বিচি কলা এবং রুই মাছের সুস্বাদু তরকারি
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
আজকে আপনাদের সাথে একটা রেসিপি শেয়ার করে নেবো। আজকে আমি বিচি কলার তরকারি রান্না করেছি আর সাথে রেখেছি সবার পছন্দের সুস্বাদু রুই মাছ। কলা বিভিন্ন ধরণের রয়েছে যেমন কাঁচা কলা আরো বিভিন্ন প্রকারের আছে। কাঁচা কলা যেমন উপকারী আবার এই বিচি কলাও দারুন উপকারী। এই বিচি কলা পাকা অবস্থায় আবার তরকারিতে দিয়ে খেতে দারুন লাগে। পাকা অবস্থায় দারুন মিষ্টি হয়ে থাকে তবে খাওয়ার সময় এর বিচিতে বিরক্ত করে বেশি। বিচি কলা আমার অনেক পছন্দ কিন্তু আমার এই বিচি কলার বিচি বেছে খেতে গেলে অনেক সময় চলে যায় তাই অনেক সময় আর ভাত দিয়ে মাখিয়ে খাওয়া হয় না, সবসুদ্ধু গালে দিয়ে কলা খেয়ে বিচি ফেলে দেই। অনেক পুষ্টি আছে এই বিচি কলায় ফলে যাদের পুষ্টির সমস্যা আছে তারা বিচি কলা কাঁচা অবস্থায় তরকারি করে খেলে সেই পুষ্টির ঘাটতির অনেকাংশ পূর্ণ হয়ে থাকে। বিচি কলার সাথে সবথেকে ভালো হয় যদি ছোটোখাটো যেমন টাকি জাতীয় মাছ খাওয়া যায় তাহলে আরো ভালো লাগে। তবে বড়ো মাছের সাথেও খেতে অনেক সুস্বাদু লেগে থাকে। আমার এই রুই মাছের সাথেও দারুন টেস্টি হয়েছিল খেতে বিচি কলার তরকারিটা। যাইহোক এখন আমি এই রেসিপিটার উপকরণগুলোর দিকে চলে যাবো।
♨প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ:♨
❦এখন রেসিপিটি যেভাবে তৈরি করলাম---
❆প্রস্তুত প্রণালী:❆

❖রুই মাছটিকে প্রথমে সাইজ মতো করে কেটে নিয়েছিলাম এবং পরে জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিয়েছিলাম। এরপর আলুগুলোর খোসা ছালিয়ে নেওয়ার পরে কেটে পিচ পিচ করে নিয়েছিলাম।
❖বিচি কলাগুলোর কাটার পরে খোসা ফেলে দিয়ে ভিতরের কোয়াগুলো সব আলাদা করে নিয়েছিলাম। পেঁয়াজ এর খোসা ছাড়িয়ে নেওয়ার পরে কেটে নিয়েছিলাম এবং পরে কাঁচা লঙ্কাগুলো সব কেটে নিয়েছিলাম।
❖রুই মাছের পিচগুলোতে ১ চামচ করে লবন আর হলুদ দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর গায়ে ভালো করে মাখিয়ে নিয়েছিলাম।
❖মাছের পিচগুলো ভালো করে ভেজে নিয়েছিলাম। এরপর আলুর পিচগুলোও ভালো করে ভেজে তুলে নিয়েছিলাম।
❖পেঁয়াজ কুচিগুলো ভালো করে ভেজে তুলে নিয়েছিলাম। এরপরে কড়াইতে একটু তেল দিয়ে কালো জিরা দিয়ে দিয়েছিলাম।
❖জিরাটা একটু ভেজে নিয়ে তাতে ভাজা আলুর পিচগুলো সব দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর তাতে বিচি কলার কোয়াগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম।
❖বিচি কলা দেওয়ার পরে তাতে ১ চামচ করে লবন, হলুদ, লঙ্কার গুঁড়ো এবং কেটে রাখা কাঁচা লঙ্কাগুলো জল দিয়ে ধুয়ে দিয়ে দিয়েছিলাম। সাথে পেঁয়াজ ভাজাটাও দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর সব উপাদানগুলো একে অপরের সাথে ভালোভাবে মিক্স করে নিয়েছিলাম।
❖মিক্স করার পরে তাতে পরিমাণমতো জল দিয়ে দিয়েছিলাম। তরকারিটা মোটামুটি খানিক্ষন ধরে ফুটিয়ে নিয়েছিলাম। তরকারি সব সিদ্ধ মতো হয়ে আসলে তাতে ভাজা মাছের পিচগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম।
❖তরকারির থেকে খানিকটা আলুর পিচ তুলে ভালো করে গলিয়ে নিয়েছিলাম তরকারীটিকে ঘন করার জন্য।
❖আলু গলানোর পরে সেটি তরকারিতে আবার দিয়ে মিশিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর তরকারিটা ভালোমতো হয়ে আশা পর্যন্ত দেরি করেছিলাম।
❖দেরি করার পরে আমার তৈরি হয়ে গেছিলো সুস্বাদু আর পুষ্টিকর বিচি কলা দিয়ে তৈরি একটা রেসিপি। এরপর তরকারির দম বসে আসলে তাতে দিয়ে দিয়েছিলাম জিরা গুঁড়ো ছড়িয়ে। এই রেসিপিটা এখন পরিবেশন করে খাওয়ার জন্য প্রস্তুত আছে।
রেসিপি বাই, @winkles
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





কাঁচা কলা দিয়ে রুই মাছ খেয়েছি অনেক। তবে বিচি কলা দিয়ে রুই মাছ রান্না করে কখনো খাওয়া হয়নি। আজকে আপনার কাছে নতুন একটি রেসিপি শিখলাম। বিচি কলা আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। বিচি কলা সাধারণত পাকা খেয়েছি। কাঁচা খাওয়া হয়নি। আজকে আপনার কাছে নতুনভাবে এই রেসিপি শিখলাম। আশা করছি এই রেসিপি খেতে দারুন হয়েছিল। আমি অবশ্যই এই রেসিপিটি তৈরি করার চেষ্টা করবো। মজার রেসিপি তৈরি করে শেয়ার করার জন্য আপনাকে জানাচ্ছি ধন্যবাদ। সেই সাথে আপনার জন্য শুভকামনা ও ভালোবাসা রইল দাদা।❤️❤️❤️
বিচিকলা আমার খুবই প্রিয় দাদা ।এটি অনেক উপকারী, তাছাড়া আমার কাছে পরিপক্ক বিচিকলার তরকারী খেতে বেশি ভালো লাগে।তবে পাকা অবস্থায় তরকারী খেতে খুবই বিরক্তি লাগে দাদা।কেমন মিষ্টি মতো লাগে খেতেই ইচ্ছা করে না।এটি রুই মাছসহ বিভিন্ন বড়ো মাছ দিয়ে রান্না করলে স্বাদ হতে বাধ্য।আপনার রেসিপিটা দারুণ হয়েছে, ধন্যবাদ আপনাকে।
দাদা আপনি বিচি কলা এবং রুই মাছের সুস্বাদু তরকারি রেসিপি খুবই চমৎকার ভাবে আমাদের সাথে তুলে ধরেছেন।বরাবরের মতোই প্রতিটা ধাপ খুবই সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন এবং প্রেজেন্টেশন করেছেন।আপনার পরিবেশনা টা কিন্তু দারুন ছিল।কাঁচা কলা দিয়ে এরকম মাছের তরকারি এবং অন্যান্য তরকারি কথা শুনেছি কিন্তু বিচি কলার তরকারি খাওয়া যায় এই প্রথম আপনার রেসিপি থেকে জানলাম।,
তাছাড়া বিচি কলার চমৎকার পুষ্টিগুণের কথা আপনি তুলে ধরেছেন।আবার খুবই চমৎকার করে আহ্বান করেছেন কারো যদি পুষ্টির ঘাটতি থাকে তাহলে সে যেন বিচি কলার তরকারি খায় ।এবং বিচি কলা নাকি ছোট ছোট টাকি মাছ জাতীয় মাছের সাথে রান্না করলে আরো বেশি সুস্বাদু ও মজাদার হয়ে থাকে।এত চমৎকার একটি ইউনিক রেসিপি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি প্রিয় দাদা সেই আপনার পরিবারের মা সহ সবার জন্য সুস্থতা কামনা করছি।♥♥দাদা বিচি কলা দিয়ে এভাবে রেসিপি কখনো তৈরি করা হয়নি। তবে কাঁচকলা দিয়ে রেসিপি তৈরি করা হয়েছে। বিচি কলা অবশ্য পাকা খেতে ভালই মজা লাগে। তবে অতিরিক্ত বিচির কারণে বিরক্ত চলে আসেন। যাই হোক আজকে আপনার কাছ থেকে একটি নতুন রেসিপি শিখে নিলাম।বিচি কলা দিয়েও রেসিপি তৈরি করা যায়। আর আপনি বিচি কলা দিয়ে রুই মাছের সুস্বাদু রেসিপি তৈরি করেছেন, আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। তাই পরিবেশন দেখে শিখে নিলাম। পরবর্তীতে আমি তৈরি করে দেখব, বিচি কলা দিয়ে রুই মাছের রেসিপি কতটা মজা লাগে। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, আমাদের সাথে সুস্বাদু বিচি কলার রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
দাদা বিচি কলার ঝাড় আছে আমাদের বাড়ীতে। আমি এর আগে একটি পোষ্টে বিচিকলার বড়া কিভাবে তৈরী করতে হয় দেখিয়েছিলাম। তবে আজ আপনার রেসিপি দেখে আমি অবাক। সত্যি এমন ভাবে বিচি কলা দিয়ে রান্না করে কখনও খাওয়া হয়নি। মূলত আজকেই প্রথম জানলাম। আমার মা বিচি কলা সুন্দর করে চালুনিতে বেছে বিচি থেকে আলাদা করে বড়া তৈরী করে । দারুন স্বাদ মিষ্টি হয় খুব। সত্যি বিচি কলায় অনেক উপকার আছে । বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে বাচ্চাদের কৃমির সমস্যা এই বিচি কলা দূর করে। রেসিপিটিতে নতুনত্ব পেলাম । ভাল থাকবেন। শুভেচ্ছা ও ভালবাসা নেবেন।
ছোট বেলায় আমাদের বাড়ির পিছনে এই বিচি কলার গাছ ছিলো অনেকগুলো। কলাগুলো বড় হলে পেরে রাখতাম। যখন পাকতো তখন খেতাম বেশ মজা করে। পরে বুঝতাম ঠ্যালা কি। এর গাছ গুলা আমরা ইচ্ছে করেই লাগাতাম বাড়ির পিছনে যাতে বন্যা মৌসুমে এর গাছ দিয়ে ভেলা বানানো যায়। কারণ বন্যার পানিতে আমাদের চলাচল করতে অসুবিধা হতো।
তবে এই কলার যে তরকারি হয় জানা ছিলো না। আপনার আজকের রেসিপি পোস্ট দেখে ভালো লাগলো। রুই মাছের সাথে এর তরকারি বেশ সুস্বাদু লাগছে দেখতে। খেয়েও বোধ করি মজা পেয়েছেন।
ধন্যবাদ দাদা এমন আনকমন রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
একদম ঠিক বলেছেন দাদা বিচি কলা অনেক বেশি উপকারী। বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের মায়েদেরকে এই বিচি কলা খাওয়ানো হয়। এতে করে নাকি শরীরে রক্ত সঞ্চালন হয়। আর যাদের শরীরে রক্তের ঘাটতি আছে তাদের জন্য বিচি কলার ভূমিকা অপরিসীম। যদিও বিচিগুলো একটু বিরক্ত করে কিন্তু উপকারী দিক ভেবে এই কলা মাঝে মাঝে সবার পরিবারে রান্না করা উচিত। আর রুই মাছ,,,,, রুই মাছের স্বাদ অনেক যে কোন তরকারিতে এইমাছ স্বাদ বাড়ানোতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। অনেক মজার একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন দাদা খুবই ভালো লাগলো।
আসলে এই বিচি কলা গুলো খেতে খুবই মজাদার। কিন্তু এই বিচির জন্য এগুলো খেতে একদমই ভালো লাগে না। বিচি কলা খাওয়ার আপনার এই পথটিই মনে হয় সব থেকে সহজ। একবারে সব মুখে দিয়ে খেয়ে বিচি ফেলে দেওয়া। আমি বিচি কলা দিয়ে কখনো কোন তরকারি রান্না করে খাই নি। আপনার রুই মাছ দিয়ে বিচি কলা রান্না প্রথম দেখলাম। কিন্তু দেখে মনে হচ্ছে যে খেতে খুবই সুস্বাদু হয়েছিল। কয়েকপিস আলু তুলে সেগুলো চটকে তরকারিতে দেয়ার আইডিয়াটা ভালো ছিল। এতে তরকারির ঝোল গাঢ় হয়েছে । খেতে মনে হয় আরো বেশী মজাদার হয়েছিল। সব মিলিয়ে আপনার পুরো রান্নার পদ্ধতিটা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে।
পাকা বিচি কলা অনেক,মিষ্টি হয় কিন্তু খেতে আমার অনেক বিরক্ত লাগে। কিন্তু কাচা বিচি কলার তরকারি খাওয়া হয়নি।তবে মনে হচ্ছে খেতে ভালোই হবে।প্রতিটি ধাপ খুব সুন্দর করে দেখিয়েছেন। ধন্যবাদ
বিচি কলাকে আমাদের দিকে বুইত্তা কলা বলে চিনে মানুষজন। পাঙ্গাস মাছ আর ছোট মাছের সাথে রান্না করে খেতে ভালোই লাগে। আপনি ঠিক বলেছেন দাদা টাকি মাছের সাথে রান্না করে খেলেও মজা। তবে খাওয়ার সময় বিচি সমস্যা হয়। চিবিয়ে খাওয়ার মুড থাকেনা তখন।। যায়হোক, আপনার রেসিপি দেখে মনে হচ্ছে রুই মাছের সাথে খেতে ভীষণ মজার হয়েছে। ধন্যবাদ দাদা রেসিপিটি শেয়ার করে নেয়ার জন্য।