শেষ ফোনকলের রহস্য ( পর্ব ১৩ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে একটা নতুন গল্প শেয়ার করে নেবো। গল্পটির নাম হলো "শেষ ফোনকলের রহস্য"। এর ১৩ তম পর্ব শেয়ার করবো। এরপর সেখানে পুরোনো বৈদ্যুতিক তার, লুকানো অ্যান্টেনা, সিগন্যাল রিপিটার আর অদ্ভুত কিছু যোগাযোগ যন্ত্র বসানো। অর্ণব বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল। রুদ্র বলল- এই সুড়ঙ্গ থেকেই সেই ভুয়া ফোন কলগুলো পাঠানো হতো। কিন্তু নম্বর? বন্ধ হয়ে যাওয়া নম্বরগুলোকে বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে আবার দেখানো হতো, যাতে কেউ খুঁজে না পায়। অর্ণব ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করল। রহস্যের এক বড় অংশ প্রযুক্তির আড়ালে লুকিয়ে ছিল। মেঘলা? রুদ্র চোখ বন্ধ করল। মেঘলা খুব মেধাবী ছিল, সে বুঝে গিয়েছিল আমরা কী করছি।
আমরা মানে? রুদ্র তিক্ত হেসে বলল- একটি গোপন অপরাধচক্র।তারা প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচয় বদলাত, মানুষকে ফাঁদে ফেলত আর গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের অদৃশ্য করে দিত। তুই তাদের সঙ্গে কেন? রুদ্র মাথা নিচু করল আর বললো- আমি ঋণে ডুবে ছিলাম। প্রথমে শুধু তথ্য জোগাড় করতাম, পরে আর বের হতে পারিনি। অর্ণবের চোখে পাঁচ বছর আগের দৃশ্যগুলো ধীরে ধীরে পরিষ্কার হতে লাগল।বৃষ্টি, স্টেশন, মেঘলার কাঁদতে কাঁদতে ফোন করা।সে দৌড়ে পৌঁছেছিল। তারপর...রুদ্র। আরও কয়েকজন মুখোশধারী। মেঘলা একটি মেমোরি কার্ড তার হাতে তুলে দিয়ে বলেছিল- যদি আমি বাঁচতে না পারি, সত্যিটা একদিন সবাইকে জানিও।ঠিক সেই মুহূর্তে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত। তারপর সব অন্ধকার।
অর্ণব দুই হাতে মাথা চেপে ধরল। হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিগুলো একে একে ফিরে আসছে। সে কাঁপা গলায় বলল- মেঘলাকে কে মেরেছিল? রুদ্রের চোখে জল এসে গেল। কেউ তাকে ইচ্ছে করে ট্রেনের নিচে ঠেলে দেয়নি, অর্ণব অবাক। রুদ্র বলতে লাগল- ও পালাচ্ছিল, আমরা তাকে ধরতে যাচ্ছিলাম। ট্রেন ঢুকছিল, আমি ওর হাত ধরেছিলাম। ঠিক তখনই আরেকজন পেছন থেকে আমাকে ধাক্কা দেয়। আমি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলি। মেঘলার হাত ছুটে যায়। সে বাকিটুকু বলতে পারল না, দু'হাত দিয়ে মুখ ঢেকে বসে পড়ল। আমি ওকে বাঁচাতে পারিনি। অর্ণবের চোখ ভিজে উঠল। এতদিন সে ভেবেছিল, মেঘলা তাকে ছেড়ে চলে গেছে। আজ জানল, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মেঘলা লড়েছিল। ঠিক তখনই সুড়ঙ্গের অন্য দিক থেকে দ্রুত পায়ের শব্দ ভেসে এল।
কালো পোশাক পরা তিনজন অস্ত্রধারী লোক এগিয়ে আসছে। রুদ্র ফিসফিস করে বলল- ওরা এসেছে মেমোরি কার্ডের জন্য। অর্ণব পকেট থেকে কার্ডটি বের করে শক্ত করে ধরল। লোকগুলোর একজন চিৎকার করে উঠল- কার্ডটা দিয়ে দাও! অর্ণব উত্তর দিল না, রুদ্র সামনে গিয়ে দাঁড়াল। আজ আর না। গুলির শব্দে সুড়ঙ্গ কেঁপে উঠল। রুদ্র অর্ণবকে জোরে ধাক্কা দিয়ে পাশের একটি কংক্রিটের স্তম্ভের আড়ালে ফেলে দিল। প্রথম গুলিটা রুদ্রের কাঁধে লাগল, তবুও সে দাঁড়িয়ে রইল। দ্বিতীয় গুলির পর সে মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। অর্ণব চিৎকার করে উঠল- রুদ্র! রুদ্র দুর্বল গলায় বলল- দৌড়ে যাও, সত্যিটা বাঁচাও। ঠিক তখনই সুড়ঙ্গের ওপরের দিক থেকে পুলিশের কণ্ঠ ভেসে এল- পুলিশ! অস্ত্র ফেলে দিন!.....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





