কালো খামের চিঠি ( পর্ব ৩ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "কালো খামের চিঠি" এর তৃতীয় পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর সে দরজা বন্ধ করল, কাগজটি পকেটে রাখল, আর বৃষ্টির মধ্যে বেরিয়ে পড়ল। কিন্তু জানত না, এই রাতই তার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। রাত তখন ঠিক বারোটা ছুঁই ছুঁই। বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও আকাশে ঘন কালো মেঘের আস্তরণ এখনো অটুট। রাস্তার লাইটগুলো একবার জ্বলছে, আবার নিভে যাচ্ছে। চারপাশে এমন এক অস্বাভাবিক নীরবতা, যেন পুরো শহর হঠাৎ করে ঘুমিয়ে পড়েছে। অর্ণব দ্রুত পা চালিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল শহরের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত সেই বহুদিনের পরিত্যক্ত রেল স্টেশনের দিকে। এই স্টেশন এক সময় খুব ব্যস্ত ছিল।
প্রায় পনেরো বছর আগে একটি ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পর রুটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারপর থেকে স্টেশনটি ধীরে ধীরে মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে গেছে। এখন সেখানে শুধু ভাঙা প্ল্যাটফর্ম, মরিচা ধরা রেললাইন আর আগাছায় ঢেকে যাওয়া সিগন্যাল পোস্ট দাঁড়িয়ে আছে। শৈশবে অর্ণব একবার বাবার সঙ্গে এখানে এসেছিল। তখন স্টেশনটি জীবন্ত ছিল। কিন্তু আজ এ যেন মৃত এক জায়গা। স্টেশনের ভাঙা প্রবেশদ্বার পেরোতেই ঠান্ডা বাতাসের ঝাপটা গায়ে এসে লাগল। কোথাও কোনো মানুষের অস্তিত্ব নেই, দূরে এক কোণে বৃষ্টির জল জমে ছোট্ট পুকুরের মতো হয়েছে। তার ওপর বিদ্যুতের আলো পড়ে অদ্ভুত প্রতিফলন তৈরি করছে। অর্ণব নিজের ঘড়ির দিকে তাকাল, তখন প্রায় ১২টা ০১ মিনিট।
সে চারদিকে তাকিয়ে ধীর গলায় বলল- আমি এসেছি, কে আছেন এখানে? কিন্তু কোনো উত্তর নেই। শুধু দূরে কোথাও লোহার পাত দুলে "ঠং, ঠং" শব্দ করছে। এরপর হঠাৎ টর্চের আলোয় প্ল্যাটফর্মের শেষ মাথায় একটি ছায়ামূর্তি দেখা গেল। কালো রেইনকোট, একই মানুষ! অর্ণব বুকের ভেতরের ভয় চাপা দিয়ে দ্রুত এগিয়ে গেল।কিন্তু যতই কাছে যায়, মানুষটিও ততই যেন দূরে সরে যাচ্ছে। একসময় ছায়াটি প্ল্যাটফর্মের শেষ প্রান্ত ঘুরে অদৃশ্য হয়ে গেল। এরপর অর্ণব দৌড়ে সেখানে পৌঁছে থমকে দাঁড়াল। সামনে কেউ নেই, কিন্তু মাটিতে পড়ে আছে আরেকটি কালো খাম।আগেরটির মতোই। কাঁপা হাতে খামটি তুলে খুলল সে। ভেতরে একটি ছোট্ট কাগজ, তাতে লেখা ছিল- সত্যকে খুঁজতে চাইলে অতীতের শব্দ শুনতে শেখো।
আর নিচে একটি সংখ্যা- ১৩। সংখ্যাটার অর্থ কী? প্ল্যাটফর্ম নম্বর? কোনো তারিখ? নাকি কোনো কোড? অর্ণব কাগজটি পকেটে রাখতেই হঠাৎ তার কানে ভেসে এল ট্রেনের হুইসেলের শব্দ।সে জমে গেল, অসম্ভব! এই লাইনে তো বহু বছর ধরে কোনো ট্রেন চলে না, কিন্তু শব্দটা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। রেললাইন যেন কাঁপছে এবং সেই সাথে মাটিও কেঁপে উঠছে। দূরে অন্ধকারের মধ্যে দুটি আলো ধীরে ধীরে বড় হতে লাগল। অর্ণব স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। কয়েক সেকেন্ড পর একটি পুরোনো বাষ্প চালিত ট্রেন যেন অন্ধকার চিরে এগিয়ে এল।তার জানালা গুলোতে হলুদ আলো জ্বলছে। কিন্তু ভেতরে বসে থাকা যাত্রীদের মুখ দেখা যাচ্ছে না।....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





