"বৃষ্টিমুখর দিনে একা সময় কাটানোর অনুভূতি"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন, আর আপনাদের প্রত্যেকের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে। আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। আসলে বৃষ্টি শুরু হয়েছে গতকাল বিকেল থেকেই। রাতের দিকে একটু বন্ধ হয়েছিলো। তারপর বোধহয় আবার আজ ভোরবেলা থেকেই অনবরত হয়ে চলেছে।
সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলেই দেখি বাইরে পুরো মেঘলা আকাশ। তার সাথে টুপটাপ বৃষ্টি হয়েই চলেছে। আবহাওয়া দেখেই মনে হচ্ছিলো অনেকক্ষণ ধরে বৃষ্টি হচ্ছে এবং সারাদিন হয়তো এইরকম ভাবেই বৃষ্টি চলবে।
অন্যান্য দিনের তুলনায় আজকের সকালটা খুবই সুন্দরভাবে শুরু হয়েছে। ঘুম থেকে উঠেই বেশ কিছুক্ষণ জানালার পাশে ডাইনিং টেবিলে বসেছিলাম। কি যে ভাবছিলাম জানিনা। তবে অনেকটা সময় কাটানোর পর ফ্রেশ হয়ে, আস্তে আস্তে সাংসারিক কাজ শুরু করলাম।
![]()
|
|---|
ছাদে গিয়ে দেখি তখনও বৃষ্টি পড়ছে। আসলে ফুলগুলো তুলতে হলে আমাকে একটু হলেও বৃষ্টিতে ভিজতেই হবে। আকাশে মেঘের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিলো পরের দিকে আরও বেশি জোরে বৃষ্টি নামবে। তাই ওই টুপটাপ বৃষ্টি পড়াকালীনই গাছ থেকে ফুলগুলো তুলে নিলাম। তারপর ঠাকুরের শয়ন তুলে, নিচে এসে রান্না বসালাম।
আজ সকাল থেকে উঠেই দেখেছি কারেন্ট নেই। কখন গেছে সেটাও বলতে পারবো না। শুভর যেহেতু অফিস ছিলো, তাই খুব বেশি দেরি না করে ওকে চা দিয়ে রান্নাবান্না শেষ করে নিলাম।
![]()
|
|---|
আজকাল দুজন মানুষের জন্য রান্না করতে খুব বেশি সময়ের প্রয়োজন হয় না। শুভ অফিসে যাওয়ার আগে মোটামুটি রান্নার পর্ব শেষ করে ফেলি। তারপর একসাথে ব্রেকফাস্ট করা হয়ে গেলে, শুভ অফিসে চলে যায়, আর আমি ঘরের বাকি কাজকর্ম শুরু করি।
আজ শুভ যখন অফিসে বেরোলো, তখন অনবরত বৃষ্টি হয়ে চলেছে। আমাকে আজ নিজের একটা প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে বেরোতে হতো। কিন্তু যে পরিমাণে বৃষ্টি হচ্ছিলো তাতে আর বেরোনোর কোনো ইচ্ছাই ছিলো না। তাই ভেবেছি আগামীকাল সেই কাজটা শেষ করে নেবো।
![]()
|
|---|
শুভ বেরিয়ে যাওয়ার পর কিছুক্ষণ বসেই সময় কাটালাম। যেহেতু সারা বাড়িতে আমি একা, তাই কাজের কোনো তাড়াহুড়ো নেই বলতে পারেন। সেই কারণেই কিছুক্ষণ বসলাম। কারণ অন্যান্য দিন এই সময়ে যে পরিমাণ গরম থাকে, আজ তার একেবারে উল্টো আবহাওয়া ছিলো, যেটা উপভোগ করতেও ভালো লাগছিলো।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
যাইহোক এরপর সমস্ত কাজ শেষ করে দুপুরে পুজো দিয়ে নিলাম। শুভর জন্য আজ কৈ মাছ রান্না করেছিলাম। আমি কৈ মাছ খাই না, তাই দুপুরে অল্প একটু ভাত আমি আলু উচ্ছে ভাজা এবং ঢেঁড়স ভাজা দিয়েই খেয়ে নিয়েছিলাম। সেই সময় ফোনে আমার বৌদির সাথেও একটু কথা বলে নিয়েছিলাম।
খাওয়া-দাওয়া শেষ করে কিছুক্ষণ ফোন দেখছিলাম। কখন ঘুমিয়ে পড়েছি বুঝতে পারিনি। হঠাৎ করে কলিংবেলের আওয়াজ পেয়ে ঘুম ভাঙলো। ঘুমের ঘোরে একেবারে হকচকিয়ে উঠলাম। ভাবলাম বোধহয় অনেক রাত হয়ে গেছে। তবে দেখলাম না তখনও সন্ধ্যা হয়নি। বাইরে গিয়ে দেখি রাজা এসেছেন নিমন্ত্রণ করতে।
![]()
|
|---|
সেই মুহূর্তে বৃষ্টি একটু কমে ছিলো, তাই ওরাও সেই ফাঁকে সকলকে নিমন্ত্রণ করতে বেরিয়েছে। দেখতে দেখতে ওদের কাজের দিনও এগিয়ে এসেছে। যদিও আমরা ওদের বাড়িতে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে পারবো না, এই বিষয়টি ওদের আগেই জানানো হয়েছিলো।
কিন্তু তৎসত্ত্বেও ওরা ওদের দিক থেকে নিমন্ত্রণ পর্ব সেরে গেলো। ওরা যদিও বেশিক্ষণ বসে নি। ওরা চলে গেলে আমিও উপরে গেলাম। একটু বাদে সন্ধ্যা হয়ে এলে সন্ধ্যা পুজো শেষ করলাম।
![]()
|
|---|
এরপর বেশ কিছুটা সময় টিভি চালিয়ে কিছু ভিডিও, কিছু সিনেমার clip দেখে অনেকটা সময় কাটালাম। শুভ বাড়িতে ঢোকার আগে আমাকে জানালো একেবারে রাজার সঙ্গে দেখা করে বাড়িতে আসছে। আমি যেন রাতের ডিনার তৈরি করে ফেলি, কারণ বাড়ি এসে একেবারে খেয়ে নেবে। তাই আলাদা করে সন্ধ্যায় আর অন্য কোনো টিফিনের আয়োজন করতে হয়নি।
আমি সরাসরি রাতের জন্য রুটি বানিয়েছি এবং রুটির সাথে ডিমের একটা আলাদা রেসিপি আজ তৈরি করেছি। আগামী দিনে আমি আপনাদের সাথে রেসিপিটি শেয়ার করবো। আশাকরি আপনাদের ভালো লাগবে।
যাইহোক ডিনার শেষ করে শুভ চলে গেল উপরে আর আমিও বসলাম প্রতিদিনের মতো আপনাদের সাথে পোস্ট লেখার জন্য। এরকম ভাবে আজ একা একা একটা সুন্দর বৃষ্টিমুখর দিন কাটিয়েছি, যার গল্প আপনাদের সাথে ভাগ করে নিতে বেশ ভালো লাগলো।
আপনাদের আজকের দিনটি কেমন কাটলো তা মন্তব্যের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না। সকলে খুব ভালো থাকবেন। শুভ রাত্রি।








