"ছবির মাধ্যমে তুলে আনা‌ আমার গ্ৰামের‌ একটুকরো প্রকৃতির গল্প"

in Incredible India2 days ago
IMG_20260429_000910.jpg
"জীবনে প্রথমবার দেখলাম রুদ্রাক্ষ‌ গাছের ফুল""

Hello,

Everyone,

আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি বেশ ভালো কেটেছে।

গতকালকের পোস্টে আপনাদেরকে জানিয়েছিলাম ভোটের জন্য আমি গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম এবং সেখানে সারাটা দিন কেমন ভাবে কেটেছিলো। দুপুরের অনেকটা সময় বান্ধবীর বাড়িতে কাটিয়েছিলাম। সেই সময় ওদের জানালা দিয়ে পাশের বাড়িতে চোখ পড়তেই একটা নতুন ধরনের গাছ দেখতে পেলাম, যে গাছটা এর পূর্বে কখনো দেখিনি।

"রুদ্রাক্ষ গাছ"

IMG_20260429_082517.jpg
IMG_20260429_082557.jpg
IMG_20260429_082551.jpg
IMG_20260429_082530.jpg

রাখির কাছে জানলাম এই গাছটি নাকি "রুদ্রাক্ষ" গাছ। রুদ্রাক্ষ সম্পর্কে আশাকরছি অনেকেই জানেন। গাছটি মোটামুটি লম্বা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে গাছটিতে ফুলও এসেছে। সব থেকে যেটা আকর্ষণীয় লাগলো সেটা হলো সব ফুল গুলো নিচের দিকে ঝুঁকে আছে।

তাই ফোনটাকে নিচের দিকে রেখেই ছবিগুলো তুলতে হয়েছে, যাতে ফুলগুলো সুন্দরভাবে তুলতে পারি। সাদা‌রঙের ফুলগুলো দেখতে কিন্তু অসাধারণ লাগছিলো। ফুলের পাশাপাশি বেশ কিছু কুড়িও হয়েছে। তবে ফল এখনও ধরেনি।

গাছটি সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য জানার ইচ্ছা ছিলো, কিন্তু সেই মুহূর্তে ওই বাড়ির সকলে ভোটকেন্দ্রে গিয়েছিলো বলে আর জিজ্ঞাসা করার সুযোগ হয়নি। শুধু ছবিগুলো তুলে নিয়েছিলাম। আপনাদের মধ্যে কে কে রুদ্রাক্ষ আছে দেখেছেন অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন।

"ভিন্নধর্মী জবাফুল"

IMG_20260429_082641.jpg
IMG_20260429_082636.jpg

এরপর যে গাছটির দিকে চোখ পরলো, সেটি একটি জবা ফুল গাছ। ছবিটি দেখে আশাকরছি অনেকেই চিনতে পেরেছেন। বর্তমানে নার্সারিতে গেলে এমন অনেক ফুল গাছ চোখে পরে, যেগুলো এক নজরে মন কেড়ে নেয়। সেটা ফুলের আকৃতি হোক কিংবা রং।

এই প্রজাতির জবা ফুল যে আমি প্রথমবার দেখছি এমন নয়। এর আগেও এইরকম জবা ফুল দেখেছি, তবে তার রংটা ছিলো ভিন্ন। জবা ফুলের যে মঞ্জুরিটা হয় এই ফুলটিতে তার বদলে আরও কিছু পাঁপড়ি থাকে, আর এই কারণেই এই জবা ফুলটি অন্যান্য জবা ফুলের থেকে একটু ভিন্ন প্রকৃতির হয়ে থাকে। আশা করছি ছবিটা দেখে আপনারা বুঝতে পারছেন।

"আমার ভীষণ পছন্দের জবাফুল"

IMG_20260429_082438.jpg

যেমনটা আপনদের বললাম, জবা ফুলের অনেক প্রজাতি আছে, তবে আমার পছন্দের একটি প্রজাতি হলো উপরের প্রজাতির ফুলটি। এর রং আমার সব থেকে প্রিয়। তারপর ভালো লাগে ফুলের আকৃতিটা। পাঁপড়িগুলো সাধারণ জবা ফুলের তুলনায় খানিকটা মোটা প্রকৃতির হয়ে থাকে এবং একসাথে অনেক জবা ফুল ফুটে এই গাছে। তাই অনেকদিন বাদে নিজের প্রিয় রংয়ের জবা ফুল দেখে তারও একটা ছবি তুললাম।

"নয়নতারা ফুলের বাহার"

IMG_20260429_082443.jpg
IMG_20260429_082459.jpg

এরপর চোখ পরল নয়নতারা ফুলের গাছে। বেশ থোকায় থোকায় ফুল ধরে আছে। পাশাপাশি দুটো ফুল গাছ লাগানো, একটা গোলাপী রঙের যার মাঝখানে হালকা সাদা রং আছে। আর পাশের গাছটিতে সাদা রঙে নয়নতারা‌ ফুল ফুটেছে, যার মাঝখানে গোলাপী রঙের দাগ আছে। বেশ ভালো লাগছিলো ফুল গুলো দেখতে, তাই ছবি তোলার লোভ সামলাতে পারলাম না।

"বেগুনের ভিন্ন প্রজাতি এটি -‌অনেকে দুধ‌ বেগুন‌ও বলে"

IMG_20260429_082432.jpg
IMG_20260429_082223.jpg

এরপর শেয়ার করি আমার বান্ধবীর বাড়িতে লাগানো বেগুন গাছের ছবি। আপনাদের মধ্যে কারা কারা এই বেগুন গাছ দেখেছেন অবশ্যই জানাবেন। সাদা রং হওয়ার জন্য এগুলোকে দুধ বেগুন বলে। আমি অবশ্য নামটা প্রথম শুনলাম। নিজের হাতে অনেক গুলো বেগুন তুলেছিলাম আমি ওদের গাছ থেকে এবং বাড়ি ফেরার সময় সেগুলো নিয়েও এসেছি।

"অন্য প্রজাতির দুই ধরনের বেগুন"

IMG_20260429_082831.jpg
IMG_20260429_082822.jpg

সাদা রংয়ের বেগুন গাছগুলো নিচে ছিলো । তবে ছাদেও অনেকগুলো বেগুন গাছ লাগিয়েছে। তাই বেগুনগুলো ঘরে রেখে আমি আবার ছাদের উপরে গেলাম বাকি বেগুন গাছ গুলো দেখার জন্য। ছাদে গিয়ে দেখলাম উপরে দুটো আলাদা আলাদা প্রজাতির বেগুন গাছ লাগানো রয়েছে।

একটা বেগুন গোলাকার যেটা বাজারে সচরাচর দেখা যায়। আর অন্য বেগুনটি সবুজ রঙের হলেও, বেশ সরু এবং লম্বা আকৃতির। গাছে বেগুন ধরেছে যেমন তেমন ফুলও আছে অনেক। মানে এখনও অনেক দিন পর্যন্তই এই বেগুন গাছগুলোতে বেগুন হবে বলে আশা করা যায়।

তাই ছাদে গিয়ে বেগুন গাছের দুটো ছবি তুলে নিয়ে এলাম যাতে আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পারি। বাড়ি ফেরার সময় রাখী প্রত্যেক গাছ থেকেই একটা দুটো করে বেগুন তুলে আমাকে দিয়েছে। সত্যি কথা বলতে নিজেদের হাতে লাগানো গাছ থেকে ফুল তোলা বা সবজি তোলার এক অন্যরকম আনন্দ রয়েছে। আমিও রাখীদের বাড়িতে গিয়ে নিজের হাতে বেগুন তুলে বেশ আনন্দ পেয়েছি।

যাইহোক গতকালকের তোলা বেশ কিছু ছবি আজকের পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। আপনাদের মধ্যে কার কার ছবি গুলো দেখে ভালো লাগলো এবং কোন ছবিটা সবথেকে বেশি ভালো লেগেছে, তা মন্তব্যের মাধ্যমে অবশ্যই জানাবেন।

সকলের সুস্থ কামনা করে আজকের লেখা শেষ করছি। শুভরাত্রি।