েকটা কদমফুল আমার দিনটাকে এমনভাবে বদলে দিলো, যেটা আমি আগে কল্পনাও করিনি।আজকাল আমরা ছোট ছোট আনন্দ ভুলে গেছি। ব্যস্ত জীবনে শুধু টাকা, মোবাইল, সোশ্যাল মিডিয়া আর দৌড়ের উপর আছি। অথচ প্রকৃতির এই ছোট্ট একটা উপহার একটা কদমফুল আমাদের কতটা আনন্দ দিতে পারে, সেটা আমি সেই বিকেলে নতুন করে বুঝেছি।
আমার সেই বিশেষ মুহূর্তটা তাই আজ সবার সঙ্গে শেয়ার করলাম। হয়তো এই লেখাটা পড়ে কারো নিজের শৈশবের কদমফুলের কথা মনে পড়বে। সেই স্মৃতি মাথায় ভেসে আসবে। যদি সুযোগ হয়, আপনি-ও কোনো বিকেলে বেরিয়ে পড়ুন। খুঁজে নিন আপনার কদমগাছ। ছিঁড়ে নিন একটা ফুল। তারপর শুকে দেখুন। হয়তো আপনারও হৃদয়টা নিমিষেই শান্ত হয়ে যাবে, ঠিক যেমনটা হয়েছিল আমার।
আজ এখানেই শেষ করছি। অন্য কোন একদিন ভিন্ন ধরনের কনটেন্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হব। ততক্ষন পর্যন্ত আপনারা সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, আল্লাহ হাফেজ।
ফোনের বিবরণ
| মোবাইল | Samsung A33 (5G) |
|---|---|
| ধরণ | "অনেক দিন পর কদমফুল হাতে" |
| ক্যমেরা মডেল | A33 (48+8+5+2) |
| ক্যাপচার | @mohamad786 |
| অবস্থান | সিরাজগঞ্জ- বাংলাদেশ |











X-Promotion
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
Daily Tasks
Comment Link:-
https://x.com/mohamad786FA/status/1941912630115135815?t=c1w280S5RsyfFn8hDBCk6Q&s=19
https://x.com/mohamad786FA/status/1941912848051159483?t=gLm5sRCylM6RwAfN-Yk-mw&s=19https://x.com/mohamad786FA/status/1941913040158642328?t=P9GSzJrgUoS7_YtQMsHCjA&s=19
https://x.com/mohamad786FA/status/1941913226184462350?t=2I89u-DMJcNlTspwgu1dSA&s=19
Ss
🎉 Congratulations!
Your post has been manually upvoted by the SteemX Team! 🚀
SteemX is a modern, user-friendly and powerful platform built for the Steem ecosystem.
🔗 Visit us: www.steemx.org
✅ Support our work — Vote for our witness: bountyking5