উল্টো রথযাত্রায় বাড়িতে কাটানো সময়

in Incredible India2 days ago

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে। আশা করছি সকলে ভালো লাগবে।

IMG_20260730_224946.jpg

গত শুক্রবার দিন ছিল উল্টোরথ। সোজারথ হওয়ার এক সপ্তাহ পরে উল্টোরথ পালন হয়। সেদিন নাকি জগন্নাথ দেব সুভদ্রা আর বলরাম তিন জনে মাসির বাড়ি থেকে আবার নিজেদের বাড়িতে ফেরার জন্য রওনা দেয়। সেই উপলক্ষে উল্টো রথ পালন করা হয়। তবে ছোটবেলায় ভাবতাম সোজা রথ যখন হয় তখন রথটাকে সোজা করে রাখা হয়। আর উল্টো রথের সময় উল্টে দেওয়া হয়। এই কথা আমি ছোটবেলায় যখন পড়তে গিয়ে সকলের সামনে বলেছিলাম তখন সকলেই হেসে উঠেছিল। আসলে সেভাবে কখনোই গুরুত্ব দিয়ে দেখিনি রথ দেখতে যেতে হয় জিলেপি, পাঁপড় ভাজা এই সমস্ত কিছু খেতে হয়। এই নিয়ে আনন্দে থাকতাম। রথটা কিভাবে রাখা থাকতো সেভাবে কোনদিন চোখেও পড়েনি। রথের সময় গিয়ে রথের দড়ি টানতে হয় এই জিনিসগুলো ঠিকই করতাম। আবার ওই যে দিদা ঠাকুমারা বলতো মাথার চুল কেটে রথে চাকার নিচে দিলে নাকি চুল অনেক লম্বা হয়। এটাও প্রত্যেক বছরই আমরা করতাম।

IMG20260724170950.jpg

যে বছরে আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করেছিল সেই বছর থেকেই রথ দেখতে যাওয়ার সময় আগে লক্ষ্য করতাম রথটাকে কিভাবে রাখা হয়। যাই হোক এখন বুঝে গেছি সোজা রথের সময় রথের মুখ একদিকে থাকে। আর উল্টো রথের সময় রথের মুখ আরেক দিকে থাকে। নিশ্চয়ই অনেক কারণ রয়েছে। কারণ যখন বলরাম সুভদ্রা আর জগন্নাথ দেব মাসির বাড়িতে গিয়েছিল তখন রথের মুখ একদিকে ছিল। আর ফেরার সময় আরেক দিক দিয়েই ফিরেছিল। তাই হয়তো এই নিয়ম সেই যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। তবে প্রত্যেক বছরই কম-বেশি রথ দেখতে যাওয়া হয়। সোজা রথ দেখতে যাওয়ার সমস্ত কিছুই আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিয়েছিলাম। তবে ইচ্ছে ছিল উল্টোরথ দেখতে যাবারও।

IMG20260724171437.jpg

রথ দেখতে যাওয়ার জন্যই আমি আগের দিন বাপের বাড়িতে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম ওখান থেকে ঘুরে এসে রথ দেখতে পারবো। কারণ বাপের বাড়ির কাছাকাছি কোথাও রথযাত্রা পালন করা হয় না। বাপের বাড়িতে যাওয়ার সময় কিংবা আসার সময় কি অবস্থা হয়েছিল সেটা পুরোটাই আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিয়েছিলাম ।বাড়ি ফিরে এমন অবস্থা হয়েছিল নিজেকে সুস্থ করতে অনেকটা সময় লেগেছিল। তাই আর বিকেলের পরে রথ দেখতে যাওয়ার একেবারে ইচ্ছে প্রকাশ করিনি। কিন্তু রথ দেখতে না গেলে কি হবে? ঘরের ভিতর থেকেই বারবার রথ টেনে নিয়ে যাবার শব্দে ঘরে মন ঠিক ছিল না। পাড়ার ছোট ছোট বাচ্চাগুলো হইহই করে দলবেঁধে রথ টানতে বেরিয়েছিল ।বাড়ির কাছে দিয়ে প্রায় পাঁচ থেকে সাতটা রথ টেনে নিয়ে বেড়াচ্ছে।

ঘর থেকে বেরিয়ে সকলকে পয়সা দিয়েছিলাম তাদের রথ দেখার জন্য। ছোট ছোট বাচ্চাগুলো পয়সা পেয়েও ভীষণ খুশি হয়েছিল। এছাড়াও বড় মামা রথের মেলা থেকে জিলিপি কিনে বাড়িতে দিয়ে গিয়েছিল। আসলে রথ আসলেই ছোটবেলায় অনেক স্মৃতি মনে পড়ে যায়। তাই মন না চাইলেও ছুটে রথ দেখতে যেতে ইচ্ছে করে। বাড়ির কাছাকাছি রথযাত্রার মেলা বসে। ছোটবেলায় সমবয়সীরা একসাথে দল বেঁধে রথ দেখতে চলে যেতাম। কিন্তু এখন তাদের সাথে আর সেভাবে দেখা-সাক্ষাৎ হয় না। সবাই যে যার মত ব্যস্ত ।তাই নিজেকে একা একা যেতে হয়। উল্টো রথের দিনকে সেরকম কোন সঙ্গীও ছিল না। তাই আরো ইচ্ছে করে যাওয়া হয়নি। বাড়ি থেকে রথযাত্রা উপভোগ করেছিলাম। সোজা রথের দিন বাড়িতে মিস্ত্রি গুলো জিলিপি খেতে চেয়েছিল। কিন্তু সে দিন খাওয়াতে পারিনি। উল্টো রথের দিন সকলকে জিলিপি খাওয়ানো হয়েছিল।


যাই হোক আজ এখানেই শেষ করলাম। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।