চলিতেছে সার্কাস
সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকার দেশে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নতুন দুটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এটা অবশ্যই সরকারের প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
তবে যে দুটি নতুন ইপিজেড বাস্তবায়ন হচ্ছে, সেগুলোর একটিও আমাদের এলাকায় হচ্ছে না।
তাহলে দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের এলাকার মানুষ ইপিজেড বাস্তবায়নের পক্ষে যে আন্দোলন করলো, মিছিল-মিটিং করলো, এমনকি ভোটের আগে জনপ্রতিনিধিরা অগ্নিঝরা বক্তব্য দিয়ে জনগণের সামনে প্রতিনিয়ত যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেন—সেগুলো কি তাহলে সবই বৃথা?
মূলা ঝোলানোর মতো করে সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করা হলো এ ক্ষেত্রে। হিসাবটা একদম সহজ-সরল—যেহেতু সামনে ভোট ছিল এবং স্থানীয় জনগণ আগে থেকেই ইপিজেড বাস্তবায়নের পক্ষে ছিল, তাই সেখানে জনপ্রতিনিধিরা আবেগের একটু সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন। মানে, যেদিকে বাতাস সেদিকে বৃষ্টি। অতঃপর ভোট শেষ।
তারপর থেকেই জনপ্রতিনিধিদের চেহারায় পরিবর্তন আসা শুরু হয়েছে। কত কথা কত দিকে ছড়িয়ে যাচ্ছে, তবে মূল কাজের কথায় সবাই যেন অন্ধ। অথচ ইপিজেড হলে স্থানীয় এলাকার চেহারা সম্পূর্ণ বদলে যাবে, সৃষ্টি হবে ব্যাপক কর্মসংস্থান। বেকারত্বের অভিশাপও অনেকাংশে কমে যাবে।
যাই হোক, কে শোনে কার কথা! চোখের জল ফেলে আমাদের এলাকার মানুষ, আর দুধের স্বাদ পায় অন্য এলাকার লোকজন। এই হচ্ছে বর্তমান অবস্থা।
