বেলারিতে ভাগীরথীর তীরে সকালের জলখাবার
নমস্কার বন্ধুরা,
বেলারি রামকৃষ্ণ মিশন আর ভাগীরথী নদীর তীরে শীতের সকালে দাঁড়িয়ে মন পরম শান্তিতে, অথচ পেটে তখন চরম অশান্তি। সকাল সকাল বেরিয়ে এসেছি তাই বেলা বাড়তেই খিদে পেয়ে গেলো। সেই সময়ে ভাগীরথীর পাড়ে এক কাকু আর কাকীমা গুছিয়ে একটা ছোট্ট অস্থায়ী খাবারের দোকান খুলছিল, তাই খিদে একপ্রস্ত বেড়ে গেলো। দেরি না করে সটান তাঁদের দোকানে গিয়ে হাজির হলাম। সকালে কী কী খাবার পাওয়া যেতে পারে, তা একটু খোঁজখবর নিতেই জানতে পারলাম কড়াইতে গরম গরম সিঙ্গারা ভাজা হচ্ছে। আর তা ছাড়া ঘুগনি মুড়ি আর ডিমের ওমলেটও চটজলদি পেয়ে যাবো।
শীতের সকালে গঙ্গা পাড়ে ঠাণ্ডা হাওয়ায় গরম সিঙ্গারা শোনার পর সকালেই আগে সেটাই খাওয়া স্থির করলাম। তাই কড়াই থেকে সিঙ্গারা ওঠার অপেক্ষায় দাঁড়ালাম। কিছু সময়ের অপেক্ষা তারপর হাতে চলে এলো, গরমাগরম সিঙ্গারা, তাও প্রমাণ সাইজের। আলতো করে বাইরের খোলস ভেঙে ভেতরে পুর বের করলাম, মুখে দেওয়ার অবস্থা নেই। পুর থেকে রীতিমতো ধোঁয়া উঠছে। সাথে পাওয়া কাসুন্দিতে অল্প ছুঁইয়ে সিঙ্গারা মুখে দিলাম! সকালে সিঙ্গারা খাওয়ার অভিজ্ঞতা প্রথম হলো। এতো গরম জিভে একটু এদিক ওদিক হলেই পুড়ে যেতো। সাবধানে পুরোটা শেষ করলাম। পেল্লাই সাইজের সিঙ্গারা শেষ করতেও সময় লেগে গেলো। পুরোটা পেটস্থ করার পরেও খিদে রয়ে গেলো। আদপে চোখের খিদে মিটলেও, পেটের খিদেটা পুরোপুরি মেটেনি।
কোনো দ্বিধা না করেই এক প্লেট ঘুগনি মুড়ি আর সাথে একটা ডিমের ওমলেট বলে দিলাম। আবার কিছুক্ষণের অপেক্ষা তারপর দেশি মুড়ির ওপর গরম মটর আলুর ঘুগনি, কুচানো পেঁয়াজ, লঙ্কা চলে এলো। সামনে থেকে তখন একটা বিশাল মালবোঝাইয়ের জাহাজ সামনে থেকে বঙ্গোপোসাগরের দিকে এগিয়ে চলেছে। আমি এদিকে মুড়ি ঘুগনি হাতে দাঁড়িয়ে এমন দৃশ্য উপভোগ করছি। সঙ্গী পাড়ে আছড়ে পড়া জলের আওয়াজ।
জাহাজটা তার মতো করে বেরিয়ে গেলে, মুড়ি ঘুগনি খাওয়া শুরু করলাম। অল্প কিছুটা খেয়েছি ওমলেট এসে পাতে পড়লো। আহা! সামনে গঙ্গার দিগন্তে মিশে যাওয়া বিস্তার আর সাথে বাঙালির জল খাওয়ার। কি যে অনুভূতি, ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
"আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির প্রথম MEME Token : $PUSS by RME দাদা
"আমার বাংলা ব্লগের" প্রথম FUN MEME টোকেন $PUSS এখন SUNSWAP -এ লিস্টেড by RME দাদা
X-প্রোমশনের ক্ষেত্রে যে ট্যাগ গুলো ব্যবহার করবেন,
@sunpumpmeme @trondao $PUSS






