হারিকেন ও কুপিবাতির যুগ

ChatGPT Image Jun 9, 2026, 02_55_53 AM.png

Image Created by OpenAI

একটা সময় ছিল, যখন রাত মানেই ছিল অন্যরকম এক অনুভূতি। এখনকার মতো বিদ্যুতের ঝলমলে আলো, মোবাইলের স্ক্রিন কিংবা সারারাত জেগে থাকা শহুরে ব্যস্ততা তখন ছিল না। সন্ধ্যা নামলেই গ্রামের পথঘাট ধীরে ধীরে অন্ধকারে ঢেকে যেত। আর সেই অন্ধকারের বুক চিরে মানুষের সঙ্গী হয়ে উঠত হারিকেন, কুপিবাতি আর হ্যাজাকের আলো। সেই আলো ছিল ক্ষীণ, কিন্তু তাতেই ছিল এক অদ্ভুত মায়া ও উষ্ণতা। হারিকেনের কাঁচ পরিষ্কার করা, কেরোসিন তেল ভরা কিংবা সলতে ঠিক করা ছিল প্রতিদিনের কাজের অংশ। সন্ধ্যা নামার আগেই বাড়ির বড়রা এগুলো প্রস্তুত করে রাখত। তারপর শাঁখের আওয়াজের সঙ্গে সঙ্গে একে একে জ্বলে উঠত কুপিবাতি। পুরো ঘর আলোয় ভরে না উঠলেও সেই ক্ষীণ আলো যেন পরিবারের মানুষগুলোকে আরও কাছাকাছি এনে দিত।

সেই সময় রাতের জীবন ছিল অনেক ধীর, শান্ত এবং আন্তরিক। পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে গল্প করত। দাদু-ঠাকুমারা ভূতের গল্প, রূপকথা কিংবা গ্রামের পুরোনো দিনের স্মৃতি শোনাতেন। শিশুরা গোল হয়ে বসে মুগ্ধ চোখে সেই গল্প শুনত। বাইরে তখন ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, দূরের বাঁশ বাগানের শব্দ কিংবা মাঝে মাঝে শেয়ালের হাঁক- সব মিলিয়ে রাত যেন রহস্যময় এক আবহ তৈরি করত। হারিকেনের আলোয় পড়াশোনা করার স্মৃতিও অনেকের জীবনে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ছাত্রছাত্রীরা সেই কুপিবাতির আলোতেই বই খুলে বসত। এমনকি অনেকেই এমন আছে, সেই সময় কোনো বিদ্যুৎ ছিল না, এই হারিকেনের আলোতে পড়তে হতো বা যাবতীয় সব কাজ সারতে হতো। আলো কম থাকলেও মনোযোগের অভাব ছিল না। বরং সেই পরিবেশে পড়াশোনার মধ্যে ছিল অন্যরকম এক নিষ্ঠা ও সংগ্রামের গল্প।