নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটা ( পর্ব ২ )

in আমার বাংলা ব্লগ15 hours ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000083997.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে "নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটা" গল্পের দ্বিতীয় পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর বললো- আমি কি দেখতে পারি? বৃদ্ধ কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল। তারপর ধীরে ধীরে বাক্সটির ওপরের কাপড় সরাল। ভেতরে ছিল একটি অদ্ভুত পকেট ঘড়ি। কালো ধাতুর তৈরি, চারপাশে সূক্ষ্ম কারুকাজ। কিন্তু সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় ছিল ঘড়িটির কাঁটা। সেকেন্ডের কাঁটাটি উল্টো দিকে ঘুরছিল। ঋত্বিক অবাক হয়ে বলল- এটা কীভাবে সম্ভব? বৃদ্ধ ফিসফিস করে বলল- এটাই নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটা। নিষিদ্ধ? হ্যাঁ। একশো বছর আগে একজন ঘড়ি নির্মাতা এটি তৈরি করেছিল। সে সময়কে নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিল। কিন্তু মানুষ সময়কে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য জন্মায়নি।

এরপর ঋত্বিক হাসল আর বললো- তুমি কি বলতে চাইছ, এই ঘড়ির কোনো অলৌকিক শক্তি আছে?বৃদ্ধ গম্ভীর হয়ে গেল। তুমি বিশ্বাস করবে না, আমিও একসময় বিশ্বাস করিনি। কিন্তু এই ঘড়ির জন্য আমি আমার স্ত্রী আর ছেলেকে হারিয়েছি। কথাটা শুনে ঋত্বিক চুপ হয়ে গেল। বৃদ্ধের চোখে জল চিকচিক করছিল। তাহলে এটা ফেলে দাওনি কেন? ফেলে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যেখানেই ফেলেছি, ওটা আবার ফিরে এসেছে। দোকানের সব ঘড়ি হঠাৎ একসঙ্গে টিকটিক শব্দ করতে শুরু করল। ঋত্বিক চারদিকে তাকাল। কয়েক সেকেন্ড আগেও যেসব ঘড়ি বন্ধ ছিল, সেগুলো একসঙ্গে চলতে শুরু করেছে! দোকানের ভেতরে যেন অদ্ভুত এক ঠান্ডা বাতাস বইতে লাগল।

বৃদ্ধ ফিসফিস করে বলল- ও জেগে উঠেছে। ঠিক তখনই দোকানের সব আলো নিভে গেল। চারদিকে অন্ধকার এবং কয়েক মুহূর্ত পর আলো ফিরে এলো। কিন্তু বৃদ্ধটি আর সেখানে নেই, ঋত্বিক বিস্ময়ে চারদিকে তাকাতে লাগল।দোকানের দরজা খোলা, কিন্তু দোকানের ভেতরে কেউ নেই। শুধু সেই কাঠের বাক্সটা টেবিলের ওপর পড়ে আছে। আর তার ভেতরে থাকা কালো পকেট ঘড়ির ঢাকনাটা ধীরে ধীরে নিজে থেকেই খুলে গেল। ভেতরে খোদাই করা ছিল একটি নাম- "ঈশান রায়" আর তার নিচে লেখা- "পরবর্তী মালিক"। ঋত্বিকের হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেল। কারণ "ঈশান রায়" তার নিজের নাম নয়।

কিন্তু সেটি ছিল তার বাবার নাম- যে মানুষটি দশ বছর আগে রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল। আর ঠিক তখনই পকেট ঘড়িটির কাঁটা উল্টো দিকে ঘুরতে ঘুরতে থেমে গেল। সময় ছিল- রাত ৮টা ১৭ মিনিট। ঋত্বিকের মোবাইল ফোন বেজে উঠল। স্ক্রিনে ভেসে উঠল একটি অচেনা নম্বর। কাঁপা হাতে ফোনটি কানে তুলতেই ওপাশ থেকে ভেসে এল একটি পরিচিত কণ্ঠ- ঋত্বিক... ঘড়িটা খুলিস না... আমি এখনও বেঁচে আছি... কণ্ঠটা তার বাবার। কিন্তু দশ বছর আগে যে মানুষটা হারিয়ে গিয়েছিল, সে আজ ফোন করল কীভাবে? ফোনের ওপাশ থেকে ভেসে আসা কণ্ঠটা শুনে ঋত্বিকের শরীরের সমস্ত রক্ত যেন মুহূর্তের জন্য জমে গেল।....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png


Original image no longer available