স্বপ্নের ঠিকানা ( শেষ পর্ব )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে 'স্বপ্নের ঠিকানা' গল্পের শেষ পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর ঠিক তখনই রাহুল স্যার তার পাশে এসে দাঁড়ালো এবং সে খুবই নার্ভাস? অর্ণব হালকা মাথা নাড়ে। এরপর রাহুল স্যার হাসে এবং বলে- ভয় থাকা ভালো।কারণ এটা প্রমাণ করে- তুমি এটা নিয়ে সিরিয়াস।সে একটু থেমে বললো- মনে রেখো, সাফল্য বা ব্যর্থতা- দুটোই অস্থায়ী। কিন্তু চেষ্টা বিষয়টা চিরকাল থাকে। এই কথাগুলো অর্ণবের মনে যেন এক অদ্ভুত শান্তি এনে দিয়েছিলো। এরপর ধীরে ধীরে মানুষ আসতে শুরু করে। শহরের বিভিন্ন মানুষ- অর্থাৎ আর্টপ্রেমী, ক্রেতা, কৌতূহলী দর্শক ইত্যাদি সবাই একে একে ছবিগুলো দেখছে। অর্ণব একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে এবং তার চোখ বারবার নিজের ছবিটার দিকে চলে যাচ্ছে।
এর কিছুক্ষণ পর সে লক্ষ্য করে যে, কয়েকজন মানুষ তার ছবিটার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তারা চুপচাপ দেখতে লাগে, তবে সেই মুহূর্তে কেউ কিছু বলছে না। অর্ণবের বুক ধড়ফড় করতে থাকে। এরমধ্যে হঠাৎ একজন বলে উঠলো- এই ছবিটার মধ্যে একটা গল্প আছে, আরেকজন বলে- দেখলেই মনে হচ্ছে কেউ নিজের পথ খুঁজছে। অর্ণবের চোখ ভিজে ওঠে। একজন ভদ্রলোক এগিয়ে এসে রাহুল স্যারের সঙ্গে কথা বলে। তারপর অর্ণবকে ডেকে বলে- এই ছবিটা কি বিক্রি হবে? অর্ণব শুনেই থমকে যায়। সে কিছু বলতে পারে না। এরপর রাহুল স্যার তার দিকে তাকিয়ে হালকা মাথা নাড়ে এবং বললো- বলো, তুমি পারবে। অর্ণব গভীর শ্বাস নিয়ে বলে- জি, হবে।
এরপর ছবিটা বিক্রি হয়ে যায়। অর্ণব কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। চারপাশে মানুষের ভিড়, কথা, শব্দ- সব যেন দূরে চলে যায়। তার মাথায় শুধু একটা কথা বাজতে থাকে- আমি পেরেছি। তার চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে এবং সে বাইরে এসে এক কোণে দাঁড়ায়। তখন মায়ের মুখ মনে পড়ে যায় এবং সেই সাথে বাবার কথা মনে পড়ে যায়। যারা হয়তো এখনো জানে না- তাদের ছেলে আজ নিজের স্বপ্নের প্রথম বড়ো ধাপটা পেরিয়ে গেছে। সেই মুহূর্তে অর্ণব একটা সিদ্ধান্ত নেয় এবং সে ফোনটা বের করে। অনেকদিন পর সে বাড়িতে ফোন করে। ওপাশ থেকে মায়ের কণ্ঠ ভেসে আসলো- হ্যালো? অর্ণব কিছুক্ষণ কিছু বলতে পারে না। তারপর ধীরে বলে- মা, আমি ভালো আছি। ওপাশে আবার কান্নার শব্দ ভেসে আসতে লাগে।
এরপর রাত হয়ে যায় এবং এক্সিবিশন শেষ, আর সবাই চলেও গেছে। অর্ণব স্টুডিওর ছাদে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। আজ তার কাছে সবকিছু পরিষ্কার। সে বুঝেছে- “স্বপ্নের ঠিকানা” কোনো নির্দিষ্ট জায়গা নয়, এটা একটা অনুভূতি।এটা নিজের ওপর বিশ্বাস রাখার নাম, এটা লড়াই করে নিজের জায়গা তৈরি করার নাম। অর্ণবের এখন একটা ছোট ঘর আছে, একটা কাজ আছে। আর সবচেয়ে বড়ো একটা পরিচয় তৈরি হচ্ছে। কিন্তু তার পথ এখানেই শেষ নয়, এটা শুধু শুরু।সে হালকা হেসে বলে- আমি আমার ঠিকানা খুঁজে পেয়েছি, আর এখন আমি আরও দূরে যাবো। “স্বপ্নের ঠিকানা” আসলে শুধু অর্ণবের গল্প নয়- এটা প্রতিটা মানুষের গল্প, যারা নিজের স্বপ্নের জন্য লড়াই করে।
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





