ঘরোয়া পদ্ধতিতে কাঁচা আমের চাটনি রেসিপি
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
এখন আমের সময় চলছে। আম খেতে ভালোবাসে না এমন মানুষ হয়তো খুবই কম দেখা যাবে । হয়তো হাতে গোনা কয়েকজন কে পাওয়া যাবে।আমি তো কাঁচা পাকা সমস্ত আম খেতে ভীষণ পছন্দ করি। পাকা আম খেয়ে অবশ্য আমার স্কিনের প্রচুর সমস্যা দেখা দেয় ।তবুও কিন্তু খেতে কম করি না। পছন্দের জিনিস খেয়ে যদি একটু অসুবিধা হয় সেটা খেয়ে মানিয়ে নিতেই হয়। আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব কাঁচা আমের চাটনি। আমের সিজনের আমি বিভিন্ন রেসিপি তৈরি করতে বেশ ভালোই লাগে।এবছরে সময় পায়নি তাই তেমন কোনো রেসিপি বানানো হয়নি।তবে আমার ছোট থেকেই অভ্যেস যখন ছোট ছোট আমগুলো গাছ থেকে পড়ে যায় সেগুলো কুড়িয়ে নিয়ে এসে চাটনি করে খাওয়ার। আমার ছোট থেকেই এই অভ্যাস রয়েছে। খাবার পর শেষ পাতে যদি একটু চাটনি না থাকে সত্যি ভালো লাগেনা।
তবে সমস্ত কিছু মানে রান্না একেক জন একেক পদ্ধতিতে তৈরি করে থাকে, যার যেটা সুবিধা হয় সেভাবেই বানিয়ে থাকে। গরমের দিনে বাড়িতে যদি কাঁচা আমগুলো বেশ কয়েকদিন রেখে দেওয়া হয় তাহলে একটু পেকে পেকে যায়। সেগুলো ফেলে না দিয়ে যদি চাটনি বানিয়ে খাওয়া হয় তাহলে সত্যিই ভীষণ ভালো লাগে।এখন অবশ্য অনেকের ফেলে দেয় ।ওই আম গুলো দিয়েও চাটনি বানিয়ে খেতে ভালোই লেগেছিল। আমি আমার পদ্ধতিটি আপনাদের মাঝে শেয়ার করব। চলুন তাহলে আজকে কাঁচা আমের তৈরি রেসিপিটি আপনাদের মাঝে শেয়ার করব।
| নং | সামগ্রী | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ১ | কাঁচা আম | ৩০০ গ্ৰাম |
| ২ | ভাজা মশলার জন্য পাঁচফোড়ন | পরিমাণ মতো |
| ৩ | শুকনো লঙ্কা | পরিমাণ মতো |
| ৪ | সাদা তেল | সামান্য |
| ৫ | লবণ | সামান্য |
| ৬ | হলুদ | সামান্য |
| ৭ | কালো সরষে | সামান্য |
| ৮ | চিনি | পরিমাণ মতো |
প্রথম ধাপ
আমি আমার প্রয়োজন মত বেশ কয়েকটি আম নিয়েছিলাম ।সেগুলোকে খোসা ছাড়িয়ে ধুয়ে একটা কুরুনি দিয়ে ভালো করে কুঁড়ে নিয়েছিলাম। আম গুলো অবশ্য একটু পেকে গিয়েছিল ।তাই কুড়তে আরো সুবিধে হয়েছিল।
দ্বিতীয় ধাপে
এরপর গ্যাস অন করে একটা কড়াই বসিয়ে দিয়েছিলাম ।কড়াই গরম হলে কড়াইতে কিছুটা পাঁচফোড়ন আর শুকনো লঙ্কা ভালো করে ভেজে তুলে নিয়েছিলাম ।সেগুলো গুঁড়ো করে ভাজা মসলা হিসাবে শেষে ব্যবহার করার জন্য।
তৃতীয় ধাপে
এরপর ওই কড়াইতে সামান্য পরিমাণে সাদা তেল দিয়েছিলাম ।আর সামান্য শুকনো লঙ্কা গরম তেলে দিয়ে আবারো সামান্য পরিমাণে কালো সরষে দিয়েছিলাম। এরপরে কুঁড়ে রাখা আমগুলো কড়াইতে দিয়ে ভালো করে নাড়াচাড়া করতে হবে।
চতুর্থ ধাপে
ওই আমের মধ্যে দিয়েছিলাম সামান্য পরিমাণে লবণ আর সামান্য পরিমাণে হলুদ। এরপর খুব ভালো করে নাড়াচাড়া করে মিশিয়ে নিতে হবে। আমি কোন জল ব্যবহার করিনি। এরপর নাড়াচাড়া করে নেওয়ার পর দিয়ে দিতে হবে পরিমাণমতো চিনি।
শেষ ধাপে
চিনি দেওয়ার পর খুব ভালো করে নাড়াচাড়া করে ঢাকা দিয়ে খানিকক্ষণ রেখে দিতে নিতে হবে । চিনি আপনা থেকেই গলে যাবে।
তৈরি
এরপর প্রথমে করে রাখা সেই ভাজা মশলাটা দিয়ে নেড়েচেড়ে নিতে হবে। এরপর কড়াই থেকে নামিয়ে নিলেই তৈরি হবে বাড়িতে বানানো সুস্বাদু আমের চাটনি।
এই চাটনি খেতে অনেকটাই আচারের মতো লাগে। তবে আমার তো এইভাবে চাটনি খেতে ভীষণ ভালো লাগে। আপনারাও বাড়িতে এরকম ভাবে ট্রাই করতে পারেন। আশা করি সকলেই ভালো লাগবে। আমার দেখে আমার দিদা বেশ কিছুদিন এইরকম ভাবে ট্রাই করেছিল আমের চাটনি। দিদার চাটনি খেতো দুর্দান্ত হয়েছিল। দেখতে অনেকটা জেলির মতো লাগে। আপনারা বাড়িতে বানিয়ে সকলকে খাওয়াতে পারেন।
আজ এই পর্যন্তই। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।









Thank you 🙏