Better Life with Steem||The Diary Game|| 23 July 2026||
প্রতিদিনের মতো সকাল সকাল ঘুম থেকে জেগে উঠি। ঘুম থেকে জেগে উঠে আজকে কোথাও না গিয়ে সরাসরি টিউবওয়েলপাড়ে গিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হলাম।ফ্রেশ হয়ে আমার রুমে আসতেই তাওই বাড়ি থেকে ফোন এলো।তারা জানালো, আজকে
তাদের বাড়িতে যেতে হবে।কারণ দুইদিন আগে আমাদের দাওয়াত দিয়ে গিয়েছিল। আজকেও সকালে আবার ফোন করে বলল, আজই যেন চলে যাই।আমি বললাম,আমার স্কুল আছে, স্কুলে যেতে হবে। তখন তারা বলল, আজকে সকালে চলে আসতে হবে,স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে নাও।
যাইহোক,ফোন পাওয়ার পর আর আজকে স্কুলে যাওয়া হলো না। আমি নুরুল ইসলাম স্যারকে ফোন দিয়ে বললাম, আজকে আমি স্কুলে যেতে পারব না, তাই আমার ক্লাসগুলো আপনি নিয়ে নেবেন। স্যার বললেন, ঠিক আছে। এতে আমি অনেক খুশি হলাম।
রুমে ফিরে আমার ওয়াইফকে সকালের খাবার দিতে বললাম। তিনি খাবার দিলে আমি সকালের নাস্তা করে নিলাম। নাস্তার খাওয়ার একটু পর টিউবওয়েলপাড়ে গিয়ে গোসল করলাম। গোসল শেষ করে প্রায় এগারোটার দিকে তাওই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। কারণ আজকে সেখানে দুপুরের খাওয়ার ব্যবস্থা ছিল।
রাস্তায় গিয়ে দেখি অনেক মানুষ হাঁটাহাঁটি করছে। আমি একটি অটোগাড়ির জন্য রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকলাম। অপেক্ষা করার সময় একটি ছবিও তুলে রেখেছিলাম, যা আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম। প্রায় দশ মিনিট পর একটি গাড়ি পেলাম। গাড়িতে উঠে নাটুয়ারপাড়া বাজারে যেতে বললাম। কারণ সেখান থেকে মিষ্টি ও দই কিনব।
বাজারে পৌঁছে মিষ্টি ও দই অর্ডার করলাম। সব মিলিয়ে ৬০০ টাকা বিল হলো। বিল পরিশোধ করার আগে মিষ্টিওয়ালা যখন মিষ্টি ও দই প্যাকেট করে দিচ্ছিল, তখন একটি ছবি তুলে রেখেছিলাম, সেটিও আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম।
এরপর মিষ্টি ও দই নিয়ে আবার অটোগাড়িতে করে তাওই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। সেখানে পৌঁছাতে প্রায় আধা ঘণ্টা সময় লাগল। বাড়িতে পৌঁছে
দেখি রান্নাবান্নার কাজ পুরোদমে চলছে। কারণ
আমার তাওই শ্বশুরের বাবা এক সপ্তাহ আগে ইন্তেকাল করেছেন। সেই উপলক্ষে আজ আত্মীয়-স্বজনদের জন্য দোয়া ও খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব আয়োজন দেখে একটি ছবিও তুলে রাখলাম।
এরপর বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করলাম। মিষ্টি ও দই জমা দিয়ে বসে থাকলাম। তখন ঘড়িতে প্রায় বারোটা বাজে। যেহেতু দুপুর দুইটার দিকে খাওয়ার ব্যবস্থা হবে, তাই কিছু সময় বসে থাকার সিদ্ধান্ত নিলাম।
তাওই বাড়ির পাশে একটি নদী রয়েছে। শুনলাম, বন্যার কারণে নদীটি প্রচণ্ড ভাঙছে। তাই আমরা কয়েকজন মিলে নদী দেখতে গেলাম। সেখানে গিয়ে সত্যিই অবাক হয়ে গেলাম। নদীভাঙনে আশপাশের
অনেক বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। অনেক পরিবার অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। এই দৃশ্য দেখে খুব খারাপ লাগল। সেখানে কয়েকটি ছবি তুলে আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম। ছবিতে দেখবেন, অনেক মানুষ নদীভাঙন দেখতে এসে আফসোস করছে।
আসলে আফসোস করে লাভ নেই। মহান আল্লাহই সকল বিপদ-আপদের মালিক। রিজিকের মালিক আল্লাহ, হায়াতের মালিক আল্লাহ। তাই সব সময় আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে এবং তাঁর কাছেই সাহায্য চাইতে হবে। হে আল্লাহ! আমাদের এবং যারা নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন, সকলকে আপনি এই বিপদ থেকে রক্ষা করুন।
এরপর সাড়ে বারোটার দিকে আবার তাওই বাড়িতে ফিরে এলাম। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর আমার নানা শ্বশুর এলেন। তাঁকে সালাম দিলাম। এরপর আমরা দুজনে একসঙ্গে ডিম ভাজা দিয়ে বিরিয়ানি খেলাম।
কিছুক্ষণ পর ১১ জন হুজুর এসে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত শুরু করলেন। তারা একসঙ্গে এক খতম কোরআন সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে তেলাওয়াত করছিলেন। এরপর আজানের সময় হলে সবাই অজু করে নামাজ আদায় করলেন। আমরাও নামাজ শেষে মিলাদে অংশগ্রহণ করলাম।
প্রায় দুইটার দিকে মিলাদ শেষ হলো। এরপর অতিথিদের জন্য খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। আমরা আগে বসিনি। প্রথমে সকল অতিথিকে
খাওয়ানো হলো। পরে প্রায় সাড়ে তিনটার দিকে আমরা সবাই একসঙ্গে বসে খাবার খেলাম। অনেকদিন পর এত আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে একসঙ্গে বসে খাওয়ার আনন্দ সত্যিই অন্যরকম ছিল।
খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আসর পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করলাম। এরপর সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়িতে ফিরে এলাম। বাড়িতে এসে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্রাম নিলাম।
সন্ধ্যার পর ছোট ভাই ফরিদের দোকানে গেলাম। সেখানে সবাই মিলে অনেকক্ষণ গল্প করলাম। একপর্যায়ে ছোট ভাই সবুজ বাজার থেকে পেঁয়াজু
ভাজি নিয়ে এলো। আমরা সবাই মিলে পেঁয়াজু খাওয়ার আগে একটি ছবিও তুলে রেখেছিলাম, সেটিও আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম।
রাত আটটা পর্যন্ত দোকানে ছিলাম। এরপর বাড়ি থেকে ফোন আসলে বাড়িতে ফিরে গেলাম। পরিবারের সবাইকে নিয়ে রাতের খাবার খেলাম। এরপর কিছু সময় অনলাইনে কাটিয়ে রাতের নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে চলে গেলাম।
যাইহোক,এই ছিল আমার আজকের দিনের সম্পূর্ণ কার্যক্রম। আশা করি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে।যদি ভালো লাগে,তাহলে অবশ্যই আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানাবেন। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।আল্লাহ হাফেজ।









Thank you so much for your support.❤️❤️
Thank you so much for your support.❣️❣️