বর্ণভেদ

Copyright Free Image Source: Pixabay
বর্ণভেদ । ভারতের মাটিতে মানুষে মানুষে সব চাইতে বড় ভেদাভেদ হলো এই "বর্ণভেদ" । একই জাতিসত্ত্বা-কে টুকরো টুকরো করার একটি হীন চক্রান্ত হলো এটি । প্রাচীন কালের একটি উন্নত কার্যকরী প্রথার নিকৃষ্ট রূপ হলো আধুনিক যুগের "বর্ণভেদ প্রথা" । প্রাচীন ভারতে "ব্রাহ্মণ্যবাদ" খুবই প্রবল ছিল, যা বর্তমানে কিছুটা স্তিমিত । আত্মঘাতী একটি সামাজিক প্রথা ও মতবাদ হলো এটি, যা "বর্ণ প্রথা"-কে তীব্রতা প্রদান করে থাকে । "ব্রাহ্মণ্যবাদ" আর্য পুরোহিতদের উর্বর মস্তিষ্কপ্রসূত একটি মতবাদ যাতে সমগ্র সমাজকে ৪ টি স্তরে বিভক্ত করে এবং ব্রাহ্মণদের সর্বশ্রেষ্ঠতা প্রদান করে থাকে ।
=> ব্রাহ্মণ
=> ক্ষত্রিয়
=> বৈশ্য
=> শূদ্র
এই চারটি বর্ণ । এদের মধ্যে সব চাইতে নিষ্কর্মা কিন্তু সকল কিছুর নিয়ন্তা ছিল ব্রাহ্মণ বর্ণের লোকেরা । শুধুমাত্র পুজো-পাঠ, হোম যজ্ঞ ভিন্ন আর কোনো কাজেই লাগতো না এদের । অথচ বলা চলে সমাজের সর্বময় ক্ষমতার আধিকারী ছিল এরাই ।
এবার আশা যাক একেবারে সুপ্রাচীন ভারতের বর্ণপ্রথা-তে । "ব্রাহ্মণ্যবাদ" সুপ্রতিষ্ঠ হওয়ার বহু পূর্বের কথা । আর্যদের আগমন এবং সমগ্র উপমহাদেশ তাদের করতলগত । অনার্যরা বহু যুদ্ধের পর পরাজিত । এই আর্যরা ছিল মধ্য ইউরোপের, মধ্যপ্রাচ্যের এবং ইরান থেকে আগত উন্নত নাসা, গৌর বর্ণ, নীল চক্ষু এবং উচ্চতায় লম্বা ও শক্তিধর এক জাতি । এরাই তিন ভাগে ভাগ হয়ে ইউরোপে, আরব দেশ সমূহ এবং উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে । উপমহাদেশ দখলের পর আর্যরা অনার্যদের হত্যার বদলে তাদেরকে নিজদলের অন্তৰ্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় । জন্ম হয় শূদ্র বর্ণের । আর্যরা দেশ শাসনে খুবই উপযুক্ত ছিল । অনার্যদের ধর্মকে তারা নিজেদের ধর্মের সাথে একীভূত করে । সিন্ধু সভ্যতা গড়ে ওঠে ।
সিন্ধুকে আর্যরা বলতো "হিন্দ", সেই থেকে সমগ্র ভারতবর্ষকে তারা নাম দিলো "হিন্দুস্থান", আর নিজেদেরকে "হিন্দু" । বৈদিক সভ্যতার সূত্রপাত হলো । ধীরে ধীরে বেদ, পুরাণের সৃষ্টি হলো । একই অভিন্ন জাতিসত্ত্বা ছিল তখন । শাসনের সুবিধার্থে জন্ম নিলো সামাজিক শ্রেণীবিন্যাস অর্থাৎ "বর্ণপ্রথা" । সকল পুরোহিত এবং আশ্রমের গুরুশ্রেণীর মানুষদের-কে (বর্তমানের পুরোহিত এবং শিক্ষক শ্রেণী বর্গ) ব্রাহ্মণ বর্ণে বিভক্ত করা হলো । এবং তাঁদেরকে সামরিক এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা ছাড়া আর সকল ধরণের ক্ষমতা প্রদান করা হলো । সবচাইতে সম্মান প্রাপ্ত শ্রেণিবর্গের লোক ছিলেন এই ব্রাহ্মণরা । জন্মসূত্রে ব্রাহ্মণ ছিলেন না কেউই । কার্যভেদে তাদেরকে শ্রেণীভুক্ত করা হতো ।
এরপরের বর্ণ ছিল "ক্ষত্রিয়" । বস্তুত দেশ শাসনের ভার ন্যস্ত থাকতো এই শ্রেণীর মানুষদের হাতে । সমগ্র ভারতবর্ষের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন এই শ্রেণীভুক্ত লোক । এদেরকে ক্ষত্রিয় নামে অভিহিত করা হত । রাজা, রাজপুরুষ এবং সকল রাজকর্মচারী এই শ্রেণীভুক্ত ছিলেন । সকল প্রকারের রাজনৈতিক এবং সামরিক ক্ষমতা ছিল এদেরই হাতে (বর্তমানের দেশের সরকার, প্রধান মন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী, আমলা এবং সকল সরকারি কর্মচারী ) ।
প্রাচীন ভারতবর্ষের সকল ব্যবসায়ী শ্রেণীভুক্ত মানুষদের আলাদা একটি শ্রেণীতে রাখা হলো । জন্ম হলো "বৈশ্য" বর্ণ । দেশের সকল রকমের অর্থনৈতিক ব্যাপারে এদের অবাধ বিচরণ ছিল । ব্যবসা এবং দেশের আর্থিক উন্নতিসাধন ছিলো এদের একমাত্র কর্ম (বর্তমানের সকল কর্পোরেট সংস্থার মালিক থেকে শুরু করে বৃহৎ, মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী )।
এর পর বাকি থাকে কারা ? সাধারণ জনসাধারণ । যাদের একটি বৃহৎ অংশ ছিল অনার্য । এদেরকে আলাদা একটি শ্রেণীভুক্ত করা হলো । সাধারণ জনগণ এরাই ।দেশের প্রজা । চাষবাস আর উপরের তিন শ্রেণীর মানুষদের অধীনে বিভিন্ন কাজকর্মে যুক্ত করা হলো তাদেরকে (বর্তমানের সাধারণ জনসাধারণ )। জন্ম নিলো "শূদ্র" ।
তাহলে দেখা যাচ্ছে প্রাচীন ভারতের বর্ণপ্রথা সত্যি সময়োপযোগী একটি কার্যকরী সিস্টেম ছিল । সমাজকে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করার ফলে দেশ শাসন সহজতর এবং সঠিক ছিল । তখন কেউই জন্মসূত্রে এই সকল শ্রেণীভুক্ত হতো না । এক জন শূদ্র কর্মগুণে ব্রাহ্মণ বা ক্ষত্রিয় শ্রেণীভুক্ত হতে পারতো যেমন ঠিক তেমনি এক জন ব্রাহ্মণ শূদ্র শ্রেণীভুক্ত হতে পারতো তার কর্মফলে । স্থায়ী বা জন্মসূত্রে এই বর্ণ প্রদান করা হতো না । কিন্তু, পরবর্তীতে ব্রাহ্মণরা ক্ষত্রিয়দের চাইতেও প্রচুর ক্ষমতাশালী হয়ে উঠতে থাকে, বানোয়াট ধর্মের দোহাই দিয়ে শুরু করে তাদের কুচক্র হাসিল করার কাজ । সৃষ্টি হয় আরেক বর্ণপ্রথা, নির্মম নিষ্ঠুর , সাধারণ জনগণকে পায়ের তলায় পিষে রাখার বর্ণপ্রথা । তাই, প্রাচীন ভারতের বর্ণপ্রথার সাথে আধুনিক যুগের বর্ণপ্রথার প্রভূত অমিল, বস্তুত আকাশ পাতাল তফাৎ । এই বিষবাস্প-কে আমাদের দূর করতেই হবে । যে করেই হোক ।
আমার ছোটবেলার একটি ঘটনা দিয়ে নিবন্ধটি শেষ করতে চাইছি । আমি গ্রামের যে স্কুলে ছোটবেলায় পড়াশুনা করেছিলাম সেখানে আমার সহপাঠী কোনো মুসলিম ছেলে ছিলো না, আমার চাইতে দু'ক্লাস উপরে পড়তো একটি মুসলিম ছেলে । যাই, হোক আমার সহপাঠীর মধ্যে ১ জন ছিল নিম্নবর্ণের হিন্দু এবং একজন সহপাঠিনী ছিল মুসলিম । এই মুসলিম সহপাঠিনীর সাথে আমার দারুন ভাব ছিল । এক সাথে টিফিন ভাগ করে কত খেয়েছি । যেখানে আমার সহপাঠীরা এড়িয়ে চলতো তাকে এবং আড়ালে নানা কটুবাক্য প্রয়োগ করতো । আর সব চাইতে মনোকষ্টে থাকতো সেই নিম্নবর্ণের ছেলেটি । আমার ভাবতেই অবাক লাগে ওই বয়সেও বর্ণভেদ আমার সহপাঠীদের শিশুমনে গেঁড়ে বসেছিল । আমি এ সব কোনো কালেই গায়ে মাখিনি । মানুষের একটাই জাত সে মানুষ । তাই আমি আমার ওই বন্ধুটির বাড়িতে একদিন জল খেলুম । বেশ বড় একটি শোরগোল উঠলো পাড়ায় । আমার বাবা বিষয়টা মোটেও গায়ে না মাখাতে সবাই মিইয়ে গেলো কেমন । এরপরে ব্যুমেরাং - ভাত খেলুম একদিন তার বাড়ি দুপুর বেলায়, বর্ণভেদের মাথায় সজোরে পদাঘাত করে । আমি তখন মোটে ক্লাস থ্রী । অন্নপাপ বাপরে বাপ্ । সেই অন্নপাপ-ই আমি করেছিলুম সেদিন । তখন তো আর অতো শত বুঝতাম না । বন্ধুর বাড়ি খেয়েছি , ভালো লেগেছিলো । এখন গর্বই হয় ।
চণ্ডীদাস নিজে ছিলেন ব্রাহ্মণ আর ভালোবেসেছিলেন এক ধোপার মেয়ে রজকিনী রামী-কে । তাঁর একটি পদাবলীর থেকে একটি লাইন এখানে দিলুম -
সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই ।
Beautiful.
আমার দাদা সেই ছোটবেলা থেকেই এক দারুন মনের অধিকারী। আপনার বাবার অবস্থান ছিল সত্যিই প্রশংসনীয়। যেমন বাপ, তেমন তার বেটা। আমাদের সমাজের ছোট্ট শিশুমন থেকেই এই হীন বর্ণবাদের আবির্ভাব ঘটে তাঁর পরিবারের শিক্ষা থেকেই। আহা ,, আমরা সবাই যদি নিজের ভাই এর মতকরে একে ওপরের সাথে মিশে থাকতাম, তবে সমাজের রূপটাই পরিবর্তন হয়ে যেত।
Thank You for sharing Your insights...
জি, দাদা, এটা সত্য কথা যে,
প্রাচীন ভারতের বর্ণপ্রথার সাথে আধুনিক যুগের বর্ণপ্রথার অনেক ব্যবধান , তবে পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষের ধ্যান-ধারণা যদি আপনার মত হত তাহলে পৃথিবীতে বসেই আমরা স্বর্গীয় সুখ উপভোগ করতে পারতাম, মানুষের মাঝে বর্ণবাদ নিয়ে আর এত সমস্যা সৃষ্টি হতো না।
সত্যিই এটি খুবই দুঃখজনক একটি বিষয়।তবে এই বর্নভেদ পূর্বে চরমতম থাকলেও এখন কিছুটা কমেছে।যদিও কোথাও কোথাও এই বর্নভেদ প্রথা এখন ও চলে আসছে ধারাবাহিকতায়।ভাবতেই অবাক লাগে।আমি একটা শব্দই বিশ্বাস করি সেটা হলো"মানুষ"।অনেক শিক্ষণীয় বিষয় ছিল দাদা।
হিন্দু ধর্মের ব্যপারগুলো যদিও আমার অনেকটাই আবছা আবছা জানা ছিল, তবে ব্যাপারটা পুরোপুরি জেনে ভালোই লাগলো । বেশি ভালো লেগেছে, আপনার সহপাঠিনীর প্রতি আন্তরিকতা দেখে । আসলে আমি যেটা মনে করি, সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপর নাই । এটাই প্রথম ও শেষ কথা । বেশ ভালই লিখেছেন ভাই ।
দাদা হিন্দুদের মধ্যে জাতের ব্যাপারটা শুনেছি। কিন্তু এত জাত আছে ভালো ভাবে জানা ছিল না। আজকে অনেক কিছু জানলাম। আপনার পোস্ট মানেই শিক্ষনীয় কিছু।
সহপাঠিনী দেখেই কি খাতিরটা একটু বেশি ছিল মনে হয়। শত হলেও আপনি বলে কথা।😝
আপনি ছোটবেলা থেকেই আলাদা ছিলেন সবকিছুতেই। এ জন্যই তো আপনাকে আমারা এত পছন্দ করি।
Thank You for sharing...
হুম, ছোটবেলায় আমার সাথে সহপাঠীর চাইতে সহপাঠিনীদের সাথেই ভাব বেশি ছিল । ঠিকই ধরেছেন আপনি ।
বড় বেলার সহপাঠিনীদের নিয়ে একদিন লিখবেন। সেই অপেক্ষায় রইলাম।
Openly লিখবো না, হে হে ☺️ ডিসকর্ড এ লিখবো কথা দিলাম ।
হুররে।
স্ক্রিনশট নিয়ে রাখতে ভুলবো না কথা দিলাম।
বর্ণ বৈষম্য সম্পর্কে পাঠ্যবইতে অনেক পড়েছি। আমার জানা ছিল ব্রহ্মার শরীরের উপরের অংশ থেকে তৈরি হয়েছে ব্রাহ্মণ, তারপর ক্ষত্রিয়, তারপর বৈশ্য এবং একেবারে শেষে পায়ের অংশ থেকে তৈরি হয়েছে শূদ্র জাতি। কোথায় যেন পড়েছিলাম এমনটা। আমার ধারণা ছিল এ বর্ণপ্রথা হিন্দু ধর্ম গ্রন্থের দ্বারা স্বীকৃত কিন্তু এখন জানতে পারলাম যে পুরোটাই বানোয়াট। নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য সুবিধাবাদী কিছু মানুষ তৈরি করেছে এই প্রথা। সত্যি বলতে কি এই প্রথার মধ্যে আমি মানুষকে হেয় করা বা মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি করা ছাড়া ভাল কোন কিছু দেখতে পাই না। আপনি একজন উন্নতমানের আধুনিক সুশিক্ষা সম্পন্ন মানুষ, তাই হয়তো এমন বলতে পারছেন। আপনার জাতির অন্যান্য মানুষের ধারণা হয়তো ভিন্ন। যাই হোক মনুষ্যত্বের জয় হোক এটাই কামনা। ভালোবাসা রইল দাদা।❤️❤️👍
Thank You for sharing Your insights...
দাদা এখনও আমাদের সমাজে
এই চার বর্নের ভেদাভেদ পরিলক্ষিত হয়। তবে ভারতবর্ষ অনেক এগিয়ে গিয়েছে।বহু ভাষা বহু জাতী বহু বর্ন নিয়ে ভারতবর্ষ চলছে।কালের বিবর্তনে সব ধরনের কুসংস্কার হয়তো বিলীন হয়ে যাবে। খুবি জটিল একটি বিষয় নিয়ে লিখেছেন।আমিও ছোট থেকে বড় হয়েছি এগুলোকে দূরে রেখে। আমারও বেষ্ট ফ্রেন্ড মানে সহপাঠিনী এক জন মুসলিম। যার সাথে এখনও আমার যোগাযোগ অক্ষুন্ন আছে। আমি তাদের বাড়িতে অনেকবার খেয়েছি।যাই হোক স্থান কাল পাত্র ভেদে কিছু বিষয় এখনও লক্ষ করা যায়।যেগুলো কোন প্রকার যৌক্তিকতা ছাড়াই এখনও প্রচলিত। ভাল থাকবেন দাদা। শুভেচ্ছা রইল।
যত দিন জাতপাতের কচকচনি চলতে থাকবে ততদিন আমাদের সমাজের সার্বিক ক্ষতি হতে থাকবে। মানুষের বানানো কিছু নিয়মের সত্যিই বদল প্রয়োজন। আশা করছি শিক্ষা কিছুটা হলেও পরিবর্তন করবে।
দাদা, নতুন জিনগত রিসার্চ গুলোতে অর্য ইনভেশন থিয়োরি শুধুমাত্র রটনা হিসেবেই বলা হচ্ছে।
এটি বেশ ইন্টারেষ্টিং তো । "আর্য ইনভেশন" যদি মিথ্যা হয়ে থাকে তবে তো নতুন একটি ইতিহাস উন্মোচিত হবে । সিন্ধু সভ্যতা নিয়ে পড়ার খুউব ইচ্ছে আছে টাইম বের করতে পারছি না । রাহুল সাংকৃত্যায়নের "ভোলগা সে গঙ্গা" বইটা পড়া আছে আমার । অনেকগুলি ছোট বড় গল্পের মধ্য দিয়ে প্রাচীন ইন্ডাস ভ্যালি সিভিলাইজেশন এবং তৎ পরবর্তী নানান সভ্যতা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে । ইন্টারেষ্টিং খুব ।
রাখিগ্রাহীর কাছে নতুন কঙ্কালগুলোর জেনেটিক্স রিসার্চ করে প্রাথমিক ভাবে যা তথ্য উঠে এসেছে তাতে ইনভেশন থিয়োরিকে নস্যাৎ করছে। ব্রিটিশরা মিথ্যে বললেও জিন তো মিথ্যে বলবে না। আশা করা যায় আগামী ১০ বছরের মধ্যে সব কিছু জলের মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে।
দাদা, "ভোলগা সে গঙ্গা" বইটা ফিকশন না?
ইতিহাস আশ্রিত ফিকশন ।