Better Life with Steem||The Diary Game|| 14 July 2026||

in Incredible India29 days ago

IMG_20260714_165308.jpg

প্রতিদিনের মতো আজও সকাল সকাল ঘুম থেকে জেগে উঠি। ঘুম থেকে উঠে আজ আর কোথাও না গিয়ে সরাসরি টিউবওয়েল পাড়ে গিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে নিজেকে ফ্রেশ করে নিই। ফ্রেশ হওয়ার পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আমার ওয়াইফকে সকালের নাস্তা দিতে

IMG_20260714_165547.jpg

বলি। তিনি নাস্তা প্রস্তুত করে দিলে আলহামদুলিল্লাহ, খুব আনন্দের সঙ্গে সকালের খাবার খেয়ে নিই। আজকের সকালের নাস্তা অন্যদিনের তুলনায় অনেক ভালো ছিল। গরম গরম ভাতের সঙ্গে হাঁসের মাংসের তরকারি খেয়ে সত্যিই অনেক তৃপ্তি পেয়েছি।

IMG_20260714_164928.jpg

সকালের খাবার শেষ করার কিছুক্ষণ পর আমার ওয়াইফ এক গ্লাস ভাতের ফ্যান (মাড়) এনে আমাকে খেতে দেয়। প্রায়ই তিনি আমাকে ভাতের ফ্যান খেতে দেন। তাই আজও কোনো দ্বিধা না করে সেটি খেয়ে নিই। এরপর ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি দশটা বাজতে তখনও বিশ মিনিট বাকি। তাই দ্রুত প্রস্তুত হয়ে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা দিই।

স্কুলে পৌঁছে অফিস কক্ষে বসে সহকর্মীদের সঙ্গে গল্প-আড্ডা ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে করতে সময় কাটাই। এভাবে সাড়ে দশটা পর্যন্ত অফিস কক্ষেই ছিলাম। এরপর দপ্তর ক্লাসের ঘণ্টা বাজালে আমরা সবাই নিজ নিজ শ্রেণিকক্ষে গিয়ে ক্লাস নেওয়া শুরু করি। একটি ক্লাস শেষ হওয়ার পর বিরতি দেওয়া হয়। বিরতির পর আবার নিয়মমতো ক্লাসে গিয়ে দুপুর ২ টা পর্যন্ত মোট চারটি ক্লাস গ্রহণ করি।

আজ দুপুরে বাড়িতে যাওয়ার পরিবর্তে স্কুলেই থাকার পরিকল্পনা ছিল। কারণ আমাদের হেড স্যার সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য কাঁঠাল ও মুড়ির আয়োজন করেছিলেন। তিনি বললেন, আজ কেউ বাড়িতে যাবেন না, সবাইকে স্কুলেই দুপুরের আপ্যায়ন করবেন।

IMG_20260714_164739.jpg

তাঁর কথা শুনে আমরাও স্কুলেই থেকে কাঁঠাল ও মুড়ি খেয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, কাঁঠালটি খুবই মিষ্টি ছিল। তাই মুড়ির সঙ্গে খেতে দারুণ স্বাদ লেগেছে। সেই সময় একটি ছবিও তুলে রেখেছিলাম, যা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি।

খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আবার অফিস কক্ষে বসেছিলাম। এ সময় জানতে পারলাম, আমাদের হেড স্যারের চোখে কিছুদিন ধরে সমস্যা হচ্ছিল। তিনি বাজারের একটি ফার্মেসি থেকে চোখের ড্রপ এনে

IMG_20260714_164814.jpg

নিয়মিত ব্যবহার করছেন। তিনি জানালেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ব্যবহার করার ফলে অনেক উপকার পেয়েছেন। বিষয়টি জেনে আমি সেই ড্রপটির একটি ছবিও তুলে রেখেছিলাম, যা আপনাদের মাঝে শেয়ার করছি।

এরপর আরও কিছু সময় সহকর্মীদের সঙ্গে গল্প-আড্ডা দিয়ে কাটাই। দুপুর দুইটার দিকে আবার ক্লাসের ঘণ্টা বাজলে সবাই নিজ নিজ শ্রেণিকক্ষে চলে যাই। প্রতিদিনের মতো বিকেল চারটা পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে ক্লাস নেওয়া হয়।

IMG_20260714_165048.jpg

স্কুল ছুটি হওয়ার পর অন্যদের মতো সরাসরি বাড়ি না গিয়ে আমাদের গ্রামের বড় বাজারে যাই। সেখানে প্রয়োজনীয় কিছু বাজার করি। বাজার থেকে বেগুন, আলু এবং এক কেজি কাঁচা মরিচ কিনেছিলাম। বাজার করার সময় কয়েকটি ছবিও তুলে রেখেছিলাম, যা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি।

IMG_20260714_165119.jpg

বাজার করার পর মনে পড়ল, আমার ওয়াইফ লটকন খেতে বলেছিল। তাই বাজারে লটকন খুঁজতে শুরু করি। কিছুক্ষণ পর একটি দোকানে লটকন পেয়ে দেখি, বিক্রেতা আমারই এক ছাত্র। আমাকে দেখে সে সালাম দিল, আমিও তার সালামের উত্তর দিলাম।

IMG_20260714_165202.jpg

আমি যখন লটকন কিনতে চাইলাম, তখন সে বলল, "স্যার, আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো লটকনগুলো বেছে দিচ্ছি।" তার আন্তরিকতা দেখে খুব ভালো লাগল।

IMG_20260714_165308.jpg

অন্য ক্রেতাদের তুলনায় সে আমার কাছ থেকে বিশ টাকা কম নিয়েছিল। এরপর এক কেজি লটকন কিনে একটি অটোরিকশায় করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিই।

বাড়িতে পৌঁছে বাজারের সব জিনিস এবং লটকন আমার ওয়াইফের হাতে তুলে দিলে তিনি খুব খুশি হন। এরপর আমি নিজেও ফ্রেশ হয়ে নিই। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি তখন সাড়ে ছয়টা বাজে। তাই আর বাইরে কোথাও না গিয়ে পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটাতে থাকি।

রাত সাড়ে আটটার দিকে পরিবারের সবাই মিলে রাতের খাবার খেয়ে নিই। এরপর রাত প্রায় নয়টার দিকে আমার ভাতিজা ফোন করে তার দোকানে যেতে বলে। আমি তার দোকানে গিয়ে কিছু সময় গল্প-আড্ডা দিই। প্রায় রাত দশটার দিকে বাড়ি থেকে ফোন আসায় আবার বাড়িতে ফিরে আসি।

বাড়িতে ফিরে কিছুক্ষণ মোবাইল ব্যবহার করি। এরপর রাত প্রায় এগারোটার দিকে দিনের সব কাজ শেষ করে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমিয়ে পড়ি।

এই ছিল আমার সেদিনের সারাদিনের কার্যক্রম। আশা করি আপনাদের সবার ভালো লাগবে। যদি পোস্টটি ভালো লাগে, তাহলে অবশ্যই আপনার মূল্যবান মতামত জানাবেন। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।

Sort:  
Loading...
1000057660.png
Curated By : memamun
 28 days ago 

Many many thanks for your support.❤️❤️