অসহিষ্ণুতার আয়না।

in আমার বাংলা ব্লগ6 hours ago

34290.jpg
source

যে কথা শুনতে আপনি পছন্দ করেন না, যে কথা শুনলেই আপনার গা গুলায়, তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন, রক্ত টগবগ করে, মেজাজ হারিয়ে ফেলেন, হিতাহিতজ্ঞান ভুলে যান—সেই কথাই অনায়াসে অন্য কেউ আপনার চোখে চোখ রেখে সরাসরি বলে দেবে, এটাই তো স্বাভাবিক।

আপনার সহিষ্ণুতার অভাব, যা নিতান্তই আপনার ব্যক্তিগত সমস্যা। তাছাড়া, আপনার ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব তো আর অন্য কেউ নিয়ে বসে নেই, কিংবা থাকবেও না। এটাই বাস্তবতা।

পৃথিবী কখনোই আমাদের পছন্দ-অপছন্দের হিসাব কষে চলে না। মানুষের মুখে যেমন প্রশংসা থাকে, তেমনি থাকে সমালোচনা; যেমন মধুর বাক্য থাকে, তেমনি থাকে তিক্ত সত্যও। আপনি কোনটি শুনবেন, কোনটি গ্রহণ করবেন, আর কোনটি উপেক্ষা করবেন—সেই সিদ্ধান্ত আপনার। কিন্তু কেউ আপনার অপছন্দের কথা বললেই যদি আপনি সংযম হারিয়ে ফেলেন, তবে সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু কথাটি নয়, বরং আপনার প্রতিক্রিয়া।

মতের ভিন্নতা, অস্বস্তিকর সত্য কিংবা কঠিন সমালোচনা—এসব সভ্য সমাজেরই অংশ। সব কথা আপনার মনমতো হবে, এমন প্রত্যাশা যেমন অবাস্তব, তেমনি সব মানুষ আপনার অনুভূতির ভার বহন করবে—এমন ধারণাও অযৌক্তিক।

নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা, ভিন্ন মতকে সহ্য করার মানসিকতা গড়ে তোলা এবং যুক্তি দিয়ে জবাব দেওয়াই পরিপক্বতার পরিচয়।

বাস্তবতা হলো, পৃথিবী আপনার সুবিধামতো বদলাবে না। তাই প্রতিটি অপছন্দের কথাকে যুদ্ধ হিসেবে না দেখে, নিজেকে আরও সহিষ্ণু, সংযত ও আত্মবিশ্লেষণী করে তোলাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ, যে মানুষ নিজের প্রতিক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, শেষ পর্যন্ত প্রকৃত শক্তিশালী মানুষও সে-ই।