"প্রথমবার তৈরি করলাম আমিষ ছোলার ডাল"
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।
অনেকদিন হয়ে গেলো আপনাদের সাথে কোনো রেসিপি শেয়ার করা হয়নি। মূলত সকালের দিকে রান্নার তাড়াহুড়ো থাকে, তাই ছবি তোলার সুযোগ খুব একটা হয় না।
গতকাল রাতে রুটি খাওয়ার জন্য ছোলার ডাল রান্না করেছিলাম। তখনই মনে করে ছবিগুলো তুলেছিলাম। আজকে সেই রেসিপিটাই আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
ইতিপূর্বে আমি আপনাদের সাথে নিরামিষ ছোলার ডালের রেসিপি শেয়ার করেছি। তবে আজ আমিষ ছোলার ডাল রান্নার রেসিপি শেয়ার করবো। সত্যি কথা বলতে এই রান্না করার আগে আমি একটু চিন্তিত ছিলাম, আদেও এইরকম ভাবে ছোলার ডাল রান্না করলে খেতে ঠিক কেমন লাগবে এটা ভেবে।
সাধারণত নিরামিষ ভাবে হিং ফোড়ন দিয়েই আমরা ছোলার ডাল রান্না করে থাকি। তবে গতকাল একটু অন্যরকম ভাবেই রান্না করলাম। তবে হ্যাঁ খেতে কিন্তু মন্দ লাগেনি। বেশ ভালোই লেগেছিলো।
যাইহোক চলুন শুরুতে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করি, গতকাল রান্নাটা করার জন্য আমি কি কি উপকরণ ব্যবহার করেছিলাম,-
|
|---|
| নং | উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ১. | ছোলার ডাল | ২০০ গ্ৰাম |
| ২. | আলু | ১ টা মাঝারি সাইজের |
| ৩. | পেঁয়াজ | ১ টা মাঝারি সাইজের |
| ৪. | আদা বাটা | ১ চা চামচ |
| ৫. | রসুন বাটা | ১ চা চামচ |
| ৬. | কাঁচা লঙ্কা কুচি | ৭-৮ টা |
| ৭. | টমেটো | ১ টা |
| ৮. | সরষের তেল | ২ চা চামচ |
| ৯. | কাশ্মিরী লঙ্কার গুঁড়ো | ১½ চা চামচ |
| ১০. | জিরে গুঁড়ো | ১ চা চামচ |
| ১১. | গোটা জিরা | ½ চা চামচ(ফোড়নের জন্য) |
| ১২. | শুকনো লঙ্কা | ১ টা(ফোড়নের জন্য) |
| ১৩. | তেজপাতা | ১ টা(ফোড়নের জন্য) |
| ১৪. | গরম মশলার গুঁড়ো | ১চা চামচ |
| ১৫. | লবন | স্বাদ অনুসারে |
| ১৬. | হলুদ | ২ চা চামচ |
| ১৭. | চিনি | সামান্য পরিমাণ |
|
|---|
সবার প্রথমে ছোলার ডাল গুলোকে প্রায় ঘন্টাখানেক ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর ভালোভাবে জল দিয়ে ধুয়ে, প্রেসার কুকারে একটা হুইসেল পড়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
যতক্ষণ ডাল সিদ্ধ হচ্ছিলো, অন্যদিকে আমি পেঁয়াজ, টমেটো ভালোভাবে কুঁচিয়ে নিয়েছিলাম। তার সাথে কাঁচা লঙ্কা গুলোকে কেটে নিয়েছিলাম। এরপর আলুটাকে একেবারে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে, ভালোভাবে ধুয়ে নিয়েছিলাম।
আদা ও রসুন বাটা ফ্রিজেই আগে থেকে তৈরি করা ছিলো বলে, সেটা আর তৈরি করার প্রয়োজন হয়নি।
ফোড়নের জন্য একটা পাত্রে তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা ও গোটা জিরে আলাদাভাবে গুছিয়ে নিয়েছিলাম। হুইসেল পড়ার পর গ্যাস বন্ধ করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে, যাতে প্রেসার কুকারের ভাঁপটা বেরিয়ে যায়।
তাতে ডালটা একেবারে গলবে না, অথচ সুন্দরভাবে সেদ্ধও হয়ে যাবে। ভাঁপ সরে যাওয়ার পর একটা ঝুড়ির মধ্যে ডাল গুলোকে জল ঝরানোর জন্য ঢেলে নিতে হবে। যাতে জলটা আলাদা হয়ে যায়। আমি ডালে এই ডাল সেদ্ধ করার জলই ব্যবহার করেছিলাম।
![]() |
|---|
এরপর গ্যাস জ্বালিয়ে কড়াই বসিয়ে, তার মধ্যে পরিমাণ মতো সর্ষের তেল দিয়ে, ফোড়নের জন্য যে শুকনো লঙ্কা,তেজপাতা গোটা জিরে রেখেছিলাম, সেগুলো দিয়ে দিলাম। তারপর কেটে রাখা আলুগুলো দিয়ে সামান্য লবণ ছিটিয়ে ভালোভাবে ভেজে নিলাম।
আলুগুলো একটা পাত্রে নামিয়ে নেওয়ার পর, ওই তেলের মধ্যেই পেঁয়াজ কুচি, টমেটো কুচি দিয়ে ভালোভাবে ভেজে নিলাম। বেশ কিছুক্ষণ ভাজার পর আদা ও রসুন বাটা দিয়ে, আরও কিছুক্ষণ ভেজে নিলাম।
তারপর গুঁড়ো মশলা অর্থাৎ কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো এবং হলুদ গুঁড়ো দিয়ে পেঁয়াজ, টমেটো ও আদা রসুনের সাথে খুব ভালোভাবে মিশিয়ে মশলাটাকে কষিয়ে নিলাম।
এরপর আগে থেকে নামিয়ে নেওয়া ভাজা আলু গুলো দিয়ে দিলাম। আলুগুলো মশলার সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নেওয়ার পর, জল ঝরিয়ে নেওয়া ডালগুলো দিয়ে বেশ কিছুক্ষণ ভালোভাবে কষিয়ে নিতে হবে।
বেশ কিছুক্ষণ যখন আলু, ডাল এবং মসলা একসাথে কষা হয়ে যাবে, তারপর ডালসেদ্ধ করা জলটা ঢেলে, আরও বেশ কিছুক্ষণ জ্বাল দিতে হবে।
ঝোলের পরিমাণ বেশ কিছুটা কমে এলে, নিজেদের প্রয়োজন অনুসারে ঝোল রেখে নামানোর আগে গরম মশলা গুঁড়ো ও সামান্য চিনি ছড়িয়ে, নামিয়ে নিতে হবে "আমিষ ছোলার ডাল"।
![]() |
|---|
গতকাল রুটির জন্য ছোলার ডালটা আমি এই ভাবেই রান্না করেছিলাম। খেতে খুব একটা মন্দ লাগেনি। আমার কাছে অনেকটা ঘুগনির মতো স্বাদ লেগেছে। আপনারা কারা কারা এভাবে আমিষ ছোলার ডাল তৈরি করে খেয়েছেন, সেটা অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন।
আর যারা এখনও এইভাবে ছোলার ডাল খাননি, তাদের অনুরোধ করবো অবশ্যই একবার এইভাবে রান্না করে দেখবেন। আশাকরি আপনাদেরও ভালো লাগবে।
সকলের সুস্থতা কামনা করে আজকের পোস্ট এখানেই শেষ করছি। আপনারা ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।


























TEAM 5
Congratulations! Your post has been upvoted from sc-07 account.