বোনের বাড়ি থেকে ফেরার শেষ পর্ব
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন ।আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
গত কয়েকদিন আগে আপনাদের মাঝে বোনের বাড়ি থেকে ফেরার কিংবা কাটানো সমস্ত মুহূর্তই শেয়ার করে নিয়েছিলাম। আজকে বাড়ি ফেরার আর খানিকটা মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করে বোনের বাড়ির পর্ব এখানেই ইতি টানব। নয়তো আমার মতো আপনারা ও বিরক্ত হয়ে যাবেন।বোনের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যে গাড়ি করে বাড়ি ফিরব এমনটা নয়। বোনের যেখানে বাড়ি সেখান থেকে প্রথমে টোটো করে নদী পর্যন্ত আসতে হয়। বোনের বাড়ির কাছে দিয়ে বয়ে গেছে গঙ্গা নদী।কাটোয়া এলাকাটা বড় বড় ব্যবসায়ীদের এলাকা। সেখানে প্রচন্ড গলি রাস্তা। সেখানে চার চাকা ঢোকা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। টোটো ঠিকমতো ঢুকতে পারে না। প্রত্যেকটা বাড়ির গায়ে গায়ে আরেকটি করে বাড়ি আবার এক একটা বাড়ি তিন তলা আবারো তিন তলায় ঘর করার জন্য অনেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে । আমার তো দেখেই ভয় লাগছিল। সেই প্রাচীন কালের বাড়ির মতো বেশিরভাগ সব পুরনো বাড়ি।আসলে প্রথম যেখানেই যাওয়া হয় না কেন সেখানে আমাদের সকলেরই মনে হয় নতুন লাগে। মানিয়ে নিতে সময় লেগে যায়। সেটা কয়েক ঘণ্টা জন্য হলেও।
এক একটা শহরে কিংবা এক একটা গ্রামে একেক রকম ভাবে আমরা থাকি। তাই অন্য জায়গায় গিয়ে মানিয়ে নিতে একটু সময় লেগে যায়। যাই হোক নদী পারাপার হতে ভীষণ ভয় লাগে। তাতে আবার গঙ্গা নদী তে ভীষণই খারাপ। প্রায়শই নদীতে স্নান করতে গিয়ে অনেকেই হয়তো ডুবে যায়। এগুলো হয়তো অসাবধানতার ফলে হয়ে থাকে। কিন্তু আমি জল দেখে ভীষণ ভয় পাই। তাই নদী পারাপার হতে ভয় করে। তবু সেদিন অনেকে মিলেই নদী পার হয়েছিলাম। অনেকটা আনন্দ মনের মধ্যে কাজ করছিল। এদিকে আবার দিদা ছিল অসুস্থ মানুষ। অনেকটা রাস্তা হেঁটে এসে নদীতে ওঠা খুবই রিস্কের ব্যাপার। এদিকে লঞ্চে আবার সাইকেল মোটরসাইকেল সমস্ত কিছু আবার সাথে মানুষ পারাপার হচ্ছে। অন্যদিকে আরেকটি লঞ্চে করে চার চাকা গাড়ি, লরি এসব পারাপার হচ্ছিল।
যাইহোক খুব ভালোভাবে নদী পার হয়ে নদীর পাড়ে পৌঁছে গিয়েছিলাম। সেখানেই দুই তরফ থেকে দুই তরফের গাড়ি ছিল ।তবে আমাদের বাড়ি ফেরার সময় গাড়ি একদম ফাঁকা ছিল ।কারণ ছোট মামা আগেই বাসে করে বাড়ি চলে গিয়েছিল ।তাই নেমন্তন্ন বাড়ির অতিথি একই রাস্তাতে তারা বাড়ি যাবে তাই দুই গাড়িতেই ভাগ ভাগ করে তাদের তুলে নেওয়া হয়েছিল। তাদেরও রাস্তাতে আর অপেক্ষা করতে হয়নি। ওই লাইনে বাস খুব একটা বেশি তাও নাই। তারাও ভীষণ খুশি হয়েছিল। আসলে আমরা সর্বদাই মানুষের উপকার করতে পছন্দ করি। এরপর দুই গাড়িরই পাল্লাপাল্লি শুরু হয়ে গিয়েছিল কারা আগে যাবে কারা পিছনে যাবে। যাইহোক এই করে করে অনেকটা রাস্তা দুজনে মিলে বেশ খুব ভালোভাবে পৌঁছে গিয়েছিলাম। অতিথিদের রাস্তার মোড়ে নামিয়েও দিয়েছিলাম।
এরপর দেবগ্রাম নামে ওই জায়গাটার মোড় থেকে আমাদের দুজনকে দুই রাস্তায় ভাগ হয়ে যেতে হয়েছিল। আসলে মা-বোনরা যাবে একদিকে আর আমরা যাব আরেক দিকে। তাই ওখান থেকে আবার দুটো গাড়ি আলাদা পথে রওনা দিয়েছিল। যতক্ষণ সকলে একসঙ্গে ছিলাম ভীষণই ভালো লাগছিল ।যেই আলাদা হয়ে গিয়েছিলাম মনটা একটু তো খারাপ হবে। যাই হোক আমরাও খুব ভালোভাবেই বাড়ি পৌঁছে গিয়েছিলাম। ওদিকে আমাদের অনেকটা পরে মা বোন সকলে বাড়ি পৌঁছে গিয়েছিল। এসব আনন্দ গুলো সত্যি ভীষণ ভালো লাগে। তবে যাবার পথে যে ভোগান্তি হয়েছিল ফেরার পথে তার থেকে মুক্তি পেয়েছিলাম।মেইন রোড দিয়ে আসতে পেরেছিলাম।
আজ এইখানে শেষ করছি ।আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।



Thank you 🙏