ক্যাফে - ফড়িং
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন ।গতকাল আমি আপনাদের সকলের সাথে চৈত্র মাসের শেষ দিনের কিছু মুহূর্ত শেয়ার করেছিলাম। তারপর থেকেই আজকে লেখা শুরু করছি।
আমাদের কৃষ্ণনগরে দিন দিন নিত্য নতুন ক্যাফে খুলছে। মাথায় বুদ্ধিগুলো কাজে লাগিয়ে কেউ নিজের বাড়িটাই বানিয়ে ফেলছে ক্যাফ। সেরকমই একটা ক্যাফেতে সেদিনকে যাওয়া। ক্যাফের নাম ' ফড়িং '। বেশ অনেকদিন আগে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম কৃষ্ণনগরের একটা ক্যাফে ,যার নাম জোনাকি।
যাইহোক এবার কৃষ্ণনগরে ফড়িংটাও বাকি থাকল না। আমি একটা জিনিস বুঝতে পারছি না ,মানুষ এত এই পোকামাকড় পতঙ্গদের নামে কেন ক্যাফের নাম রাখছে। মানে মানুষের সাথে সাথে ওরাও বসে বসে আড্ডা দেয় ,তাই কি এর কারণ!?
যাকগে, ফড়িং বাবুকে দেখে মনটা ভরে গেল ।বেশ সুন্দরভাবে একটা বাড়ির সামনে সুন্দর একটা লোগো । ফড়িংটা কি সুন্দর আটকে পড়েছে একটা পোস্টার লাইটের মধ্যে। ভেতরে ঢুকতেই দেখলাম এ তো পুরো আমাদের বাড়ির মতন বারান্দা সামনে। তবে চিলেকোঠার ঘরবাড়ি। পুরনো দিনের একটা আম্বিয়েন্স। সুন্দর সুন্দর বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো আর তার মাঝে মাঝেই চেয়ার টেবিল পেতে ক্যাফেটাকে একটু অ্যাসথেটিক বানানোর চেষ্টা।
এই ক্যাফেটা সাজেস্ট করেছিল আমাদের পিংকি দিদি। ভাগ্যিস সাজেস্ট করেছিল। যাইহোক ভেতরে বসে আড্ডা গল্পের সাথে খাবার উপভোগ করার জায়গা রয়েছে। চেয়ারে বসে খাওয়ার জায়গা রয়েছে, আরো এরকম বিভিন্ন রকম বিষয় রয়েছে। বাড়ির বারান্দা এবং ভেতরে দুটো ঘর মিলিয়ে ক্যাফে বলা যেতে পারে। ক্যাফে পরিচালনা করছেন দুজন স্বামী স্ত্রী । প্রথম দিন ঢুকে পুরোপুরি ঘুরতে না পারলেও বাইরেটা ঠিকভাবে দেখতে পেয়েছি। পরের দিন ইচ্ছা আছে ভেতরের ক্যাফেটা একটু ঘুরে দেখার।
পার্টনারের বাইকটা রাস্তাতে ছিল, ও যাতে আমার সতীনকে অর্থাৎ ওর প্রথম গার্লফ্রেন্ড ওর বাইককে ভালোভাবে দেখতে পায়, এ কারণেই বারান্দার একদম কর্নারে যে টেবিল চেয়ারটা ছিল, সেই জায়গাটাই বেছে নিল।।
জানলা দিয়ে দিব্যি রাস্তাটা আর লাল রঙের ঘোমটা পড়া সতীন চকচক করছে।হাহাহা। আর আমার পার্টনার আমাকে দেখার বদলে বারে বারে তার দিকেই তাকাচ্ছে, যাতে তার কোন ক্ষতি না হয়ে যায় এই বীভৎস চৈত্র মাসের শেষ দিনের জনমানবের ভিড়ে।
যাই হোক সতীনকে কিছুটা মেনে গুছে নিয়ে সাথে নিজের হবু বরকে একটু পটিয়ে পাটিয়ে খাবার অর্ডার করার প্ল্যান হল। অর্ডার করে নিলাম চিকেন স্যান্ডউইচ আর পনির স্যান্ডউইচ।
প্রথম দিন খাবার কেমন হবে আমাদের ধারনা ছিল না। তাই স্যান্ডউইচ দিয়েই উদ্বোধন টা করলাম। অনেকক্ষণ ধরে বসতে বসতে পা প্রায় ব্যথা হয়ে যায়। নতুন নতুন ক্যাফে তাই লোকজন ভালোই আছে।
ভেতরের ঘর গুলোতে ছোট ছোট ছেলেপুলে কি সুন্দর আড্ডা দিচ্ছে। পড়াশোনা বাদ দিয়ে বিকেল বেলায়। আমি ভাবি এদের বয়সে আমাকে সারাক্ষণ আমার মা ঘরে বন্দি করে রাখতো। তাই ওদের দেখে একটু হিংসা হচ্ছিল।
যাইহোক বাকি কথা পরের দিন আবার বলব ।আজকে এখানেই শেষ করলাম ।সকলে ভালো থাকুন।





Curated By : @ memamun