কালো খামের চিঠি ( পর্ব ৫ )

in আমার বাংলা ব্লগ10 hours ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000088311.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "কালো খামের চিঠি" এর পঞ্চম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- কিন্তু তার মনে হচ্ছিল রাত যেনো এখনো শেষ হয়নি। কারণ সত্যের পথ কেবল শুরু হয়েছে।আর সেই পথের প্রতিটি ধাপে অপেক্ষা করছে নতুন একটি কালো খাম, নতুন একটি চিঠি আর এমন এক রহস্য, যা হয়তো তার পুরো জীবনটাই বদলে দেবে। সকালের আলো ফুটলেও অর্ণবের চোখে ঘুমের কোনো চিহ্ন ছিল না। পরিত্যক্ত রেল স্টেশনে ঘটে যাওয়া রাতের ঘটনাগুলো বারবার মাথার ভেতর ঘুরছিল। কালো রেইনকোট পরা সেই মানুষ, অদ্ভুত ট্রেন, রহস্যময় বৃদ্ধ, আর সেই সাদাকালো ছবি- এই সবকিছু যেন বাস্তবের চেয়েও বেশি বাস্তব ছিল।

বিছানায় বসে সে আবার ছবিটা হাতে নিল। পাঁচজন মানুষ- একজন সে নিজে, একজন ঐশী আর বাকি তিনজনের মধ্যে একজনের মুখ ধারালো কিছু দিয়ে সম্পূর্ণ মুছে ফেলা। সে ছবিটা আলোতে ধরে দেখল কাগজটা বেশ পুরোনো। অন্তত দশ-বারো বছরের হবে। অথচ এমন কোনো দিন তার মনে পড়ছে না, যেদিন এই ছবিটি তোলা হয়েছিল। তার চোখ হঠাৎ ছবির পেছনে লেখা একটি ক্ষীণ সংখ্যায় আটকে গেল- ১৩–বি। গত রাতের চিঠিতে শুধু লেখা ছিল- ১৩ নম্বর লকার। এই "বি" অক্ষরের মানে কী? অর্ণব আর দেরি করল না, দ্রুত পোশাক বদলে বেরিয়ে পড়ল শহরের পুরোনো রেলওয়ে ক্লোক রুমের উদ্দেশ্যে। শহরের নতুন স্টেশন থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে দাঁড়িয়ে আছে সেই পুরোনো ভবনটি।

একসময় যাত্রীরা এখানে তাদের মালপত্র জমা রাখত। এখন ভবনের জানালাগুলো ভাঙা, দেওয়ালে শ্যাওলা জমেছে, আর বড় লোহার গেটে মরিচা ধরে গেছে।সরকারি নোটিশে লেখা- এই ভবন বহু বছর ধরে পরিত্যক্ত এবং প্রবেশ নিষেধ। অর্ণব চারদিকে তাকাল, কিন্তু কেউ নেই। গেটের ডান দিকের ভাঙা অংশ দিয়ে সাবধানে ভেতরে ঢুকে পড়ল। ভেতরে ঢুকতেই যেন এক অদ্ভুত ঠান্ডা বাতাস তাকে ঘিরে ধরল। মেঝেতে ধুলোর পুরু স্তর, মাকড়সার জাল এবং ভাঙা কাঠের আলমারি। ছাদের ফাঁক দিয়ে আলো এসে পড়ছে, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়- ধুলোর মধ্যে এক জোড়া জুতোর ছাপ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।খুব বেশি পুরোনো নয়, মানে কেউ সম্প্রতি এখানে এসেছে। অর্ণব সেই ছাপ অনুসরণ করতে লাগল।

করিডোরের একেবারে শেষ মাথায় সারি সারি লোহার লকার। প্রতিটির নম্বর মুছে গেলেও একটি এখনো স্পষ্ট- ১৩। তার বুকের ধুকপুকানি বেড়ে গেল এবং পরে সে হাত বাড়িয়ে লকার খুলতে গেল, কিন্তু তালা নেই। ধীরে ধীরে দরজা খুলতেই কর্কশ শব্দে পুরো ঘর কেঁপে উঠল। ভেতরে একটি পুরোনো কাঠের বাক্স, বাক্সটির ওপর সাদা চক দিয়ে আঁকা- একটি বৃত্ত। তার ভেতরে উল্টো চোখ, একই প্রতীক। অর্ণব গভীর শ্বাস নিয়ে বাক্সটি খুলল- ভেতরে তিনটি জিনিস। একটি ছোট ক্যাসেট টেপ, একটি লাল রঙের কাপড়ে মোড়ানো ডায়েরি আর একটি রূপার চাবি। চাবির সঙ্গে ঝুলছে ছোট্ট ধাতব ট্যাগ। তাতে খোদাই করা- ১৩-B। অর্ণবের হাত কেঁপে উঠল এবং সে ডায়েরিটি খুলল।.....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png


Original image no longer available