জীবনের গল্প || সবার শেষে সেবা

in আমার বাংলা ব্লগ6 hours ago

হ্যালো বন্ধুরা,

কেমন আছেন সবাই? আলহামদুলিল্লাহ, আমি মোটামুটি ভালো আছি। তবে ঐ যে আমাদের সেবা সংস্থাসমূহের সেবার চমৎকার মানসিকতা দেখে মাঝে মাঝে বেশ হতাশ হয়ে যাই। একটা বিষয়ে মোটামুটি আমরা সবাই একমত, আর সেটা হলো সেবা খুব সহজেই আমাদের এখানে পাওয়া যাবে না, এক ঘন্টার কাজের জন্য আপনাকে কমকরে হলেও তিন থেকে চার দিন দৌড়াতে হবে। না না না আপনি দৌড়াতে না পারলে কোন সমস্যা নেই হাঁটতে হাঁটতে যাবেন, কিন্তু আপনাকে যাওয়াই লাগবে। ওটা এতো সহজে পাওয়ার কথা না।

একটা উদাহরণ দিচ্ছি, এক ভদ্রলোকের বাবা মারা গিয়েছে এক বছরের উপরে হয়ে গেছে, উনি ডেথ সার্টিফিকেটের জন্য যথা নিয়মে আবেদনও করেছেন, সেটাও এক বছরের উপরে হয়েগেছে। অথচ এখন বেচারা চক্কর কেটেই যাচ্ছেন, সার্টিফিকেট আর হাতে পাচ্ছেন না। এবার বুঝেন বিষয়টি কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। নিশ্চয় জরুরী কোন কাজের জন্য ওনার এই সার্টিফিকেট প্রয়োজন? কিন্তু সেটা উনি কাকে বুঝাবেন। আমি একটু বিস্তারিত জানার চেষ্টা করলাম, উনি আমাকের আবেদনের কপিটাও দেখালেন, আমিও নিশ্চিত হলাম এক বছরের বেশী হয়ে গেছে উনার এই আবেদনের তারিখ।

ahmadardity-bench-5017748.jpg

সমস্যাটা কোথায় সেটা জানার চেষ্টা করলাম, উনি মেলা দিন ঘুরে ঘুরে এই টেবিল হতে সেই টেবিলে গিয়ে গিয়ে অনুরোধ করেছেন। মোটামুটি ৮০ ভাগ সম্পন্ন হয়েগেছে, তদন্ত বিষয়ে যারা ছিলেন তারাও সুপারিশ করে দিয়েছেন। কিন্তু উপরের একজন কর্মকর্তা আছেন যিনি চূড়ান্ত সই স্বাক্ষর করবেন, সেখানে গিয়েই আটকে আছে ফাইল। সেটা আর স্বাক্ষর হচ্ছে না, উনি আসেন আবার ফিরে যান, ফাইলের জায়গায় ফাইল পড়ে থাকে, কে কার দুঃখ বুঝে, কে কার কথা শুনে! এই হলো চরম বাস্তবতা, বিবেক এখানে কাজ করে না!

আমিও অনেকটা ধৈর্য ধারণ করে দীর্ঘ সময় বসে ছিলাম, সমস্যা তেমন না তাদের সার্ভার ডাউন, একটা জরুরী সেবা কেন্দ্রের সার্ভার যদি ডাউন থাকে তাহলে আমাদের সেবার কি হবে? আমি একটু জানার চেষ্টা করেছিলাম কখন আসবে মানে সার্ভার কাজের উপযোগি হবে। ভদ্রলোক বিশাল আকারের রাগ ঝাড়লেন আমার উপর। সরাসরি বললেন আমি কি জানি? আপনার দরকার হলে বসে থাকেন, না হলে চলে যান, আমার কিছু বলার নেই। ব্যবহারের ধরন দেখেই নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, কতটা সুন্দর সেবা আমরা পেয়ে থাকি।

বাস্তবতা সত্যি অনেক বেশী নির্মম, আর সেটা তখনই সঠিকভাবে উপলব্ধি করা যায়, যখন সেই ফাঁদে আমরা নিজেরাও আটকে যাই। অন্যত্থায় অন্যের দুঃখের কাহিনী শুনতে পারবেন, মজা পাবেন কিন্তু তার প্রকৃত অনুভূতি অনুধাবন করতে পারবেন না। যাইহোক, সেবা আমার লাগবে তাই যতই যন্ত্রণা দেয়া হোক না কেন, আমি নিরূপায়। এখন আবার যাবো সেখানে, তাই একটু হালকা হয়ে নিলাম আপনাদের সাথে কিছুটা শেয়ার করে।

Image Taken From Pixabay

ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah

break .png
Leader Banner-Final.pngbreak .png

আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।

break .png

Banner.png