লোকাল ট্রেনে করে একটু ঘোরাঘুরি

in Incredible India2 days ago

thumb.png

গত বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে আমার রাতে প্রায় ঘুম হচ্ছেই না বললে চলে। রাত ১টার সময় শুতে গেলে ২টোর সময় আর রাত ২টোর সময় ঘুমাতে গেলে ৩টের সময় আমার ঘুম ভেঙে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে এরকমই একদিন ভোররাতে আমার ঘুম ভেঙে গেলে আমি ফ্রেশ হয়ে এক কাপ চা করে একটা ওয়েব সিরিজের ২টো এপিসোড দেখলাম।

1.jpg

তারপর কিছুতেই আর সময় কাটছে না দেখে আমি হাঁটতে বের হলাম। রাস্তাঘাট তখন যথেষ্ট ফাঁকা ছিল।

2.jpg

হাঁটতে হাঁটতে আমি যাদবপুর স্টেশনে পৌঁছে গেলাম। তারপর শিয়ালদহ থেকে ডাউন লক্ষ্মীকান্তপুর লোকাল আসলে আমি সেই ট্রেনটাতে উঠে পড়লাম। এগুলোর কোনোকিছুই আগে থেকে প্ল্যান করা ছিল না।

3.jpg

অত ভোরে ট্রেনের সব কামরাই যথেষ্ট ফাঁকা ছিল। আমি যে বগীটাতে উঠলাম সেটাতে দেখলাম যে অনেকে কামরা ফাঁকা দেখে সিটে শুয়ে ঘুম লাগিয়েছে। যাদের নাইট ডিউটি থাকে তাদের এই সময়টায় ঘুম পাওয়াটাই স্বাভাবিক।

4.jpg

5.jpg

ওনাদের দেখে আমারও শুয়ে পড়তে ইচ্ছে করলো। তাই আমি একজনের কিটসব্যাগে মাথা দিয়ে শুয়ে পড়লাম কিন্তু আমি ঘুমাইনি। আমার ট্রেনে সহজে ঘুম আসে না। লোকাল ট্রেনের কামরায় শুয়ে চারপাশের সবুজ প্রকৃতি দেখতে আমার বেশ ভালোই লাগছিল।

6.jpg

এরপর বারুইপুর স্টেশন আসলে আমি নেমে পড়লাম কারণ আমার বেশ খিদে পেয়ে গিয়েছিল। বারুইপুর স্টেশনে পরোটা, আলুর দম আর এক কাপ চা খেয়ে আমি ঘন্টাখানেক সময় কাটালাম। বারুইপুরের সাথে আমার ছোটবেলার থেকে সম্পর্ক। আমি যাদবপুর বিদ্যাপীঠের ছাত্র ছিলাম। যেদিন যেদিন স্কুল যেতে ইচ্ছে করতো না সেদিন আমি সোজা বারুইপুরে চলে আসতাম। এখানে এসে আমি সিনেমা দেখতাম আর আসমা হোটেলে বিফ কারি দিয়ে ভাত বা পরোটা খেতাম।

7.jpg

8.jpg

9.jpg

যাইহোক, এরপর আমি আপ শিয়ালদহ লোকালে উঠে বসলাম বাড়ী যাওয়ার উদ্দেশ্যে। এই ট্রেনটাতেও খুব একটা ভীড় ছিল না তবে আগের ট্রেনটার মতো অতো ফাঁকাও ছিল না। এই ট্রেনে জানালার ধারে বসে আমি কিছু ছবি তুললাম।

10.jpg

সকাল ৮টার আগেই আমি বাঘাযতীন স্টেশনে পৌঁছে গেলাম। সেদিন আমি হেঁটেই বাঘাযতীন স্টেশন থেকে বাঘাযতীন মোড়ে পৌঁছলাম। তারপর বাঘাযতীন বাজার থেকে মাছ আর কিছু আনাজপাতি কিনে আমি বাড়ী ফিরে আসলাম।

11.jpg

12.jpg

13.jpg

বাড়ী ফিরে এক কাপ চা খেয়ে আমি অনলাইনে তরমুজ আর আঙুর অর্ডার করলে ৩০ মিনিটের মধ্যে ডেলিভারি দিয়ে গেলো। ট্রেনে এরকম ভ্রমণ আমার জীবনে এই প্রথম। কোনো জায়গায় গেলাম না শুধু এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশন, তবে সত্যি কথা বলতে আমার খুব একটা খারাপ লাগেনি। আমার ট্রেন আর স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে লোকজনদের দেখতে বেশ ভালোই লাগে।

আজ তাহলে এই পর্যন্তই, সকলে ভালো থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন, এই শুভকামনা জানিয়ে আজকের প্রতিবেদন শেষ করছি।