"গতকাল দুপুরের বৃষ্টির গল্প"

in Incredible India20 hours ago
IMG_20260802_225830.jpg
"আমাদের ছাদে জমা বৃষ্টির জল"

Hello,

Everyone,

আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।

আমার দিনটাও বেশ ভালোই কাটলো। গতকাল দুপুরে আমাদের এখানে প্রচন্ড বৃষ্টি হয়েছিলো, সেকথা আমি আমার গতকালকের পোস্টেই উল্লেখ করেছিলাম।

সত্যি কথা বলতে, হিসেব করলে এই বছরের মধ্যে আমাদের এখানে সবথেকে বেশি বৃষ্টি গতকাল হয়েছে। আমাদের এখানে এই বিষয়টি এই কারণেই উল্লেখ করলাম, কারণ এই বৃষ্টি আশেপাশের অনেক জায়গাতেই হয়নি।

সকাল থেকে আবহাওয়া বেশ ভালোই ছিলো। তেমন মেঘলা ওয়েদার ছিলো না। যেহেতু রবিবার ছিলো, তাই দিনটা একটু দেরিতেই শুরু হয়েছিলো। তবে সারাদিন কাজের চাপ ছিলো ভালোই।

IMG_20260802_124300.jpg
"মুষলধারায় বৃষ্টি হওয়ার‌‌ মুহূর্ত"

তবে এই একটা দিন সকালে ওঠার খুব একটা তাড়া থাকে না বলে‌ দেরিতে উঠি। আর যে কারণে সারাদিনের ব্যস্ততা আরও বেশি অনুভূত হয়।

শাশুড়ি মা বাড়ি নেই একথা অনেকেই জানেন, তাই পূজো থেকে শুরু করে গৃহস্থালির সমস্ত কাজের দায়িত্ব, রান্না বান্না সবটাই আমাকে সামলাতে হয়। রবিবার শুভর সাপ্তাহিক ছুটি, তাই দিনটা একটু লেটেই শুরু হয়।

যাইহোক আমি প্রথমে ভেবেছিলাম একেবারে স্নান সেরে, তারপর দুপুরের রান্নাবান্না শুরু করবো। সেই কারণে ফুল তুলে প্রথমে ঠাকুর ঘরের কাজগুলোই গুছিয়ে নিয়েছিলাম। যাতে ব্রেকফাস্ট করার পর পুজো দিয়ে তারপরে লাঞ্চ তৈরি করতে পারি।

IMG_20260802_124140.jpg
"চারিদিক যেন‌ সাদা হয়ে গিয়েছিলো বৃষ্টির কারনে।"

আমরা যখন ব্রেকফাস্ট করতে বসলাম তখনই আকাশে বেশ ভালো মেঘ হলো, যেমনটা মাঝেমধ্যেই হয়ে থাকে। তাই ততটা গুরুত্ব দিইনি। এরপর আমি যথারীতি ঘর মুছতে শুরু করি। ঠিক সেই মুহূর্তেই মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। বেশিরভাগ সময় দেখা যায় ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়তে শুরু করে, ধীরে ধীরে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ে। তবে গতকাল এমনটা হয়নি। শুরুর থেকেই মুষল ধারায় বৃষ্টি শুরু হয়েছিলো।

ঘর মোছা শেষ করে, সবে মাত্র ওপরে স্নান করতে যাবো। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গিয়ে বুঝতে পারলাম সিঁড়ি দিয়ে জল নামছে। ছাদে যে এতো জল আটকে যেতে পারে, সেটা সত্যিই আমি নিচে থেকে বুঝতে পারিনি। সিঁড়ি দিয়ে উঠে যখন ওপরের ঘরে ছাদের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম, আমি অবাক হয়ে গেলাম।

IMG_20260802_124257.jpg
"অনেকটা জল জমেছিলো ছাদে। আশাকরি ছবি দেখেই বুঝতে পারছেন।"

সম্পূর্ণ ছাদে জল থৈথৈ করছে এবং এতো পরিমানে বৃষ্টি হচ্ছে যে, পাইপ দিয়ে জল নিচে নামার পরেও ছাদে জল ভর্তি হয়ে যাচ্ছে। পাইপ দিয়ে যতটা জল নিচে নামছে, তার থেকে দ্বিগুণ গতিতে বৃষ্টি হচ্ছে। ফলত জল জমতে শুরু করেছে। ঘরের ভিতরে দাঁড়িয়ে আমি আর শুভ এটাই ভাবছিলাম যে, এমন বৃষ্টি যদি আরও আধ ঘন্টা হয় তাহলে রীতিমতো ঘরে জল ঢুকবে।

সামনের ছাদ থেকে ঘরটা যতটা উঁচু, তার থেকে সিঁড়িটা নিচু বলে সমস্ত জল আগে সিঁড়ি দিয়েই নিচে নেমে যাচ্ছিলো। বৃষ্টি তো হচ্ছিলোই তার সাথে প্রচন্ড পরিমাণে মেঘ ডাকছিলো ও বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিলো। তাই মাঝখানের শুভ নিজে এসে কারেন্টের মেন সুইচ, টিভির জ্যাক, ফ্রিজের জ্যাক সবকিছু খুলে দিয়েছিলো। চারিদিক অন্ধকার করে বেশ কিছুক্ষণ একটানা বৃষ্টি হলো।

IMG_20260802_124116.jpg
"সামনের ছাদে‌ জমা জলের দৃশ্য"

বৃষ্টির মধ্যে ভিজেই আমি ঠাকুরের বাসন মেজে নিয়েছিলাম। বাসন মাজতে মাজতে প্রায় অর্ধেক ভিজে গিয়েছিলাম বলে, স্নান করার আগে বেশ কিছুক্ষণ জলের মধ্যে ঘোরাঘুরি করে, বৃষ্টিতে ভিজে, তারপর স্নান সারলাম। তবে সেটা করা খুব একটা ঠিক হয়নি, এটা আজ উপলব্ধি করছি। তবে গতকাল এতো বৃষ্টি হয়েছে যে, বৃষ্টি ভেজার লোভ সামলাতে পারিনি।

যাইহোক এরপর স্নান সেরে পূজা দিতে বসবো, তবে খুব অন্ধকার ছিলো, তাই ফোনের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে ঠাকুরপুজা শুরু করেছিলাম। পুজো শেষ হওয়ার আগেই অবশ্য বৃষ্টি কমে গিয়েছিলো, তাই শুভ নিচে গিয়ে মেইন সুইচ অন করে দিয়েছিলো।

পুজো দেওয়া শেষ করে দেখলাম আমার বোন অর্থাৎ মামার মেয়ে ফোন করেছিলো। তাই ওকে আবার ফোন ব্যাক করলাম এবং বৃষ্টির খবর জানতে চাইলাম। তবে ও বলল ওদের ওখানে ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়ছে। আমি তো শুনে অবাক, আমি ততক্ষণ পর্যন্ত ভাবছিলাম এইরকম বৃষ্টি হয়তো সব জায়গাতেই হয়েছে।

IMG_20260802_225742.jpg
"এটা ননদের বাড়ির অবস্থা"

তবে পরে জানতে পারলাম বিষয়টা তেমন না। আমার মামা বাড়ির দিকে বৃষ্টি হয়নি, আমার বাপের বাড়ির ওদিকেও তেমন বৃষ্টি হয়নি। তখনই বুঝলাম এটা মেঘ ভাঙ্গা বৃষ্টি ছিলো, অর্থাৎ যেখানে যেখানে মেঘ ছিলো, সেখানেই মুষলধারায় বৃষ্টি হয়েছে। আর যে কারণে এতো বেশি জল জমেছে।

একটু বাদে শুভ বাইরে বেরিয়ে ছিলো ওর নিজস্ব কাজে। রাস্তায় জল দেখে রীতিমতো অবাক হয়েছে। আমাদের বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে যখন গাড়ি পাস হচ্ছিলো, তখন রীতিমতো জলের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিলো। চারিদিকে ড্রেন সব ভরে গিয়েছিলো, ফলত জল পাস হওয়ার জায়গা পাচ্ছিলো না। যেই কারণে রাস্তায় বিকেল পর্যন্ত একই রকম অবস্থা ছিলো।

পরে আমার ননদও তাদের বাড়ির কিছু ছবি পাঠিয়েছিলো। ননদের বাড়িতেও একেবারে সিঁড়ি পর্যন্ত জল ছিলো। আর কিছুক্ষণ বৃষ্টি হলেই সমস্ত জল ঘরে ঢুকে যেতো। সন্ধ্যার পর শুভর কাছেই শুনলাম, শুভর বন্ধু রাজার বাড়িতে পুরো জল ঢুকে গেছে। ঘরের ভিতরেই হাঁটুর নিচ পর্যন্ত জল ছিলো দুপুরে।

IMG_20260802_225723.jpg
"ননদের‌ বাড়ির গেটের সামনের সিঁড়ি পর্যন্ত ডুবে ‌গিয়েছিলো"

রাতের খাওয়া দাওয়া হয়ে যাওয়ার পর আরও একবার রাজাকে ফোন করা হয়েছিলো, জলের অবস্থা জানার জন্য। তখন বললো জল অনেকটাই নেমে গেছে, তবে সম্পূর্ণ তখনও নামেনি। দুপুরবেলার ওই ঘন্টাখানেকের বৃষ্টির জন্য শুধু রাজাদের বাড়ি নয়, ওদের আশেপাশের বেশ কয়েকটা বাড়িতে জল ঢুকে, বেশ বাজে অবস্থা হয়েছে।

আসলে আমাদের বাড়ির তুলনায় রাজাদের বাড়ির দিকটা বোধহয় আরও নিচু, যে কারণে একেবারে ঘরের ভিতরে জল‌ ঢুকে গিয়েছিলো। যেহেতু আশেপাশের সমস্ত জমি, ড্রেইন ভরে গিয়েছিলো, তাই জল নামতে অনেকটাই সময় লাগছিলো।

একথা শুনে ভাবছিলাম আরও বেশ কিছুক্ষণ বৃষ্টি হলে আমাদের উপরের ঘরেও জল ঢুকে যেতো, সেগুলো পরিষ্কার করতে গিয়ে আরও ঝক্কি বাড়তো। প্রকৃতির কি অপূর্ব লীলা সেটাই কাল ভাবছিলাম, বোনের সাথে কথা বলার পর। যখন জানলাম আমাদের বাড়ি থেকে দুটো স্টেশন বাদেই আর কোনো বৃষ্টি নেই, অথচ সেই বৃষ্টির কারণেই আমাদের এখানকার অবস্থা কি শোচনীয় হয়ে আছে।

IMG_20260802_225801.jpg
"ননদের বাড়ির সামনে হাঁটু পর্যন্ত জল জমে ছিলো।"

আর আসামের খবর তো আপনারা সকলেই জানেন। বৃষ্টির কারণে বন্যা হয়ে সেখানকার জনজীবন কেমন বিপর্যস্ত হয়ে আছে। সত্যিই এই সকল ঘটনা আরও একবার মনে করায়, প্রকৃতির শক্তি কতখানি আর সেখানে মানুষের ক্ষমতা খুবই সামান্য।

যাইহোক সবকিছু মিলিয়ে কালকে দুপুরে ঐরকম বৃষ্টির মুহূর্তের কিছু ছবি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। কিছু ছবি আমার ননদের বাড়িরও, যেগুলো হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আমাকে পাঠিয়েছিলো। আশাকরি ছবিগুলো দেখলে আপনারা কিছুটা হলেও আন্দাজ করতে পারবেন।

ভালো থাকবেন সকলে। শুভ রাত্রি।

Sort:  
image.png
Curated By: lirvic
Loading...