নীল চিঠির প্রতীক্ষা ( পর্ব ১ )

in আমার বাংলা ব্লগ20 hours ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000080608.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে "নীল চিঠির প্রতীক্ষা" গল্পের প্রথম পর্ব শেয়ার করে নেবো। একদিন বিকেলের দিকে, সেদিন হঠাৎ বিকেলের আকাশটা অদ্ভুত রকমের মেঘলা ছিল। রোদ ছিল না, আবার পুরো অন্ধকারও নয়। যেন প্রকৃতি নিজেই কোনো অজানা বিষাদের মধ্যে ডুবে আছে- এইরকম মনে হতে লাগে। গ্রামের পুরোনো কাঁচা রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে বসে অয়ন চুপচাপ দূরের দিকে তাকিয়ে ছিল।হাতে একটা পুরোনো নীল খাম। খামের কোণগুলো আবার ভাঁজ পড়ে নরম হয়ে গেছে, কিন্তু অয়ন সেটাকে এমনভাবে ধরে রেখেছিল যেন সেটাই তার পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস। সেই সাথে চারপাশে হালকা বাতাস বইছিল।

দূরে কোথাও গরুর ঘণ্টার শব্দ শোনা যাচ্ছিল, মাঝে মাঝে পাখির ডাক ভেসে আসছিল। অথচ এই সমস্ত শব্দের মাঝেও অয়নের মনে হচ্ছিল পৃথিবীটা ভীষণ নীরব। কারণ, আজও সে অপেক্ষা করছে। একটা চিঠির অপেক্ষা, একটা মানুষের অপেক্ষা এবং একটা অসমাপ্ত গল্পের অপেক্ষা। অয়নের বয়স তখন প্রায় ত্রিশ, ছোট্ট একটা লাইব্রেরিতে কাজ করে সে। গ্রামের মানুষ খুব একটা বই পড়ে না, তাই লাইব্রেরিটাও প্রায় সময় ফাঁকা থাকে। কিন্তু অয়ন এই নির্জনতাকেই ভালোবেসে ফেলেছিল। বইয়ের গন্ধ, পুরোনো পাতার শব্দ আর নিঃশব্দ দুপুর- এসবের মাঝেই সে নিজের পৃথিবী বানিয়ে নিয়েছিল। তবে এই নির্জন পৃথিবীটাও একসময় অন্যরকম ছিল।কারণ তখন সেখানে ছিল নীলা।

নীলা ছিল গ্রামের পোস্টমাস্টারের মেয়ে। শান্ত, সহজ আর ভীষণ বই পাগল একটা মেয়ে। প্রায় প্রতিদিনই লাইব্রেরিতে আসত। কখনও গল্পের বই নিতে, কখনও কবিতার বই। আর কখনও কখনও কোনো কারণ ছাড়াই। প্রথম প্রথম অয়ন খুব একটা কথা বলত না, শুধু দূর থেকে দেখত মেয়েটাকে। মেয়েটার চোখের মধ্যে কেমন যেন অদ্ভুত একটা শান্তি ছিল। মনে হতো, সে কথা না বললেও অনেক কিছু বলে ফেলতে পারে। একদিন বিকেলে লাইব্রেরিতে আর কেউ ছিল না। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছিল টুপটাপ শব্দে। নীলা একটা বই ফেরত দিতে এসে বলেছিল- আপনি সবসময় এত চুপচাপ থাকেন কেন? অয়ন একটু অবাক হয়েছিল। তারপর মৃদু হেসে বলেছিল- সব কথা সবাইকে বলতে নেই। নীলা তখন জানালার বাইরে তাকিয়ে বলেছিল- কিছু কথা না বললেও মানুষ বুঝে নেয়।

সেদিনের সেই কথোপকথনের পর থেকেই তাদের মধ্যে অদ্ভুত একটা সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। কোনো নাম ছিল না সেই সম্পর্কে, কিন্তু একটা অদ্ভূত টান ছিল- গভীর, নীরব আর সত্যি। তারপর ধীরে ধীরে সময় বদলাতে লাগল। প্রতিদিন নীলা লাইব্রেরিতে আসত। কখনও নতুন বইয়ের খোঁজ করত, কখনও পুরোনো কবিতা পড়ত। অয়নও অপেক্ষা করত তার জন্য। দিনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত হয়ে উঠেছিল নীলার সেই দরজা ঠেলে ভেতরে ঢোকার দৃশ্য। একদিন নীলা বলেছিল- আপনি কি কখনও কাউকে চিঠি লিখেছেন? অয়ন মাথা নাড়ল এবং বললো- না। চিঠির মধ্যে একটা জাদু আছে জানেন? মানুষ মুখে যা বলতে পারে না, সেটা চিঠিতে লিখে ফেলে। অয়ন মুচকি হেসে জিজ্ঞেস করেছিল- তাহলে আপনি কাউকে চিঠি লেখেন?....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png


Original image no longer available