শারদীয়া দুর্গোৎসব ১৪২৯ : পূজা পরিক্রমা পর্ব ০২

in আমার বাংলা ব্লগ4 years ago


এবছরে ঠাকুর দেখা একটু আগে আগে স্টার্ট করেছি । সেই তৃতীয়া থেকে । সারাদিন খুবই বিজি থাকি । তাই তনুজার সাথে আমার চুক্তি হয়েছে ডেইলি বিকেল ৫ টা থেকে রাত ৮ টা অব্দি মোট তিনটি ঘন্টা পুজো প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘুরে বেড়াতে হবে । সেই মতো তৃতীয়া থেকে স্টার্ট করেছি ঘোরা ।

এখনো অব্দি নবমী পর্যন্ত সব কিছু একদম ঠিকঠাকই আছে । এমনকি অষ্টমীর অঞ্জলি প্রদান, শাড়ি ও গয়না প্রদান থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করাও একদম ঠিকঠাক হয়েছে । পুজোর ভোগ প্রসাদ খাওয়াও হচ্ছে । বাড়িতে যদিও পুজোর দিন কয়টায় নিরামিষ চলে বাট এবছরে আমি আমিষই চালাচ্ছি রেগুলার ।

ডেইলি সকালে নানান রকমের মাছের হরেক রকম পদ থাকছে ভাতের পাতে । ইলিশ, চিংড়ি, ভেটকি, পার্শে, রুই, কাতলা, ট্যাংরা, পমফ্রেট, বেলে, ভোলা, কৈ, কাঁকড়া খাচ্ছি । মাংসটা শুধু খাচ্ছি না । মাংস খাবো একদম বিজয়া দশমীর রাতে । রেস্টুরেন্টে । রিজার্ভেশন আছে আমাদের ।

পুজোর এই ক'টা দিনে আমরা কিন্তু অনেকগুলো ছোটখাটো মেলাতেও গিয়েছি । যদিও শহুরে মেলার চাইতে গ্রাম্য মেলা শতগুণে আকর্ষণীয় হয় তবুও আমাদের টিনটিনবাবু জীবনে জ্ঞান হওয়ার পর এই প্রথম শারদীয়া মেলায় আবদার করে হরেক খেলনা কিনলো । ডেইলি ডেইলি আইসক্রিম খেলো । ভালই উপভোগ করছে সে ।

পাকা তেঁতুলের স্বাদের গোল্লা বরফ খেয়ে ভীষণ খুশি সে । এর সাথে এগ রোল, ঘুগনী, চিকেন পকোড়া আর আইসক্রিম তো আছেই । তবে মেলায় সে যত খেলনা কিনেছে সব গুলিই হলো নানান ধরণের বাচ্চাদের শিক্ষামূলক খেলনা । যেমন ম্যাজিক শ্লেট, আঁকার সরঞ্জাম, ব্লকস, লার্নিং instruments এসব । নিখাদ খেলনা বলতে বেলুন কিনেছে শুধু ।

টিনটিন এক আশ্চর্য ছেলে । বাড়িতে কখনই খেলাধুলা করে না । তার একমাত্র খেলাধুলা হলো বই পড়া । আমার লাইফে এমন ছেলে দেখিনি যে কিনা মাত্র ৩-৪ বছর বয়সে যতক্ষণ জেগে থাকে শুধু বইই পড়ে । তার খেলাধুলা হাসি কান্না সবই বই এবং শিক্ষা কেন্দ্রিক । মোবাইলেও ভিডিও দেখে অনলি ছড়া আর নানান ধরণের লার্নিং ভিডিও । তাই পুজোর মেলাতে সে শুধুই লার্নিং instruments ই কিনলো । আর কোনো কিছুই তাকে টানে না । এই ব্যাপারে আমি ভীষণ উদ্বিগ্ন এখন তাই । কারণ, এই বয়সের ছেলের এত কিসের পড়া ? জীবনে খেলাধুলার গুরুত্ব পড়াশোনার মতোই সেম ।

যাই হোক, নেক্সট এপিসোড থেকে পুজো প্যান্ডেলে ঘোরার গল্পগুলো শেয়ার করবো । আজকে আসুন দেখে নেওয়া যাক শারদীয়া দুর্গোৎসব ১৪২৯ : পূজা পরিক্রমা পর্ব ০২


এই পুজো প্যান্ডেলটি সাবেক কলকাতার জমিদারবাড়ির চন্ডী মন্ডপের ধাঁচে তৈরী করা হয়েছে । ভিতরে রয়েছে সেই সাবেকি ধরণের ঝাড়বাতি । গ্যাসে লণ্ঠন আর মোমবাতিদান । বড় বড় থামের গায়ে রয়েছে দৃষ্টিকাড়া অপূর্ব সব ডিজাইন ।

তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২২
সময় : সন্ধ্যা ৬ টা ১০ মিনিট
স্থান : কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত ।


মণ্ডপের ভিতরে ঢাকীরা ঢাকের বাদ্যি বাজাচ্ছে । দূর্গা প্রতিমার সামনে চলছে আরতি ।

তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২২
সময় : সন্ধ্যা ৬ টা ১৫ মিনিট
স্থান : কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত ।


দুগ্গা ঠাকুরের একদম সামনে থেকে নেওয়া এই শটগুলি । আরতির ধোঁয়ার কারণে কিছুটা ধোঁয়াটে ভাব আর অস্পষ্টতা এসেছে । তবে সেটি তেমন খুব বেশি নয় । মোটামুটি ক্লিয়ারই হয়েছে টেকগুলি ।

তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২২
সময় : সন্ধ্যা ৬ টা ২০ মিনিট
স্থান : কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত ।


ক্যামেরা পরিচিতি : OnePlus
ক্যামেরা মডেল : EB2101
ফোকাল লেংথ : ৫ মিমিঃ



✡ ধন্যবাদ ✡


পরিশিষ্ট


প্রতিদিন ৩৭৫ ট্রন করে জমানো এক সপ্তাহ ধরে - ৩য় দিন (375 TRX daily for 7 consecutive days :: DAY 03)


trx logo.png



সময়সীমা : ০২ অক্টোবর ২০২২ ২০২২ থেকে ০৮ অক্টোবর ২০২২ পর্যন্ত


তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২২


টাস্ক ৮০ : ৩৭৫ ট্রন ডিপোজিট করা আমার একটি পার্সোনাল TRON HD WALLET এ যার নাম Tintin_tron


আমার ট্রন ওয়ালেট : TTXKunVJb12nkBRwPBq2PZ9787ikEQDQTx

৩৭৫ TRX ডিপোজিট হওয়ার ট্রানসাকশান আইডি :

TX ID : 8b21111a2e8272b2806c88f20a7b1d9e63178b40068756e72fac4fadc79e5e6f

টাস্ক ৮০ কমপ্লিটেড সাকসেসফুলি


এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তো যে কোনো এমাউন্ট এর টিপস আনন্দের সহিত গ্রহণীয়

Account QR Code

TTXKunVJb12nkBRwPBq2PZ9787ikEQDQTx (1).png


VOTE @bangla.witness as witness

witness_proxy_vote.png

OR

SET @rme as your proxy


witness_vote.png

Sort:  
 4 years ago 

শারদীয়া দুর্গোৎসব এর ফটোগ্রাফি গুলো দেখে ভালো লাগলো। ৫-৮ পছন্দ পুজা দেখা বাহ্ দারুন। দাদা আপনার তো অনেক সুন্দর সময় কাটতেছে। আপনার পুরো পরিবারের জন্য শুভ কামনা রইলো ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন সবসময় এই কামনাই করি।

Hi @rme,
my name is @ilnegro and I voted your post using steem-fanbase.com.

Come and visit Italy Community

Hello friend!
I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
image.png
please click it!
image.png
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)

This post has been upvoted by @italygame witness curation trail


If you like our work and want to support us, please consider to approve our witness




CLICK HERE 👇

Come and visit Italy Community



 4 years ago 

বৌদি খুবই বুদ্ধিমানের কাজ করেছে আপনাকে আগে থেকে টাইম ঠিক করে দিয়েছে। তা না হলে আপনি যে ব্যস্ত মানুষ। বৌদির পূজাই দেখা হত না। টিনটিন দেখি আপনার মত বই পাগল হয়েছে ছোটবেলা থেকেই। এত ছোট বাচ্চার এত বই পড়ার নেশা। আপনার মতোই হবে বোঝা যাচ্ছে। আবার মেলা থেকে সব শিক্ষণীয় খেলনা কিনেছে। খুবই ভালো।

Tintin seems like a smart kid, only spending time every day reading. When he grows up, he will become an intellectual. Exercise is necessary for Tintin, so that he can grow and develop properly. Healthy always for Tintin.

 4 years ago 

ভালোই করেছেন দাদা এবার ঠাকুর দেখছেন প্রায় অনেক আগে থেকেই।বৌদির কথা মত প্রায় প্রতিদিন তিন ঘন্টাকরে পূজামণ্ডপগুলোতে ঘুরতে যাওয়া।এটা বেশ ভালো হয়েছে।তবে টিনটিনের কথা শুনে অবাক হয়ে গেলাম।ওর খেলাধুলার সব পড়াশোনা কেন্দ্রিক।এত কম বয়সে পড়াশোনার ফাঁকে খেলাধুলাও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ শরীরচর্চার জন্য।যাইহোক দাদা প্রতিটা ফটোগ্রাফি অসাধারণ হয়েছে আমি জাস্ট মুগ্ধ হয়ে দেখছি। ♥♥

 4 years ago 

পাকা তেঁতুলের স্বাদের গোল্লা বরফ,দাদা এই প্রথম শুনলাম। যাক বৌদি পূজোর জন্য আগে ভাগে টাইম প্লান করে রেখে ভালো করছেন। বৌদি যদি আবদার করে তা তো অবশ্যই রাখতে হবে। কারণ দুগা পূজা বছর একবার আসে, এই পূজা আনন্দ টা একটু বেশি। টিনটিন বাবু এই বয়সে শিখনীয় খেলনা ও বই এর প্রতি আগ্রহ দেখে ভালো লাগল । বেশ অনেক পুজা দেখলেন দাদা। আপনাদের ইন্ডিয়াতে অনেক বড়সড় করে পূজা করে পুজা প্যান্ডেল গুলো দেখে বুঝা যাচ্ছে। এত সুন্দর সাজানো মনে হয় খালি মন্ডপ গুলো থাকিয়ে থাকি।

 4 years ago 

পাকা তেঁতুলের স্বাদের গোল্লা বরফ খেয়ে ভীষণ খুশি সে।

এই স্বাদের যে গোল্লা হয় তা তো জানাই ছিলো না!আমাদের এখানে কখনোই দেখিনি।তাই ভেবেই খেতে ইচ্ছে করছে আমার।
আর দাদা টিনটিন এর এ অভ্যাসের জন্যে কিন্তু খুশি হওয়া উচিত,কারণ সব বাবা মা রা এটাই চায়।আর আপনার মতোই তো বুঝা যাচ্ছে,একেবারে বই পাগল।
যাও,এবার মনে হচ্ছে ঘোরাঘুরিটা ঠিকঠাক হচ্ছে বেশ।
ছবিগুলো বেশ একেবারে আলোকিত,বোঝা যাচ্ছে এলাই ব্যাপার।

 4 years ago 

বাহ বেশ ঘোরাঘুরি হচ্ছে বোঝা যাচ্ছে । তিন ঘন্টা ঘোরাঘুরি তো অনেক সময় । টিনটিন এত ছোট বয়সেই বই পাগল হয়েছে একদম আপনার মত হবে বোঝা যাচ্ছে । মেলা থেকেও শিক্ষণীয় জিনিসগুলোই কিনেছে । আর পূজো প্যান্ডেল গুলো এতটা জাকজমক হয়ে থাকে মনে হয় যেন এক একটা রাজবাড়ির মত ।ভালো ছিলো।সব সময় ভালো থাকেন ।