বান্ধবীর বাড়িতে আমার দ্বিতীয় আইবুড়ো ভাত (পর্ব: ১)
নমস্কার বন্ধুরা,
সকলে কেমন আছেন? আজকে চলে এসেছি আরো একটি গল্প আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। আমি আমার বিয়ের আগে বেশ অনেকগুলো আইবুড়ো ভাত খেয়েছিলাম। যারা জানেন না আইবুড়ো ভাত কী? তাদের উদ্দেশ্যে বলে রাখি হিন্দু বাঙালি বিয়েতে, বিয়ের আগে আত্মীয়-স্বজন কিংবা বন্ধুবান্ধব বা পাড়া-প্রতিবেশীর অনেকেই তাদের বাড়িতে নিমন্ত্রণ করে বিভিন্ন রকমের খাবার খাওয়ায়। আমি যদি সব গুনে বলি যে আমি কটা বাড়িতে আইবুড়ো ভাত খেয়েছি,তাহলে হয়তো সেই সংখ্যাটা কুড়ির কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। এই এতগুলো গল্প এখনো জমা হয়ে আছে। তাই ভাবলাম আজকে আমি আপনাদের সাথে আমার দ্বিতীয় আইবুড়ো ভাতের গল্প শেয়ার করি।
আমার প্রথম আইবুড়ো ভাতের গল্প আমি ইতিমধ্যেই আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম যেটা খাইয়েছিল আমার কলেজের তিনজন বান্ধবী মিলে। ঠিক তারপরের দিনই ছিল আমার দ্বিতীয় আইবুড়ো ভাতের নিমন্ত্রণ। এই নিমন্ত্রণটা ছিল আমার এক ছোটবেলার বান্ধবীর বাড়িতে। আমি আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম যে আমি যে কটা আইবুড়ো ভাত খাব সব কটাতেই আমি শাড়ি পরে যাব। তাই দ্বিতীয় দিনের আইবুড়ো ভাতের জন্য আমি একটা লাল রঙের জামদানি শাড়ি পছন্দ করেছিলাম। পরের দিন আমি যেহেতু সাইকেল চালিয়ে গিয়েছিলাম তাই, আমি চুড়িদার পরেই ওদের বাড়ি গিয়েছিলাম এবং সেখানে গিয়ে আমি শাড়ি পরে নিয়েছিলাম, যেটা আমি আমার সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলাম। আর সাথে নিয়ে যাওয়া জিনিসপত্র দিয়েই একটু সেজে নিয়েছিলাম।
অন্যদিকে আমার বান্ধবী প্রথমে ভেবেছিল শাড়ি পরবেনা।তবে পরে একটা লাল রঙের শাড়ি পরে নিয়েছিল। কাকিমা মানে বান্ধবীর মা সমস্ত খাবার দাবার গোছাচ্ছিল। আমরা ততক্ষণে ছাদে গিয়ে বেশ কিছু ফটো তুলেছিলাম। অনেকদিন বাদে দুইজন মিলে একই রঙের শাড়ি পরে বেশ মজা করে উপভোগ করছিলাম। এরপর কিছুক্ষণ বাদে কাকিমা আমাদের ডাকে এবং আমাকে খেতে বসতে বলে। ডাইনিং রুমে গিয়ে তো আমার চক্ষু চড়কগাছ। এত্ত সব আয়োজন দেখে আমি তো অবাকই হয়ে গিয়েছিলাম। সকাল থেকে কাকিমা আর বান্ধবী দুজনে মিলে এতসব রান্নাবান্না করেছে। মেনুতে ছিল হরেক রকমের খাবার-দাবার। যেমন -- সাদা ভাত, তিন রকমের ভাজা (বেগুন ভাজা, মাছ ভাজ, শিম ভাজা), চিকেন, রুই মাছের মাথা, চিংড়ির মালাইকারি, ট্যাংরা মাছের ঝাল, ফুলকপির তরকারি, পায়েস, পাঁচ রকমের মিষ্টি, দই। আরো কিছু করবে বলে আমাকে জানিয়েছিল তবে আমি একেবারেই মানা করে দিয়েছিলাম কারণ একজনের পক্ষে এত কিছু একবারে খাওয়া কোনমতেই সম্ভব নয়।
আমি গিয়ে সেখানে বসি। তারপর আমার বান্ধবী আমার জন্য একটা রজনীগন্ধার মালা কিনে এনে রেখেছিল, সেটা পরিয়ে দেয়। একটা মুকুটও কিনেছিল। তবে ওদের বাড়িতে একটা পোষ্য কুকুর আছে, সে ওটা চিবিয়ে নষ্ট করে দিয়েছে। যাইহোক, সেই নিয়ে বান্ধবী যথেষ্ট দুঃখ করছিল। তবে আমি বিষয়টা সামলে নিয়েছিলাম। এরপর কাকিমা আশীর্বাদ পর্ব শুরু করে। সেই গল্প আমি আপনাদের সাথে আগামীকাল শেয়ার করব। আর এত প্রকারের খাবার আমাকে দিলেও আমি একবারে সবটা খেতে পারিনি। সেই গল্প আমি আপনাদের সাথে পরবর্তী পোস্টটে শেয়ার করব।
আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।




Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟