কালো খামের চিঠি ( পর্ব ২ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "কালো খামের চিঠি" এর দ্বিতীয় পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর অর্ণবের নিঃশ্বাস আটকে গেল। এই প্রতীক সে আগে দেখেছে, অনেক বছর আগে ঐশীর ডায়েরির শেষ পাতায়। সেদিন সে ডায়েরিটা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিল। পরে আর কখনো সেটি ফিরে পায়নি। তাহলে এই প্রতীক এখানে এল কীভাবে? বিকেলটা আর কোনো কাজ করতে পারল না অর্ণব। সে পুরোনো ল্যাপটপ খুলে ঐশীর মৃত্যুর সময়কার কিছু ছবি দেখতে শুরু করল। বেশিরভাগই ঝাপসা, কিন্তু একটি ছবিতে ঐশীর ঘরের দেয়ালে খুব অস্পষ্ট ভাবে একই ধরনের একটি চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। এতদিন সে খেয়ালই করেনি। অর্ণব ছবিটা বড় করে দেখার চেষ্টা করল।
ছবির মান এত খারাপ যে কিছুই পরিষ্কার বোঝা গেল না। ঠিক তখনই তার মোবাইল ফোন বেজে উঠল। অচেনা নম্বর, সে রিসিভ করতেই ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা। তারপর খুব নিচু স্বরে একজন বলল- চিঠিটা পেয়েছেন? অর্ণব সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়াল আর বললো- আপনি কে?কিন্তু কোনো উত্তর নেই, শুধু ধীর নিঃশ্বাসের শব্দ।তারপর আবার কণ্ঠস্বর- আজ রাত বারোটার আগে যদি পুলিশকে জানান, তাহলে দ্বিতীয় চিঠি আর কখনো পাবেন না। এরপর কল কেটে গেল, তারপরেও অর্ণব বারবার নম্বরটিতে ফোন করল।প্রতিবারই উত্তর এল- এই নম্বরটি বর্তমানে অস্তিত্বে নেই। সে বিস্ময়ে ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল। একটা নম্বর কি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে?
সন্ধ্যা নামল, সেই সাথে বৃষ্টি আরও বেড়ে গেল। আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, জানালার কাচে জলের ফোটা গড়িয়ে পড়ছে ধীরে ধীরে। অর্ণবের মনে এক অদ্ভুত দ্বন্দ্ব- যাওয়া উচিত? নাকি সবকিছু উপেক্ষা করা উচিত? এটা কি কোনো ফাঁদ? নাকি সত্যিই কেউ এমন কিছু জানে, যা সাত বছর ধরে কেউ জানত না? রাত তখন সাড়ে এগারোটা। অর্ণব আলমারির ভেতর থেকে একটি টর্চ, একটি ছোট নোটবুক আর পুরোনো ক্যামেরা বের করল।অভ্যাস বশত সবসময় গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় গেলে সে কিছু নোট রাখে। বের হওয়ার আগে আবার কালো খামটার দিকে তাকাল। খামটা যেখানে রেখেছিল, সেখানে নেই। সে অবাক হয়ে চারদিকে খুঁজতে লাগল। কিন্তু টেবিলের নিচে নেই, ড্রয়ারে নেই, এমনকি বিছানার পাশেও নেই। মনে হলো, যেন খামটি কখনো ছিলই না।
কিন্তু কাগজটি এখনো তার হাতে। ঠিক তখনই জানালার বাইরে বিদ্যুতের ঝলকে সে দেখল- সামনের বাড়ির ছাদের কিনারায় কালো রেইনকোট পরা একজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। লোকটির মুখ দেখা যাচ্ছে না। সে শুধু স্থির হয়ে অর্ণবের জানালার দিকেই তাকিয়ে আছে। অর্ণব দ্রুত জানালার কাছে এগিয়ে গেল। আরেকবার বিদ্যুৎ চমকাল। কিন্তু তখন লোকটি উধাও হয়ে গেলো। কিন্তু ছাদের ভেজা মেঝেতে পড়ে রইল একটি ছোট সাদা কাগজ। অর্ণবের বুকের ভেতর ধুকপুকানি বেড়ে গেল। সেটা কি তার জন্যই রেখে যাওয়া হয়েছে? আর যদি হয়, তাহলে এই খেলাটা আসলে শুরু হলো কখন? সে ঘড়ির দিকে তাকাল, রাত তখন ১১টা ৫৬ মিনিট। পুরোনো রেল স্টেশনে পৌঁছাতে তার হাতে আছে মাত্র কয়েক মিনিট।.....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





